ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষকের প্রতারনায় ২০-শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় বিক্ষোভ

গাউছ-উর রহমান, মাদারীপুর প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৩ বার পঠিত
গাউছ-উর রহমান, মাদারীপুর প্রতিনিধি:   মাদারীপুরে শিক্ষকের প্রতারনায় ২০ শিক্ষার্থী এসএসসি  পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না পারায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষক ও অফিস সহকারীর প্রতারনায় ২০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণে অতিরিক্ত  টাকা দেওয়ার পরও এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে তারা চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না।
সোমবার সকালে এসব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ বিদ্যালয়ে মাঠে  টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শস্তির দাবি করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। নির্বাচনী পরীক্ষায় একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল ও অফিস সহকারী নুর আলম তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেন। এ সময় নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার পরও তারা প্রবেশপত্র পায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ২০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম ফিল-আপের নামে কয়েক লক্ষ্য টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল ও অফিস সহকারী নূরে আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেতু, আবৃত্তি, আনিয়া, স্বর্ণা লিয়নসহ কয়েকজন বলেন, “আমরা অকৃতকার্য হলেও আমাদের কৃতকার্য দেখিয়ে ফরম ফিল-আপের নামে টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন এসে শুনছি আমাদের এডমিট কার্ড আসেনি এবং পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারছি না। আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”
আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী—আয়শা, লাবিবা, শান্তা ও শামীম—অভিযোগ করে বলেন, “শিক্ষকদের কাছ থেকে আমরা শিক্ষা নিব, কিন্তু তারাই আমাদের সাথে প্রতারণা করেছেন।  আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
একাধিক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল বলেন, বিষয়টি ভুল হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। অফিস সহকারী নূরে আলমও বলেন, প্রয়োজন হলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বোরহান খান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে  পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

শিক্ষকের প্রতারনায় ২০-শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় বিক্ষোভ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
গাউছ-উর রহমান, মাদারীপুর প্রতিনিধি:   মাদারীপুরে শিক্ষকের প্রতারনায় ২০ শিক্ষার্থী এসএসসি  পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না পারায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষক ও অফিস সহকারীর প্রতারনায় ২০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণে অতিরিক্ত  টাকা দেওয়ার পরও এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে তারা চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না।
সোমবার সকালে এসব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ বিদ্যালয়ে মাঠে  টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শস্তির দাবি করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। নির্বাচনী পরীক্ষায় একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল ও অফিস সহকারী নুর আলম তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেন। এ সময় নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার পরও তারা প্রবেশপত্র পায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ২০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম ফিল-আপের নামে কয়েক লক্ষ্য টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল ও অফিস সহকারী নূরে আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেতু, আবৃত্তি, আনিয়া, স্বর্ণা লিয়নসহ কয়েকজন বলেন, “আমরা অকৃতকার্য হলেও আমাদের কৃতকার্য দেখিয়ে ফরম ফিল-আপের নামে টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন এসে শুনছি আমাদের এডমিট কার্ড আসেনি এবং পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারছি না। আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”
আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী—আয়শা, লাবিবা, শান্তা ও শামীম—অভিযোগ করে বলেন, “শিক্ষকদের কাছ থেকে আমরা শিক্ষা নিব, কিন্তু তারাই আমাদের সাথে প্রতারণা করেছেন।  আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
একাধিক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল বলেন, বিষয়টি ভুল হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। অফিস সহকারী নূরে আলমও বলেন, প্রয়োজন হলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বোরহান খান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বলেন, অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে  পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”