ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তদন্তে নতুন অগ্রগতি

রানা প্রতাপ হত্যা মামলায় সাদ্দাম আটক

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬২ বার পঠিত
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর: যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় আলোচিত বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এ মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি সাদ্দাম মন্ডলকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার ফয়লা বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক সাদ্দাম মন্ডল খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার পিপরাইল জামিরা গ্রামের বাসিন্দা। সে ওই গ্রামের নাজের মন্ডলের ছেলে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, রানা প্রতাপ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তদন্তে গতি বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবস্থান ও গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সাদ্দাম মন্ডলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়।
ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান বলেন,
“রানা প্রতাপ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে আমরা শুরু থেকেই তৎপর ছিলাম। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, সাদ্দাম মন্ডল সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরপর বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে রামপাল এলাকা থেকে আটক করা হয়।”
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে আটক সাদ্দাম মন্ডলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার প্রকৃত রহস্য, হত্যার পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে একাধিক ব্যক্তি অংশ নেয়। ঘটনার আগে ও পরে অভিযুক্তদের যোগাযোগ, চলাচল এবং অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি রাতে মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজার এলাকায় একটি ক্লিনিকের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, চরমপন্থী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। নিহত রানা প্রতাপ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ব্যবসা করছিলেন এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
এই মামলায় এর আগে মিজানুর রহমান নামে আরেকজন সন্দেহভাজন আসামিকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, রানা প্রতাপ হত্যার বিচার দাবিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত মামলার চার্জশিট প্রদান ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

তদন্তে নতুন অগ্রগতি

রানা প্রতাপ হত্যা মামলায় সাদ্দাম আটক

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর: যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় আলোচিত বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এ মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি সাদ্দাম মন্ডলকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার ফয়লা বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক সাদ্দাম মন্ডল খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার পিপরাইল জামিরা গ্রামের বাসিন্দা। সে ওই গ্রামের নাজের মন্ডলের ছেলে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, রানা প্রতাপ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তদন্তে গতি বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবস্থান ও গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সাদ্দাম মন্ডলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়।
ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান বলেন,
“রানা প্রতাপ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে আমরা শুরু থেকেই তৎপর ছিলাম। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, সাদ্দাম মন্ডল সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরপর বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে রামপাল এলাকা থেকে আটক করা হয়।”
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে আটক সাদ্দাম মন্ডলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার প্রকৃত রহস্য, হত্যার পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে একাধিক ব্যক্তি অংশ নেয়। ঘটনার আগে ও পরে অভিযুক্তদের যোগাযোগ, চলাচল এবং অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি রাতে মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজার এলাকায় একটি ক্লিনিকের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, চরমপন্থী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। নিহত রানা প্রতাপ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ব্যবসা করছিলেন এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
এই মামলায় এর আগে মিজানুর রহমান নামে আরেকজন সন্দেহভাজন আসামিকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, রানা প্রতাপ হত্যার বিচার দাবিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত মামলার চার্জশিট প্রদান ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।