ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবসমাজ মাদকের কবলে: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

নূরুজ্জামান, পাথরঘাটা (বরগুনা)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:২৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৭ বার পঠিত

নূরুজ্জামান, পাথরঘাটা (বরগুনা):  দেশের প্রাণশক্তি যুবসমাজ আজ এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। শহর থেকে গ্রাম-সর্বত্রই মরণনেশা মাদকের নীল দংশনে নীল হয়ে যাচ্ছে তারুণ্য। হাত বাড়ালেই মিলছে সর্বনাশা ইয়াবা,গাজা, কিংবা ফেন্সিডিল। কিন্তু এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মাদকের সহজলভ্যতা ও সামাজিক অবক্ষয়:

তথ্যমতে, বর্তমানে কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়ছে। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোনোর আগেই অনেকে জড়িয়ে পড়ছে নেশার জালে। এর ফলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক অস্থিরতা এবং ছিনতাই-চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। অভিভাবকরা বলছেন, হাতের নাগালে মাদক পাওয়া যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ন্ত্রণে রাখা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকলেও মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ:

 খুচরা বিক্রেতাদের দাপট থাকায় অনেক এলাকায় চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো প্রশাসনের নাকের ডগায় চললেও সেগুলো উচ্ছেদে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেই। ছোটখাটো মাদকসেবী বা খুচরা বিক্রেতা মাঝেমধ্যে আটক হলেও মাদকের মূল যোগানদাতা বা ‘গডফাদাররা’ বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সীমান্তে কড়াকড়ি না থাকায় এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি দুর্বল হওয়ায় দেশজুড়ে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় একজন ভুক্তভোগী অভিভাবক জানান, “আমরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তবে পুরো একটি প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। শুধু মাঝেমধ্যে দু-একটি অভিযান চালিয়ে এই মহামারি বন্ধ করা সম্ভব নয়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেবল পুলিশি অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইনি প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা। একইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে যদি কোনো অসাধু সদস্য মাদক কারবারিদের মদত দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় এক যুবক মিজানুর রহমান বলেন, মাদক কেবল শরীর নষ্ট করে না, এটি অপরাধের জন্ম দেয়। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে একজন মানুষ চুরি, ছিনতাই বা আরও বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সমাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে ধাবিত হয়।

সাধারণ মানুষরা বলেন, যুবসমাজকে এই অন্ধকার থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের শিথিলতা বজায় থাকলে সমাজ এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হবে। তাই মাদকের রুট বন্ধ করা এবং রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে অনতিবিলম্বে চিরুনি অভিযানের দাবি জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

যুবসমাজ মাদকের কবলে: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:২৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নূরুজ্জামান, পাথরঘাটা (বরগুনা):  দেশের প্রাণশক্তি যুবসমাজ আজ এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। শহর থেকে গ্রাম-সর্বত্রই মরণনেশা মাদকের নীল দংশনে নীল হয়ে যাচ্ছে তারুণ্য। হাত বাড়ালেই মিলছে সর্বনাশা ইয়াবা,গাজা, কিংবা ফেন্সিডিল। কিন্তু এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মাদকের সহজলভ্যতা ও সামাজিক অবক্ষয়:

তথ্যমতে, বর্তমানে কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়ছে। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরোনোর আগেই অনেকে জড়িয়ে পড়ছে নেশার জালে। এর ফলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক অস্থিরতা এবং ছিনতাই-চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। অভিভাবকরা বলছেন, হাতের নাগালে মাদক পাওয়া যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ন্ত্রণে রাখা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকলেও মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ:

 খুচরা বিক্রেতাদের দাপট থাকায় অনেক এলাকায় চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো প্রশাসনের নাকের ডগায় চললেও সেগুলো উচ্ছেদে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেই। ছোটখাটো মাদকসেবী বা খুচরা বিক্রেতা মাঝেমধ্যে আটক হলেও মাদকের মূল যোগানদাতা বা ‘গডফাদাররা’ বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সীমান্তে কড়াকড়ি না থাকায় এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি দুর্বল হওয়ায় দেশজুড়ে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় একজন ভুক্তভোগী অভিভাবক জানান, “আমরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তবে পুরো একটি প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। শুধু মাঝেমধ্যে দু-একটি অভিযান চালিয়ে এই মহামারি বন্ধ করা সম্ভব নয়।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেবল পুলিশি অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইনি প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা। একইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে যদি কোনো অসাধু সদস্য মাদক কারবারিদের মদত দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় এক যুবক মিজানুর রহমান বলেন, মাদক কেবল শরীর নষ্ট করে না, এটি অপরাধের জন্ম দেয়। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে একজন মানুষ চুরি, ছিনতাই বা আরও বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সমাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে ধাবিত হয়।

সাধারণ মানুষরা বলেন, যুবসমাজকে এই অন্ধকার থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের শিথিলতা বজায় থাকলে সমাজ এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হবে। তাই মাদকের রুট বন্ধ করা এবং রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে অনতিবিলম্বে চিরুনি অভিযানের দাবি জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ।