ঢাকা, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

ডিমলায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বিরুদ্ধে টাস্ক ফোর্সের অভিযান

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:   নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ১৬ টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ৪টি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ৩টি রৌহদশু,১২টি প্লেন সিটের তৈরি লোহার ডালি এবং ৬টি বেলচা

জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালগুলো পরবর্তীতে বার্ণিঘাট বিওপির জিম্মায় রাখা হয়েছে।টাস্কফোর্সের এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.ইমরানুজ্জামান, রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর মেজর জুলকার নাঈন এবং ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির।
অভিযানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায়
বিজিবির ৬২ জন সদস্য এবং বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল দায়িত্ব পালন করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সমন্বিত সহযোগিতায় অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীর বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে পাথর ও অন্যান্য বালু-পাথরজাতীয় সম্পদ উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, তীরবর্তী এলাকা এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি
গ্রহণ করা হয়েছে। নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও নৌযানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন না করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। এক সঙ্গে কেউ অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বা এ কাজে সহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

তিস্তা নদী রক্ষা এবং নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রশাসনের এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, অবৈধ পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা হলে নদী রক্ষায় কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব হবে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়

ফেলে দেওয়া ছোট্ট প্লাস্টিক, বড় বিপদের কারণ

23 September 2026

রূপগঞ্জের সিরাজগঞ্জ ফিনিশিং মিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কাপড়ের গোডাউন পুড়ে ছাই গোডাউন

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

ডিমলায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বিরুদ্ধে টাস্ক ফোর্সের অভিযান

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০২:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:   নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ১৬ টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ৪টি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ৩টি রৌহদশু,১২টি প্লেন সিটের তৈরি লোহার ডালি এবং ৬টি বেলচা

জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালগুলো পরবর্তীতে বার্ণিঘাট বিওপির জিম্মায় রাখা হয়েছে।টাস্কফোর্সের এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.ইমরানুজ্জামান, রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর মেজর জুলকার নাঈন এবং ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির।
অভিযানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায়
বিজিবির ৬২ জন সদস্য এবং বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল দায়িত্ব পালন করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সমন্বিত সহযোগিতায় অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীর বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে পাথর ও অন্যান্য বালু-পাথরজাতীয় সম্পদ উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, তীরবর্তী এলাকা এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি
গ্রহণ করা হয়েছে। নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও নৌযানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন না করতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। এক সঙ্গে কেউ অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বা এ কাজে সহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

তিস্তা নদী রক্ষা এবং নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রশাসনের এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, অবৈধ পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা হলে নদী রক্ষায় কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব হবে।

Share this news as a Photo Card