ঢাকা, বাংলাদেশ। , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমন্বয়কদের তোপের  মুখে বিলুপ্ত হলো খুলনা ক্লাবের সাবেক কমিটি!

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • / ৯৯ বার পঠিত

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুর

খুলনা ছাত্র সমন্বয়কদের তোপের মুখে ৩ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনারের নিকট সাবেক ১১ সদস্য কার্যনির্বাহী কমিটি পদত্যাগের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এর আগে খুলনা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমন্বয়করা সংঘবদ্ধভাবে খুলনা ক্লাবের সামনে এসে শ্লোগানের মাধ্যমে সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে  ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার গণহত্যাকারী হাসিনা সরকারের দোসর এবং শেখ সোহেলের ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যক্তি দ্বারা খুলনা ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল বিধায় তাদের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে নিয়ে হাসিনা দোসরদের অনতিবিলম্বে ওই মুহূর্তে পদত্যাগে বাধ্য করতে স্লোগান দিতে থাকে  ছাত্র সমন্বয়করা। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের খুলনায় ক্লাবের বাইরে রেখে  ক্লাবের  ভিতরে প্রবেশ করে সাবে কমিটির চেয়ারম্যান গালিব কাবাডিয়াকে একের পর এক প্রশ্নর মুখে এবং তাকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোষর হিসেবে আখ্যায়িত করে   সাবেক ১১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিকভাবে ৩ সদস্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও ডাঃ মোস্তফা কামালের নিকট সাবেক  কমিটির ১১ জনই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তী কালীন কমিটির নিকট  দায়িত্ব প্রদান করেন। দায়িত্ব হস্তান্তর কালে সাবেক সভাপতি গালি কাবাডিয়া বলেন আমরা সাবেক পরিচালনা কার্যনির্বাহী কমিটির ১১ জন সদস্যই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম, এবং আজ থেকে আমরা ১১ জন সদস্যই খুলনা ক্লাবের সাধারণ সদস্য পদ থেকেও নাম খারিজ করলাম। এ সময় ছাত্র সমন্বয়করা বলেন সারা দেশব্যাপী ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পদত্যাগ করে দেশ থেকে পলায়ন করলেও দেশের বিশেষ বিশেষ কিছু স্থান  আগ্রাসন দখল করে বসেছিল তারই দোষোর বাহিনীরা।

তার মধ্য অন্যতম বিলাসবহুল খুলনার ধনুকূপদের বিলাসিতার আড্ডা স্থল খুলনা ক্লাব। যদিও গত ৫ আগস্টের পর দেশের মানচিত্র থেকে আওয়ামী সংগঠন তথা তার পুইপুনা সহ  স্বমূলে নিশ্চিহ্ন হয়েছে জানলেও আজ ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেলের পছন্দের ব্যক্তি দ্বারা বহাল তবিয়তে পরিচালনা করে আসছিল খুলনা ক্লাবের সাবেক কমিটি। এ সময় সমন্বয়কদের মধ্যে বেশ কয়েকজন উল্লেখ করে বলেন এই খুলনা ক্লাবে প্রতিনিয়ত মাদক ও জুয়ার আড্ডাবসে এটা সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য কোন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নয়, এটা বন্ধ থাকলে জনগণের ক্ষতি হবে এমন কিছু নয়। তাই যতদিন পর্যন্ত স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদি হাসিনার দোসরদের গন্ধ এখানে বিচরণ করবে প্রয়োজনে ততদিন ক্লাবটি বন্ধ ঘোষণা করা হবে। সমন্বয়করা আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যও যদি সরকারের দোসরদের কোন আভাস পাওয়া যায় তাৎক্ষণিকভাবে সে কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হবে।

অতএব আজ এই মুহূর্ত  থেকে খুলনা ক্লাবের ১১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির সবাই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। পরবর্তী কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত তিন সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি  ডা: মোস্তফা কামালকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ক্লাবে অবস্থান নেয়ার পর এ দায়িত্ব হস্তান্তরিত হয়। এবং ক্লাবের পরবর্তী কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রকৌশলী মশিউর জামানের  নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও ডাঃ মোস্তফা কামাল অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর মশিউজ্জামান বলেন দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এ সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

সমন্বয়কদের তোপের  মুখে বিলুপ্ত হলো খুলনা ক্লাবের সাবেক কমিটি!

