
আব্দুল হান্নান শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শাজাহানপুরে রাতের আঁধারে একের পর এক বৈদ্যুতিক সেচ ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বগুড়ার শাজাহানপুরের কৃষকেরা। একই কৃষকের সেচযন্ত্রের তিনটি ট্রান্সফরমার তিন মাসের ব্যবধানে চুরি হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বারবার চুরির শিকার হলেও এখনো কোনো প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গতকাল (১অক্টোবর) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের কচুয়াহদ গ্রামে মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে আব্দুল বাসেদ মণ্ডলের একটি সেচযন্ত্রের ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এর প্রায় তিন মাস আগে একই কৃষকের দুটি সেচ মেশিনের দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। ওই ঘটনায় চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
পরে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ অফিস থেকে নতুন ট্রান্সফরমার কিনে সেচ কার্যক্রম চালু করেন আব্দুল বাসেদ। কিন্তু আবারও ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় ফসলি জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগকারী বৈদ্যুতিক মিস্ত্রিদের মধ্যে কারও কারও সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আবার কয়েকজনের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সম্প্রতি উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের চাঁদবাড়িয়া গ্রামে সাংবাদিক মিজানুর রহমানের পুকুর ও ফসলি জমিতে সেচ কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক পাম্পের ট্রান্সফরমারও চুরি হয়েছে। ওই ঘটনারও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে জানা গেছে।
কৃষকরা জানান, শাজাহানপুরের বিভিন্ন এলাকায় সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বাড়তে থাকায় বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। চোরের হাত থেকে ট্রান্সফরমার রক্ষা করতে অনেক কৃষককে রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয়রা সেচ সুবিধা সচল রাখতে দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে চুরি হয়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের চুরি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 










