ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
সোনাতলায় গৃহবধূ মমতার রহস্যজনক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

হারুন অর রশিদ, সোনাতলা (বগুড়া):
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:০৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
- / ৬৭ বার পঠিত

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় স্বামীর লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মমতা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মনির হোসেন বাদী হয়ে স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে সোনাতলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরিবার ও এলাকাবাসী এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, প্রায় ২০ বছর আগে সোনাতলার মোহাব্বতের পাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের সঙ্গে মমতার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে জন্ম নেয় তিনটি ছেলে সন্তান। কিন্তু সুখের সংসারের বদলে মমতা বেগম বিয়ের পর থেকেই স্বামী আব্দুল মজিদ ও তার পরিবারের সদস্যদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন।
গত ২৫ জুন পারিবারিক কলহের জেরে মজিদ মমতাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে না নিয়ে, স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিলেও তা মানা হয়নি। এক পর্যায়ে মৃত্যু ঘটে মমতার।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যায় ভাই মনির হোসেন ছুটে এসে দেখতে পান, তার বোন আর জীবিত নেই। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরদিন ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
২৬ জুন নিহতের ভাই মনির হোসেন বাদী হয়ে স্বামী আব্দুল মজিদ, শ্বশুর নাজিম শেখ, দেবর মজনু শেখ ও প্রতিবেশী আজিজার শেখের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
মমতার সন্তান মাসুদ (৭) সাংবাদিকদের বলেন, “আমার বাবা মায়ের গলা টিপে ধরছিলো, বুকে-পিঠে মারছিলো। আমার বাবাই মাকে মেরে ফেলেছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, আব্দুল মজিদের আগেও একটি স্ত্রী ছিল। সেই স্ত্রীকে তালাক দিয়ে মমতাকে বিয়ে করেন তিনি। আগের স্ত্রীর কাছে যাওয়া এবং ফেরার পর মমতার উপর প্রায়শই পাশবিক নির্যাতন চালাতেন মজিদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মমতার মৃত্যু একটি পরিকল্পিত হত্যা। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শুরুতে ‘স্ট্রোক’ বলে প্রচার চালানো হয়। কিন্তু শিশুসন্তানের বক্তব্য এবং স্থানীয়দের অভ্যন্তরীণ তথ্য মিলে এটিকে ‘স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড’ বলে মনে করছেন তারা।
সোনাতলা থানার ওসি মিলাদুন নবী বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
মমতা বেগমের মৃত্যুতে তার পিত্রালয় ও শ্বশুরবাড়ি এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তানদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। পরিবার ও এলাকাবাসী সরকারের কাছে দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
আরও পড়ুন:


















