ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
মায়ের চেয়ে ২৬ বছর, বাবার চেয়ে ৫ বছরের বড় মেয়ে! সিলেটে এনআইডি জালিয়াতিতে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিনিধি
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
- / ১১২ বার পঠিত

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে সরকারি বয়স্ক ভাতা উত্তোলনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বেটুয়ার মুখ গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাহানারা বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৫ মার্চ ১৯৪২ সাল। অথচ তার প্রয়াত পিতা চাঁন মিয়ার এনআইডিতে জন্ম তারিখ ১০ অক্টোবর ১৯৪৭ এবং মাতা আনোয়ারা বেগমের এনআইডিতে জন্ম তারিখ ২০ মার্চ ১৯৬৮ লিপিবদ্ধ আছে। এই তথ্যানুযায়ী, জাহানারা বেগম তার বাবার চেয়ে ৫ বছর এবং মায়ের চেয়ে ২৬ বছর বয়সে বড়, যা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ও জন্ম নিবন্ধনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
অভিযোগ উঠেছে যে, এই অস্বাভাবিক ও মিথ্যা তথ্য সম্বলিত এনআইডি ব্যবহার করে জাহানারা বেগম সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিয়ে নিয়মিতভাবে সরকারি বয়স্ক ভাতা উত্তোলন করছেন। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, তিনি বর্তমানে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে চাকরিরত। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো চাকরিজীবী বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য নন।
গত ১২ মে স্থানীয় একজন বাসিন্দা দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহানারা বেগম জেনেশুনে বয়স বাড়িয়ে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহানারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বয়স ৮১ বছর।” তবে তার বাবার বয়সের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দায় চাপিয়ে দেন এনআইডি তৈরিকারীদের উপর। তিনি বলেন, “যারা এনআইডি করেছেন, তারাই ভুল করে আমার বয়স বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখানে আমার কোনো হাত নেই।”
অন্যদিকে, জাহানারা বেগমের মা আনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার মেয়ে জাহানারা বেগমের বয়স বড়জোর ৪৪ বা ৪৫ বছর হতে পারে। মায়ের এই বক্তব্য মেয়ের এনআইডিতে উল্লিখিত জন্মতারিখের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬২ বছর পূর্ণ না হলে বয়স্ক ভাতার আওতায় আসা যায় না। মাসিক ৬০০ টাকা হারে এই ভাতা প্রতি তিন মাস অন্তর বিতরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জাহানারা বেগম বিধিবহির্ভূতভাবে ইতোমধ্যেই কয়েক দফায় এই ভাতা উত্তোলন করেছেন।
এছাড়া, জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো, তিনি তার জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামী মোঃ হিরু মিয়াকে মৃত হিসেবে দেখিয়েছেন, যদিও তিনি জীবিত আছেন এবং তাদের স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে তিনি স্বামীর পরিচয়পত্রে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, পুরো জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ মকব্বির আলীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তিনি এই অনিয়ম সংঘটনে সহায়তা করেছেন।
এলাকার সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহল এই ন্যাক্কারজনক জালিয়াতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের প্রতারণা রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং প্রকৃত অসহায় ও যোগ্য ব্যক্তিদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।
আরও পড়ুন:


















