ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

‎শাজাহানপুরের মাঠে মাঠে আগাম ফুলকপিতে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন

‎

‎আব্দুল হান্নান শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
‎
‎খরিপ-২ মৌসুমে বগুড়ার শাজাহানপুরে আগাম জাতের ফুলকপি চাষে কৃষকদের আগ্রহ তুলনামূলক বেড়েছে। মৌসুমের শুরুতেই জমিতে ফুলকপি আবাদ করে ভালো ফলন ও তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রির আশায় আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম ফুলকপি চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন অনেক প্রান্তিক কৃষক।
‎
‎উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শাজাহানপুরে প্রায় ৮ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। উপজেলার আড়িয়া, মাঝিড়া ও চোপিনগর ইউনিয়নসহ বেশ কিছু এলাকায় আগাম ফুলকপি চাষ হচ্ছে। এই মৌসুমে উপজেলায় চাষ হচ্ছে আইসবল, মারইয়াম-১, রত্ন, সামার হোয়াইট, কিরণ ও আর্লিসান জাতের ফুলকপি।
‎
‎কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটি, পানি নিষ্কাশনের সুবিধা, পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ এবং ৬ থেকে ৭ পিএইচ ফুলকপি চাষের জন্য উপযোগী। রোদযুক্ত ও আলো-বাতাস চলাচল করে এমন জমি নির্বাচন করা ভালো। অতিরিক্ত এঁটেল মাটিতে গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই উঁচু বেডে চাষ করলে পানি দ্রুত নেমে গিয়ে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।
‎
‎উপজেলার মানিকদিপা গ্রামের কৃষক আবু তালেব বর্ষা মৌসুমের আষাঢ় মাসের শুরুতে ১ বিঘা ২৪ শতক জমিতে আগাম আইসবল জাতের ফুলকপির চারা রোপণ করেন। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ, নিড়ানি ও রোগবালাই দমনসহ নিয়মিত পরিচর্যার পর তার জমিতে ফলন আসতে শুরু করে। ইতোমধ্যে তিনি বাজারে ফুলকপি বিক্রিও শুরু করেছেন।
‎
‎কৃষক আবু তালেব বলেন, আগাম আইসবল জাতের প্রতি হাজার চারা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে কিনে জমিতে রোপণ করি। জমি প্রস্তুত, চারা, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত ১ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩ লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছি। জমিতে থাকা অবশিষ্ট ফুলকপি দাম ভালো পেলে আরও দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন এই কৃষক।
‎
‎কৃষক নজরুল ইসলাম ১৯ শতক জমিতে আগাম আইসবল জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন। বাজারদর ভালো থাকলে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা ব্যক্ত করছেন তিনি।
‎
‎এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উজ্জ্বল হোসেন ১৩৩ শতক, মাসুম ৫০ শতক, আবু বক্কর ৪৫ শতক, রাজু মিয়া ৪০ শতক, শাজাহান আলী ৩৬ শতক, শাহীন আলম ৩৩ শতক, মাহমুদ আলী ৩৩ শতক এবং মোকছেদ আলী ২২ শতক জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। অনেক কৃষক একই জমিতে ফুলকপির সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে লাউ, শিম, বরবটি, কালাই, শসা ও ঝিঙা চাষ করছেন। এতে একই জমি থেকে অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান চাষীরা।
‎
‎এদিকে কৃষকেরা বলেন, ফুলকপি চাষে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জমি প্রস্তুত, জাত নির্বাচন, সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা সময়মত পাচ্ছেন না অনেক কৃষক। এতে চাষের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি ভালো ফলনের দুশ্চিন্তাও করছেন বেশ কিছু কৃষকেরা।
‎
‎উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা দিপ্তী রানী রায় বলেন, ভালো দাম ও স্থানীয় বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকরা আগাম ফুলকপি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগাম ফুলকপি লাভজনক হওয়ায় কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছে।
‎
‎এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, উন্নত জাত নির্বাচন, সঠিক সময়ে চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যায় আগাম ফুলকপির ভালো ফলন সম্ভব। সার, সেচ ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি রোগ-পোকার আক্রমণে নিজে থেকে কীটনাশক ব্যবহার না করে কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
13 October 2026

