ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

যথাযোগ্য মর্যাদায় হাতিয়া গণহত্যা দিবস পালন

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০১ বার পঠিত

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক হাতিয়া গণহত্যা দিবস। উপজেলা প্রশাসন ও ১১ নম্বর হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৩ নভেম্বর (২৩ রমজান, শনিবার) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের দাগার কুটি গ্রামে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়।
সেদিন ভোররাতে রোজাদার ও ঘুমন্ত মানুষ সেহরি খেয়ে নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় চারদিক থেকে শুরু হয় মর্টার শেল ও গুলির বৃষ্টি। মুহূর্তেই জ্বলতে থাকে গ্রামের পর গ্রাম—বাগুয়া, অনন্তপুর, রামখানা, নয়াদাড়া, মন্ডলের হাট, নীলকণ্ঠ ও দাগার কুটি। নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রক্ষা পাননি। কেউ ধানক্ষেতে, কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ৬৯৭ জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
হানাদার বাহিনী গ্রামবাসীদের ধরে এনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরে বেয়োনেট দিয়ে ক্ষতবিক্ষত মরদেহগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। পরদিন এলাকাবাসী সেই মরদেহগুলো সংগ্রহ করে গণকবরে দাফন করেন। স্বাধীনতার পর দাগার কুটি বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেলেও পরবর্তীতে হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে নতুন করে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা। সঞ্চালনা করেন হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল বাতেন। এসময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা, জেলা কমান্ডার প্রতিনিধি নুরুজ্জামান, সাবেক কমান্ডার ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ফয়জার রহমান, এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন, কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা দল আব্দুল বাড়ি, উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. মেহেদী হাসান।
বক্তারা বলেন, “হাতিয়া গণহত্যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই গণহত্যাকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি ও স্মরণ করা উচিত।”
সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, “যুদ্ধে শহীদদের ৬৯৭ জনের নাম সংবলিত একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক স্থাপন করা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব উদ্দিন মন্ডল, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হামিদুর রহমানসহ মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

যথাযোগ্য মর্যাদায় হাতিয়া গণহত্যা দিবস পালন

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক হাতিয়া গণহত্যা দিবস। উপজেলা প্রশাসন ও ১১ নম্বর হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৩ নভেম্বর (২৩ রমজান, শনিবার) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের দাগার কুটি গ্রামে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়।
সেদিন ভোররাতে রোজাদার ও ঘুমন্ত মানুষ সেহরি খেয়ে নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় চারদিক থেকে শুরু হয় মর্টার শেল ও গুলির বৃষ্টি। মুহূর্তেই জ্বলতে থাকে গ্রামের পর গ্রাম—বাগুয়া, অনন্তপুর, রামখানা, নয়াদাড়া, মন্ডলের হাট, নীলকণ্ঠ ও দাগার কুটি। নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রক্ষা পাননি। কেউ ধানক্ষেতে, কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ৬৯৭ জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
হানাদার বাহিনী গ্রামবাসীদের ধরে এনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরে বেয়োনেট দিয়ে ক্ষতবিক্ষত মরদেহগুলো আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। পরদিন এলাকাবাসী সেই মরদেহগুলো সংগ্রহ করে গণকবরে দাফন করেন। স্বাধীনতার পর দাগার কুটি বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেলেও পরবর্তীতে হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে নতুন করে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা। সঞ্চালনা করেন হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল বাতেন। এসময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, হাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা, জেলা কমান্ডার প্রতিনিধি নুরুজ্জামান, সাবেক কমান্ডার ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ফয়জার রহমান, এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন, কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা দল আব্দুল বাড়ি, উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. মেহেদী হাসান।
বক্তারা বলেন, “হাতিয়া গণহত্যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই গণহত্যাকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি ও স্মরণ করা উচিত।”
সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, “যুদ্ধে শহীদদের ৬৯৭ জনের নাম সংবলিত একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক স্থাপন করা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব উদ্দিন মন্ডল, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হামিদুর রহমানসহ মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।