
মোঃ মজনু মিয়া,গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৪০ হাজার টাকায় বাবার বিক্রি করা ১৪ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির মা খালেদা বেগম পোশাক শ্রমিকের কাজ করতে ঢাকায় থাকায় তাকে সুন্দরগঞ্জে খালার বাড়িতে রাখা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বুধবার ভোররাতে সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ তাকে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
উদ্ধার হওয়া শিশু আদিবা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরিতাবাড়ী এলাকার খালেদা বেগম ও আজাহার আলী দম্পতির সন্তান। চার মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর জীবিকার তাগিদে মেয়েকে খালার জিম্মায় রেখে ঢাকায় পোশাক শ্রমিকের কাজ করতে যান খালেদা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটির বাবা আজাহার আলী জু/য়া ও মা দ/কে আ স/ক্ত। মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে গত ১ অক্টোবর তিনি খালার কাছ থেকে বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে আদিবাকে নিয়ে যান। কয়েক দিনেও ফেরত দেননি। পরে শিশুটির মা ও খালার পরিবার জানতে পারেন, নোটারি পাবলিকে খালেদা বেগমকে মিথ্যাভাবে ‘মৃ/ত’ দেখিয়ে এফিডেভিট করেছেন আজাহার। এরপর সাদুল্লাপুরের পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রামের রুহুল আমীনের পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধার ও আইনগত সহায়তা চেয়ে ২৭ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন খালেদা বেগম। পরদিন বুধবার ভোররাতে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে।
ওসি একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, সুন্দরগঞ্জ থানার একটি অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল ভোররাতে বিক্রি হওয়া শিশুটিকে নলডাঙ্গা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে দিনভর বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হয়েছে। সন্ধ্যায় শিশুটিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে!

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 











