সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল স্লোগানে কুবিসাসের এক যুগে গৌরবময় যাত্রা

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪
- / ১৩০ বার পঠিত

সাব্বির হোসেন
“সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস) যাত্রা শুরু করে। আজ, এক দশক পেরিয়ে এই সংগঠনটি নানা বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদেরপক্ষে কথা বলার আয়না হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তরুণ সাংবাদিকদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একটি নাম।
প্রতিষ্টালগ্ন সময়ে, কয়েকজন উদ্যমী শিক্ষার্থীর প্রচেষ্টায় কুবিসাস প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় আগ্রহী এই শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছিলেন, সংবাদ প্রকাশের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক দিনগুলো ছিল চ্যালেঞ্জপূর্ণ। সীমিত সম্পদ ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি সত্ত্বেও কুবিসাস তার মেধাবী সদস্যদের নিষ্ঠা ও একাগ্রতায় এগিয়ে গেছে।
কুবিসাসের সদস্যরা ক্যাম্পাস জীবনের প্রতিটি দিক ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি দেশের গণমাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই সংগঠনের রিপোর্টগুলো শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট ও সমাধান নয়; বরং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, এবং স্থানীয় জনগণের জীবনঘনিষ্ঠ গল্প তুলে ধরে।কুবিসাস প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, সেশনজট এবং প্রশাসনিক জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যার ওপর ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে সমস্যাগুলো প্রশাসনের নজরে নিয়ে আসা এবং তা সমাধানের পথ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুবিসাসের ভূমিকা ছিল অনন্য। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সংগঠনটির সাংবাদিকরা শুধু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেই থেমে থাকেনি, বরং সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষকে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছিল। এটি সেইসময় শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল এবং তাদের অধিকারের জন্য নির্ভীকভাবে লড়াই করেছে।
সংবাদ সংগ্রহের সময় কুবিসাসের সদস্যদের প্রায়ই হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়। বিশেষত, দুর্নীতি, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় বিভিন্ন মহল তাদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে। তবে কুবিসাসের সদস্যরা সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন।নতুন সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কুবিসাস আয়োজন করে নিয়মিত কর্মশালা, সেমিনার এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়। এই কার্যক্রমগুলোর মাধ্যমে সদস্যরা লেখার কৌশল, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং সত্য প্রতিষ্ঠার মৌলিক জ্ঞান অর্জন করেন।
এক দশকের যাত্রায় কুবিসাস বহু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। আর্থিক সংকট, চাপ, এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি তাদের পথচলায় বাধা সৃষ্টি করলেও প্রতিবারই সংকল্প ও একতার মাধ্যমে এগিয়ে গিয়েছে। এরুপ সংকল্পই এই সংগঠনটিকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও আধুনিক সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ এবং গবেষণামূলক কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, সংগঠনটি প্রযুক্তি-নির্ভর মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতায় সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
এক দশকের যাত্রা শেষে কুবিসাস আজ তরুণদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। এ সংগঠনের প্রতিটি সদস্য সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে এক নতুন নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করে চলেছে।এই গৌরবযাত্রা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে নতুন প্রজন্মের ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের হাত ধরে বলে মনে করেন সংগঠনটির সদস্যরা।






