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুর

খুলনা ছাত্র সমন্বয়কদের তোপের মুখে ৩ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনারের নিকট সাবেক ১১ সদস্য কার্যনির্বাহী কমিটি পদত্যাগের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এর আগে খুলনা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমন্বয়করা সংঘবদ্ধভাবে খুলনা ক্লাবের সামনে এসে শ্লোগানের মাধ্যমে সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে  ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার গণহত্যাকারী হাসিনা সরকারের দোসর এবং শেখ সোহেলের ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যক্তি দ্বারা খুলনা ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল বিধায় তাদের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে নিয়ে হাসিনা দোসরদের অনতিবিলম্বে ওই মুহূর্তে পদত্যাগে বাধ্য করতে স্লোগান দিতে থাকে  ছাত্র সমন্বয়করা। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের খুলনায় ক্লাবের বাইরে রেখে  ক্লাবের  ভিতরে প্রবেশ করে সাবে কমিটির চেয়ারম্যান গালিব কাবাডিয়াকে একের পর এক প্রশ্নর মুখে এবং তাকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোষর হিসেবে আখ্যায়িত করে   সাবেক ১১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিকভাবে ৩ সদস্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও ডাঃ মোস্তফা কামালের নিকট সাবেক  কমিটির ১১ জনই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তী কালীন কমিটির নিকট  দায়িত্ব প্রদান করেন। দায়িত্ব হস্তান্তর কালে সাবেক সভাপতি গালি কাবাডিয়া বলেন আমরা সাবেক পরিচালনা কার্যনির্বাহী কমিটির ১১ জন সদস্যই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম, এবং আজ থেকে আমরা ১১ জন সদস্যই খুলনা ক্লাবের সাধারণ সদস্য পদ থেকেও নাম খারিজ করলাম। এ সময় ছাত্র সমন্বয়করা বলেন সারা দেশব্যাপী ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পদত্যাগ করে দেশ থেকে পলায়ন করলেও দেশের বিশেষ বিশেষ কিছু স্থান  আগ্রাসন দখল করে বসেছিল তারই দোষোর বাহিনীরা।

তার মধ্য অন্যতম বিলাসবহুল খুলনার ধনুকূপদের বিলাসিতার আড্ডা স্থল খুলনা ক্লাব। যদিও গত ৫ আগস্টের পর দেশের মানচিত্র থেকে আওয়ামী সংগঠন তথা তার পুইপুনা সহ  স্বমূলে নিশ্চিহ্ন হয়েছে জানলেও আজ ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেলের পছন্দের ব্যক্তি দ্বারা বহাল তবিয়তে পরিচালনা করে আসছিল খুলনা ক্লাবের সাবেক কমিটি। এ সময় সমন্বয়কদের মধ্যে বেশ কয়েকজন উল্লেখ করে বলেন এই খুলনা ক্লাবে প্রতিনিয়ত মাদক ও জুয়ার আড্ডাবসে এটা সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য কোন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নয়, এটা বন্ধ থাকলে জনগণের ক্ষতি হবে এমন কিছু নয়। তাই যতদিন পর্যন্ত স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদি হাসিনার দোসরদের গন্ধ এখানে বিচরণ করবে প্রয়োজনে ততদিন ক্লাবটি বন্ধ ঘোষণা করা হবে। সমন্বয়করা আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যও যদি সরকারের দোসরদের কোন আভাস পাওয়া যায় তাৎক্ষণিকভাবে সে কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হবে।

অতএব আজ এই মুহূর্ত  থেকে খুলনা ক্লাবের ১১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির সবাই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। পরবর্তী কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত তিন সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি  ডা: মোস্তফা কামালকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ক্লাবে অবস্থান নেয়ার পর এ দায়িত্ব হস্তান্তরিত হয়। এবং ক্লাবের পরবর্তী কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রকৌশলী মশিউর জামানের  নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও ডাঃ মোস্তফা কামাল অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর মশিউজ্জামান বলেন দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এ সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।