হোমনায় আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপন

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com

‎শাজাহানপুরের মাঠে মাঠে আগাম ফুলকপিতে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৭:৩১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

‎

‎আব্দুল হান্নান শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
‎
‎খরিপ-২ মৌসুমে বগুড়ার শাজাহানপুরে আগাম জাতের ফুলকপি চাষে কৃষকদের আগ্রহ তুলনামূলক বেড়েছে। মৌসুমের শুরুতেই জমিতে ফুলকপি আবাদ করে ভালো ফলন ও তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রির আশায় আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম ফুলকপি চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন অনেক প্রান্তিক কৃষক।
‎
‎উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শাজাহানপুরে প্রায় ৮ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। উপজেলার আড়িয়া, মাঝিড়া ও চোপিনগর ইউনিয়নসহ বেশ কিছু এলাকায় আগাম ফুলকপি চাষ হচ্ছে। এই মৌসুমে উপজেলায় চাষ হচ্ছে আইসবল, মারইয়াম-১, রত্ন, সামার হোয়াইট, কিরণ ও আর্লিসান জাতের ফুলকপি।
‎
‎কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটি, পানি নিষ্কাশনের সুবিধা, পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ এবং ৬ থেকে ৭ পিএইচ ফুলকপি চাষের জন্য উপযোগী। রোদযুক্ত ও আলো-বাতাস চলাচল করে এমন জমি নির্বাচন করা ভালো। অতিরিক্ত এঁটেল মাটিতে গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই উঁচু বেডে চাষ করলে পানি দ্রুত নেমে গিয়ে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।
‎
‎উপজেলার মানিকদিপা গ্রামের কৃষক আবু তালেব বর্ষা মৌসুমের আষাঢ় মাসের শুরুতে ১ বিঘা ২৪ শতক জমিতে আগাম আইসবল জাতের ফুলকপির চারা রোপণ করেন। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ, নিড়ানি ও রোগবালাই দমনসহ নিয়মিত পরিচর্যার পর তার জমিতে ফলন আসতে শুরু করে। ইতোমধ্যে তিনি বাজারে ফুলকপি বিক্রিও শুরু করেছেন।
‎
‎কৃষক আবু তালেব বলেন, আগাম আইসবল জাতের প্রতি হাজার চারা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে কিনে জমিতে রোপণ করি। জমি প্রস্তুত, চারা, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত ১ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩ লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছি। জমিতে থাকা অবশিষ্ট ফুলকপি দাম ভালো পেলে আরও দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন এই কৃষক।
‎
‎কৃষক নজরুল ইসলাম ১৯ শতক জমিতে আগাম আইসবল জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন। বাজারদর ভালো থাকলে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা ব্যক্ত করছেন তিনি।
‎
‎এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উজ্জ্বল হোসেন ১৩৩ শতক, মাসুম ৫০ শতক, আবু বক্কর ৪৫ শতক, রাজু মিয়া ৪০ শতক, শাজাহান আলী ৩৬ শতক, শাহীন আলম ৩৩ শতক, মাহমুদ আলী ৩৩ শতক এবং মোকছেদ আলী ২২ শতক জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। অনেক কৃষক একই জমিতে ফুলকপির সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে লাউ, শিম, বরবটি, কালাই, শসা ও ঝিঙা চাষ করছেন। এতে একই জমি থেকে অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান চাষীরা।
‎
‎এদিকে কৃষকেরা বলেন, ফুলকপি চাষে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জমি প্রস্তুত, জাত নির্বাচন, সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা সময়মত পাচ্ছেন না অনেক কৃষক। এতে চাষের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি ভালো ফলনের দুশ্চিন্তাও করছেন বেশ কিছু কৃষকেরা।
‎
‎উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা দিপ্তী রানী রায় বলেন, ভালো দাম ও স্থানীয় বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকরা আগাম ফুলকপি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগাম ফুলকপি লাভজনক হওয়ায় কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছে।
‎
‎এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, উন্নত জাত নির্বাচন, সঠিক সময়ে চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যায় আগাম ফুলকপির ভালো ফলন সম্ভব। সার, সেচ ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি রোগ-পোকার আক্রমণে নিজে থেকে কীটনাশক ব্যবহার না করে কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Share this news as a Photo Card