ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনে ভোটগ্রহণ ঘিরে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:৩১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৬১ বার পঠিত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিভাগীয় প্রশাসন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—সে লক্ষ্যেই নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তিনি জানান, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারেন—সে লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা নাশকতার অপচেষ্টা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
রাজশাহী বিভাগের জনসংখ্যা, ভোটার ও প্রশাসনিক কাঠামো
সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার জানান, রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৮টি জেলা, ৬৭টি উপজেলা, ১টি সিটি কর্পোরেশন, ৬২টি পৌরসভা এবং ৫৬৫টি ইউনিয়ন। প্রায় ১৮ হাজার ১৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিভাগে বসবাস করেন আনুমানিক ২ কোটি ৩ লাখ মানুষ।
এ বিভাগের চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। ভোটগ্রহণের জন্য রাজশাহী বিভাগে মোট ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ৫ হাজার ২৮৭টি।
এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানানো হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপত্তা বাহিনীর বড় মোতায়েন
নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভাগে মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
মোতায়েন বাহিনীগুলোর সদস্যসংখ্যা নিম্নরূপ—
সেনাবাহিনী: ১০ হাজার সদস্য
বিজিবি: ৪ হাজার ১২৩ জন
রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ: ১৩ হাজার ৭৯৬ জন
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ: ২ হাজার ৪০৫ জন
র‍্যাব: ১ হাজার ৬ জন
আনসার: ৭২ হাজার ৭৩৬ জন
বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সংসদীয় আসনে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৬৬৮ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি: সিসিটিভি ও বডি ওর্ন ক্যামেরা
নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ রাখতে প্রযুক্তিগত নজরদারিও জোরদার করা হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, রাজশাহী বিভাগের ৫ হাজার ২৬৬টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য ২ হাজার ৩১৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বেশি থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, মোবাইল টহল এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিমও সক্রিয় রাখা হবে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন।
কঠোর বার্তা: সহিংসতা ও নাশকতা দমনে জিরো টলারেন্স
সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কেউ যদি সহিংসতা, নাশকতা বা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করে—তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিভাগীয় প্রশাসন আরও জানিয়েছে, নির্বাচনের দিন ভোটারদের যাতায়াত, কেন্দ্রের নিরাপত্তা, ব্যালট ও নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহন, ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল প্রেরণসহ প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনে ভোটগ্রহণ ঘিরে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:৩১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিভাগীয় প্রশাসন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—সে লক্ষ্যেই নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনারের সংবাদ সম্মেলন
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তিনি জানান, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারেন—সে লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা নাশকতার অপচেষ্টা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
রাজশাহী বিভাগের জনসংখ্যা, ভোটার ও প্রশাসনিক কাঠামো
সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার জানান, রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৮টি জেলা, ৬৭টি উপজেলা, ১টি সিটি কর্পোরেশন, ৬২টি পৌরসভা এবং ৫৬৫টি ইউনিয়ন। প্রায় ১৮ হাজার ১৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিভাগে বসবাস করেন আনুমানিক ২ কোটি ৩ লাখ মানুষ।
এ বিভাগের চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। ভোটগ্রহণের জন্য রাজশাহী বিভাগে মোট ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ৫ হাজার ২৮৭টি।
এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানানো হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপত্তা বাহিনীর বড় মোতায়েন
নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভাগে মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
মোতায়েন বাহিনীগুলোর সদস্যসংখ্যা নিম্নরূপ—
সেনাবাহিনী: ১০ হাজার সদস্য
বিজিবি: ৪ হাজার ১২৩ জন
রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ: ১৩ হাজার ৭৯৬ জন
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ: ২ হাজার ৪০৫ জন
র‍্যাব: ১ হাজার ৬ জন
আনসার: ৭২ হাজার ৭৩৬ জন
বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সংসদীয় আসনে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৬৬৮ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি: সিসিটিভি ও বডি ওর্ন ক্যামেরা
নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ রাখতে প্রযুক্তিগত নজরদারিও জোরদার করা হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, রাজশাহী বিভাগের ৫ হাজার ২৬৬টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য ২ হাজার ৩১৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বেশি থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, মোবাইল টহল এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিমও সক্রিয় রাখা হবে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন।
কঠোর বার্তা: সহিংসতা ও নাশকতা দমনে জিরো টলারেন্স
সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কেউ যদি সহিংসতা, নাশকতা বা অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করে—তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিভাগীয় প্রশাসন আরও জানিয়েছে, নির্বাচনের দিন ভোটারদের যাতায়াত, কেন্দ্রের নিরাপত্তা, ব্যালট ও নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহন, ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল প্রেরণসহ প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।