ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
শারদীয় মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হলো দুর্গোৎসব !

খুলনা ব্যুরো
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৭৩ বার পঠিত

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো :: সারা বছরের অধীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হলো সনাতনীদের সর্ববৃহ ধর্মীয় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।শরতের শিশির সিক্ত দুর্বাঘাসে নিঘুর প্রাতের মঙ্গলময় ক্ষণে মৃত্তিকার বুকে ঝরা শিউলি ফুলের গালিচার আব রণে মা দেবী ঊমাকে ভক্তদের ভক্তি বিজড়িত হৃদয়ের আহবানে ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার পঞ্জিকার তিথিলগ্ন অনুযায়ী সকাল ৮ টা ২ মিনিটে কল্পারম্ভ এবং বোধন আমন্ত্রণ মঙ্গলাচরণ ঘট স্থাপন অধিবাস। পৌরাণিক শাস্ত্র মতে মনে করা হয় মাতৃপক্ষ ষষ্ঠী তিথিতেই মা দুর্গা কৈলাস থেকে মর্ত্যলোকে পদার্পণ করেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন চার সন্তান লক্ষ্মী গণেশ কার্তিক ও সরস্বতীকে।ষষ্ঠী তিথিতেই ঢাকের বাদ্যির সাহায্যে মা দুর্গা ও তার সন্তানদের স্বাগত জানানো হয়। তাছাড়া মা দুর্গার মুখের আবারণ উন্মোচন করাটাই এই দিনের প্রধান কাজ। তাই এই সকল আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের মানুষদের বছরের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। যা আগামী ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দশমী পূজা দর্পণ ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।এ লক্ষ্যে সকাল থেকেই বিভিন্ন পূজা মন্ডপে ভক্তগণ নানাবিধ ভোগ ও পুষ্পার্ঘ নিয়ে মা দেবী দুর্গার ষষ্ঠী পূজার উদ্দেশ্যে আসন নিবেদনের লক্ষ্যে পবিত্র মনে দেবী দুর্গার শ্রীচরণে এসে সংসার তথা সন্তানাদিদের মঙ্গল কামনার্থে দুঃখ কষ্ট নিবারণ এর আর্তী জানাতে আজকের এই ষষ্ঠীর শুভক্ষণে মন্দির প্রাঙ্গণে এসে হাজির হয়েছেন, ধর্মীয় পুরাণে কথিত আছে যে দুর্গা শব্দের অর্থ হচ্ছে দুর্গতিনাশিনী দুঃখ-কষ্ট নিবারণ কারিনী তিনি হচ্ছে দেবী দুর্গা। তাই শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ করে মায়েরা তাদের পুত্র সন্তানদের ভবিষ্যৎ মঙ্গল কামনা আয়ুবৃদ্ধি শারীরিক নিরোগের আর্তি জানাতে মহাষষ্ঠী পূজার উপবাস থাকার পৌরাণিক রীতি রয়েছে।তাই সকালে মন্দিরের পুরোহিতগণ মন্ত্রাদি পাঠ করে মায়ের উদ্দেশ্যে ভোগাদি নিবেদন করেন সাথে ক্ষণে ক্ষণে ঢাকের বাদ্যি কাসর শঙ্খ উলুধ্বনি ও ধুপ ধুনোর মৌময় ঘ্রাণের মুখরতায় মন্দির প্রাঙ্গণ যেন এক স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে উঠেছে।মহামায়ার আগমনীতে সকল অশুভ শক্তির নাশ এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে দেবী দুর্গাকে দুর্গতিনাশিনী বলা হয়।মহিষাসুরের অসুর বাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন তাকে মহিষাসুরমোদিনী বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও মহা সমারহের সাথে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাছাড়া খুলনা জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, এ বছর খুলনা মহানগরীতে ১৩৫ টি এবং জেলার নয়টি উপজেলা ও দুইটি পৌরসভায় মোট ৯৮১ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।পাশাপাশি খুলনা প্রশাসন মহল থেকে প্রতিটি পূজা মন্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও কঠোর নজরদারির মধ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিয়োজিত রয়েছে।৫ দিনব্যাপী প্রতিটি মন্দিরে পূজা অর্চণা সন্ধ্যা আরতি ধর্মীয় আলোচনা ও প্রসাদ বিতরণ করা হবে। মন্দির প্রাঙ্গণে দর্শকদের ভিড় পরিলক্ষিত হবে। ইতোমধ্য প্রতিমা তৈরি ও মন্দিরের সাজসজ্জা কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই দুর্গাপূজার তাৎপর্যয় উল্লেখ রয়েছে পুরাকালের মহিষাসুর নামে এক অসুর ব্রহ্মাদেবের তপস্যা করে বরপ্রাপ্ত হন যেন তাকে কেউ যুদ্ধে পরাজিত করতে না পারে।তবে কোনো একজন নারীর হাতে তার মৃত্যু হবে। তখন থেকে ব্রহ্মার বরে বলিয়ান হয়ে মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ আক্রমণ করেন। দেবরাজ ইন্দ্রের কাছ থেকে স্বর্গরাজ্য দখল করেন। মহিষাসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে সকল দেবতাগণ ভগবান শ্রীবিষ্ণুর শরণাপন্ন হন।তখন শ্রীবিষ্ণু ও শিব দেবতাদের মুখে মহিষাসুরের অত্যাচারের বর্ণনা শুনে ক্রোধাম্বিত হন এবং তাদের তেজদীপ্ত ক্রোধে আবির্ভূত হলেন দশভূজা শ্রী শ্রী দুর্গা দেবী। তেজোময়ী দেবীকে দেবতারা একে একে তাদের অস্ত্র দিয়ে সাজিয়ে তুললেন রণরঙ্গিনীর মূর্তিতে।মহাদেব দিলেন তার ত্রিসুল, বিষ্ণু দিলেন সুদর্শন চক্র, দেবরাজ ইন্দ্র দিলেন বজ্র, যমরাজ দিলেন কাল দন্ড, পবন দেব দিলেন ধনুক, ও বামন পূর্ণ তৃণ, বরুণ দেব দিলেন শঙ্খ,হিমালয় পর্বত দিলেন বাহনরূপে একটি সিংহ, দেবী দুর্গা দেবতাদের অস্ত্র অলংকারে সজ্জিত হয়ে রণভূমিতে উপস্থিত হলেন মহিষাসুরের অসুর বাহিনীকে দেবী দুর্গা পরাজিত করলেন। অবশেষে মহিষাসুর নিজেই আসলেন যুদ্ধ।সেই যুদ্ধে দেবী দুর্গা মহিষাসুর কে ত্রিশূল দিয়ে বিদ্ধ করলেন। মৃত মুখে মহিষাসুর মা দুর্গা দেবীর কাছে বর প্রার্থনা করেন যেন শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর সঙ্গে তার যেন পূজা হয় ।কিন্তু শ্রী শ্রী দুর্গা দেবী মহিষাসুরকে বলেন পূজা দেবতাদের জন্য তোর জন্য নয়। তবে এমর্ত্যবাসী তোর পূজা করবে। তবে দেবতা জ্ঞানে নয় অসুর জ্ঞানে। আর তখন থেকেই অকালবোধনী দুর্গতিনাশিনী দুঃখ-কষ্ট নিবারণকারী ভক্ত পরিত্রাণ রূপিণী মা দেবী দুর্গার পূজা হয়ে আসছে। আগামীকাল ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার মহাসপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন:















