ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বান্দরবানের লামায় সরই ইউনিয়নে চলছে নৈরাজ্য,নিরব সর্বমহল

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:১৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ৫৫ বার পঠিত
Print News
জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি :বান্দরবান পার্বত্য জেলাধীন লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে চরম শংকায় সময় পার করছেন উদ্যােক্তারা। একটি চিহ্নিত গ্রুপ প্রকাশ্যে দিবালোকে সন্ত্রাসী কায়দায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ফেয়ারী এগ্রো’র এর গরু, ছাগল, খামারের মাছ ও বাগানের গাছসহ ৫ কোটি টাকার অধিক মূল্যের সম্পদ লুটপাট করে নিয়েছে। শত একর বাগানের মূল্যবান গাছ কর্তন করে পাচার করায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও ফল পাচ্ছেন না বাগান মালিক। যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা পেতে ক্ষতিগ্রস্থ ও স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষ থেকে একাদিক্রমে অভিযোগ অনুযোগ করে ব্যার্থ হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী মহলের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে উল্টো বাগান মালিক কর্মচারীসহ প্রতিবাদকারীদের চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে মিথ্যারোপ করে চলছে। ফেয়ারী এগ্রো’র বাগানটিতে স্থানীয় বেকার দরিদ্র পীড়িত শত মানুষ শ্রম বিনিয়োগ করে পরিবারের ভরন পোষন করছেন। ফজিয়া ইসলাম নামের একজন নারী উদ্যােক্তা সেখানে ক্রয়সূত্রে ভূমির মালিক হয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয়ে ও কায়িক পরিশ্রমে ধীরে ধীরে বাগান সৃজন, মৎস্য চাষ, এগ্রো বেইজ উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। বাগানটিতে শতাধিক কর্মচারী নিয়মিত কাজ করছে। স্থানীয় জনসাধারন এই কৃষি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপকারভোগী হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে। বিগত জুলাই-আগষ্ট/২০২৪ বিপ্লবের পর একটি সুযোগ সন্ধানী সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ফেয়ারী এগ্রো’র বাগানে লুটপাটের তান্ডব চালায়। চিহ্নিত এইসব লুটপাটকারীগণ খামারের ২ শ্ টি উন্নত জাতের গরু, যার আনুমানিক মূল্য দেড় কোটি টাকা, মৎস্য বাঁধ কেটে মাছ, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা, কয়েকশত ছাগল, যার আনুমানিক মূল্য ১০ লক্ষ টাকা, হাঁস, মুরগি, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। লুটপাটকারীগণ এই এগ্রো’র বাগানে প্রায় ২০০ শত একর জায়গার মূল্যবান গাছ কর্তন করে নিয়ে গেছে। তারা কেনো এই নৈরাজ্য চালাচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাচ্ছে না। প্রতিদিন বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দিয়ে গাছ কর্তন করে গাড়িযোগে সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। বর্তমানেও গাছ কর্তন করে পাচার অব্যাহত রেখেছে। এদিকে লুটপাটকারীরা ফেয়ারী এগ্রো’ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পাহারাদার ও অন্যান্য কর্মচারীগণকে বাগান এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে বাগানের কর্মচারীগণ চরম ভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। এই সকল লুটপাটকারীরা বর্তমান অন্তবর্তী সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য এই লুটপাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মর্মে বাগান শ্রমিক ও মালিক পক্ষ মনে করেন। লুটপাটকারীরা নিজে ও পাহাড়ের উগ্র সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় ফেয়ারী এগ্রো’র জায়গার উপর জোরপূর্বক প্রায় অর্ধশত ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে ভূমি জবর দখলের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন পর এসব ঘর দখল বেদখল নিয়ে আরেকটি পাহাড়ি বাঙালি নতুন ইস্যু সৃষ্টি করে  সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ফেয়ারী এগ্রো’র বাগান লুটপাটের বিষয়ে লামা থানাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে বার বার অভিযোগ দায়ের ও যোগাযোগ করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনেক কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। বাগানের ম্যানেজার আব্দুল কাদের জানান, অজ্ঞাত কারণে পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ফেয়ারী এগ্রো’র বাগানে লুটপাটের বিষয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যার কারণে অপরাধীচক্র দ্বিগুন উৎসাহে প্রতিদিন ফেয়ারী এগ্রো’র জায়গায় বিদ্যমান অবশিষ্ট গাছ কর্তন করে পাচারে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। প্রতিদিন এবং রাতে ট্রাকযোগে বাগানের গাছ লুটপাটকারীরা কর্তন করে নিয়ে যাচ্ছে। বাগান মালিক ও কর্মচারীরা অসহায়ের মতো বাগানের গাছ কর্তনের লুটপাটের দৃশ্য অবলোকন করছে। বাগানে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী জানান, এই লুটপাটকারীরা হচ্ছে,  পাইসাশ্রু, পিতা- অজ্ঞাত, ২। শেখ আহাম্মদ গুন্নু, পিতা- আব্দুল করিম, ৩। শফিক (৩০), পিতা- মোঃ ইসমাইল, উভয়সাং- দেরাজ মিয়া পাড়া, ০৬নং ওয়ার্ড, ৪। হায়দার আলী (৫০), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- পুইট্যা ঝিরি, ০৬নং ওয়ার্ড, ৫। মোহাম্মদ আজম (৩৫), পিতা- অলু মিয়া, ৬। দেলোয়ার (৫৫), পিতা- অজ্ঞাত, ৭। জগদীশ (৪০), পিতা- অজ্ঞাত, ৮। মোঃ গিয়াস উদ্দিন (৩০), পিতা- অলু মিয়া, সর্বসাং- দেরাজ মিয়া পাড়া, ০৬নং ওয়ার্ড, ৯। জনি ত্রিপুরা (৩০), পিতা- অজ্ঞাত, ১০। রনি ত্রিপুরা (৩২), পিতা- অজ্ঞাত, ১১। শতিমান ত্রিপুরা (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, ১২। চন্দ্রমনি ত্রিপুরা (৩৩), পিতা- অজ্ঞাত, ১৩। শদুচন্দ্র ত্রিপুরা (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, ১৪। অবৈদ্য ত্রিপুরা (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, ১৫। কোরবান আলী, পিতা- অজ্ঞাত, ১৬। নাছির উদ্দিন, ইউপি সদস্য, ০৫নং সরই ইউ,পি, ১৭। ফিরোজ, পিতা- অজ্ঞাত, ১৮। মাহমুদুল (৪৫), পিতা- আব্দুল করিম, কোরবান আলী, পিতা অজ্ঞাত, সর্বসাং- টংগ ঝিরি পাড়া, ০৮নং ওয়ার্ড, সর্ব ০৫নং সরই ইউনিয়ন, ৩০৩নং ডলুছড়ি মৌজা, থানা- লামা, বান্দরবান পার্বত্য জেলাসহ আরও অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তি।এসব লুটপাটকারীরা ফেয়ারী এগ্রো’র বাগানে সন্ত্রাসী কায়দায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা বলে বেড়াচ্ছে, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রনে। বাগানের কেয়ার টেকার প্রধান কাদের আরো জানান, ‘এই সকল লুটপাট ও গাছ কাটার বিষয়ে প্রতিটি মুহুর্তে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ, কেয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, লামা বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে যাচ্ছি। লিখিত ভাবে থানায় এজাহার দায়ের করেছি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, লামা থানার অফিসার ইনচার্জ আমাদের এজাহারের বিষয়ে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা না করায় অপরাধী চক্রের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।এই পরিস্থিতিতে ফেয়ারী এগ্রো’ বাগান এলাকায় চলমান গাছ কাটা লুটপাট বন্ধ ও সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদানের দাবি করছি। এসব বিষয়ে লামা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহদাত হোসেন জানান, ‘পুলিশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। বাগান উজাড়ের বিষয়টি বন বিভাগও দেখার দায়িত্ব রয়েছে’। লামা বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের টিম সকল ধরনের বন উজাড়ের বিরুদ্ধে তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতে বড় ধরনের সঙ্ঘাত এড়ানোর লক্ষে বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা ও পরিবেশবাদীরা গুরুত্বসহকারে নজরে আনা দরকার।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

বান্দরবানের লামায় সরই ইউনিয়নে চলছে নৈরাজ্য,নিরব সর্বমহল

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:১৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৫
Print News
জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি :বান্দরবান পার্বত্য জেলাধীন লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে চরম শংকায় সময় পার করছেন উদ্যােক্তারা। একটি চিহ্নিত গ্রুপ প্রকাশ্যে দিবালোকে সন্ত্রাসী কায়দায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ফেয়ারী এগ্রো’র এর গরু, ছাগল, খামারের মাছ ও বাগানের গাছসহ ৫ কোটি টাকার অধিক মূল্যের সম্পদ লুটপাট করে নিয়েছে। শত একর বাগানের মূল্যবান গাছ কর্তন করে পাচার করায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও ফল পাচ্ছেন না বাগান মালিক। যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা পেতে ক্ষতিগ্রস্থ ও স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষ থেকে একাদিক্রমে অভিযোগ অনুযোগ করে ব্যার্থ হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী মহলের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে উল্টো বাগান মালিক কর্মচারীসহ প্রতিবাদকারীদের চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে মিথ্যারোপ করে চলছে। ফেয়ারী এগ্রো’র বাগানটিতে স্থানীয় বেকার দরিদ্র পীড়িত শত মানুষ শ্রম বিনিয়োগ করে পরিবারের ভরন পোষন করছেন। ফজিয়া ইসলাম নামের একজন নারী উদ্যােক্তা সেখানে ক্রয়সূত্রে ভূমির মালিক হয়ে প্রচুর অর্থ ব্যয়ে ও কায়িক পরিশ্রমে ধীরে ধীরে বাগান সৃজন, মৎস্য চাষ, এগ্রো বেইজ উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। বাগানটিতে শতাধিক কর্মচারী নিয়মিত কাজ করছে। স্থানীয় জনসাধারন এই কৃষি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপকারভোগী হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে। বিগত জুলাই-আগষ্ট/২০২৪ বিপ্লবের পর একটি সুযোগ সন্ধানী সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ফেয়ারী এগ্রো’র বাগানে লুটপাটের তান্ডব চালায়। চিহ্নিত এইসব লুটপাটকারীগণ খামারের ২ শ্ টি উন্নত জাতের গরু, যার আনুমানিক মূল্য দেড় কোটি টাকা, মৎস্য বাঁধ কেটে মাছ, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা, কয়েকশত ছাগল, যার আনুমানিক মূল্য ১০ লক্ষ টাকা, হাঁস, মুরগি, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। লুটপাটকারীগণ এই এগ্রো’র বাগানে প্রায় ২০০ শত একর জায়গার মূল্যবান গাছ কর্তন করে নিয়ে গেছে। তারা কেনো এই নৈরাজ্য চালাচ্ছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাচ্ছে না। প্রতিদিন বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দিয়ে গাছ কর্তন করে গাড়িযোগে সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। বর্তমানেও গাছ কর্তন করে পাচার অব্যাহত রেখেছে। এদিকে লুটপাটকারীরা ফেয়ারী এগ্রো’ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পাহারাদার ও অন্যান্য কর্মচারীগণকে বাগান এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে বাগানের কর্মচারীগণ চরম ভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। এই সকল লুটপাটকারীরা বর্তমান অন্তবর্তী সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য এই লুটপাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মর্মে বাগান শ্রমিক ও মালিক পক্ষ মনে করেন। লুটপাটকারীরা নিজে ও পাহাড়ের উগ্র সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় ফেয়ারী এগ্রো’র জায়গার উপর জোরপূর্বক প্রায় অর্ধশত ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে ভূমি জবর দখলের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন পর এসব ঘর দখল বেদখল নিয়ে আরেকটি পাহাড়ি বাঙালি নতুন ইস্যু সৃষ্টি করে  সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ফেয়ারী এগ্রো’র বাগান লুটপাটের বিষয়ে লামা থানাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে বার বার অভিযোগ দায়ের ও যোগাযোগ করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনেক কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। বাগানের ম্যানেজার আব্দুল কাদের জানান, অজ্ঞাত কারণে পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের ফেয়ারী এগ্রো’র বাগানে লুটপাটের বিষয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যার কারণে অপরাধীচক্র দ্বিগুন উৎসাহে প্রতিদিন ফেয়ারী এগ্রো’র জায়গায় বিদ্যমান অবশিষ্ট গাছ কর্তন করে পাচারে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। প্রতিদিন এবং রাতে ট্রাকযোগে বাগানের গাছ লুটপাটকারীরা কর্তন করে নিয়ে যাচ্ছে। বাগান মালিক ও কর্মচারীরা অসহায়ের মতো বাগানের গাছ কর্তনের লুটপাটের দৃশ্য অবলোকন করছে। বাগানে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারী জানান, এই লুটপাটকারীরা হচ্ছে,  পাইসাশ্রু, পিতা- অজ্ঞাত, ২। শেখ আহাম্মদ গুন্নু, পিতা- আব্দুল করিম, ৩। শফিক (৩০), পিতা- মোঃ ইসমাইল, উভয়সাং- দেরাজ মিয়া পাড়া, ০৬নং ওয়ার্ড, ৪। হায়দার আলী (৫০), পিতা- অজ্ঞাত, সাং- পুইট্যা ঝিরি, ০৬নং ওয়ার্ড, ৫। মোহাম্মদ আজম (৩৫), পিতা- অলু মিয়া, ৬। দেলোয়ার (৫৫), পিতা- অজ্ঞাত, ৭। জগদীশ (৪০), পিতা- অজ্ঞাত, ৮। মোঃ গিয়াস উদ্দিন (৩০), পিতা- অলু মিয়া, সর্বসাং- দেরাজ মিয়া পাড়া, ০৬নং ওয়ার্ড, ৯। জনি ত্রিপুরা (৩০), পিতা- অজ্ঞাত, ১০। রনি ত্রিপুরা (৩২), পিতা- অজ্ঞাত, ১১। শতিমান ত্রিপুরা (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, ১২। চন্দ্রমনি ত্রিপুরা (৩৩), পিতা- অজ্ঞাত, ১৩। শদুচন্দ্র ত্রিপুরা (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, ১৪। অবৈদ্য ত্রিপুরা (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, ১৫। কোরবান আলী, পিতা- অজ্ঞাত, ১৬। নাছির উদ্দিন, ইউপি সদস্য, ০৫নং সরই ইউ,পি, ১৭। ফিরোজ, পিতা- অজ্ঞাত, ১৮। মাহমুদুল (৪৫), পিতা- আব্দুল করিম, কোরবান আলী, পিতা অজ্ঞাত, সর্বসাং- টংগ ঝিরি পাড়া, ০৮নং ওয়ার্ড, সর্ব ০৫নং সরই ইউনিয়ন, ৩০৩নং ডলুছড়ি মৌজা, থানা- লামা, বান্দরবান পার্বত্য জেলাসহ আরও অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তি।এসব লুটপাটকারীরা ফেয়ারী এগ্রো’র বাগানে সন্ত্রাসী কায়দায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা বলে বেড়াচ্ছে, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রনে। বাগানের কেয়ার টেকার প্রধান কাদের আরো জানান, ‘এই সকল লুটপাট ও গাছ কাটার বিষয়ে প্রতিটি মুহুর্তে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ, কেয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, লামা বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে যাচ্ছি। লিখিত ভাবে থানায় এজাহার দায়ের করেছি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, লামা থানার অফিসার ইনচার্জ আমাদের এজাহারের বিষয়ে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা না করায় অপরাধী চক্রের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।এই পরিস্থিতিতে ফেয়ারী এগ্রো’ বাগান এলাকায় চলমান গাছ কাটা লুটপাট বন্ধ ও সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদানের দাবি করছি। এসব বিষয়ে লামা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহদাত হোসেন জানান, ‘পুলিশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। বাগান উজাড়ের বিষয়টি বন বিভাগও দেখার দায়িত্ব রয়েছে’। লামা বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের টিম সকল ধরনের বন উজাড়ের বিরুদ্ধে তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতে বড় ধরনের সঙ্ঘাত এড়ানোর লক্ষে বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা ও পরিবেশবাদীরা গুরুত্বসহকারে নজরে আনা দরকার।