
শ.ম.গফুর, কক্সবাজার: কক্সবাজার জেলা একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা।এমন মন্তব্য করে পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেছেন, অপরাধ দমন এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অন্যায় বা অপরাধের সঙ্গে আপস করা হবে না।তিনি বলেন, কক্সবাজারে দায়িত্ব গ্রহণের আগে জেলায় হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল উদ্বেগজনক। তবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করছে এবং এ সময়ে মাত্র দুইটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদকবিরোধী অভিযানেও ব্যাপক তৎপরতা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ইয়াবা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগে যে পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল, তার তুলনায় দায়িত্ব গ্রহণের পর উদ্ধার অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন।
বুধবার বিকেলে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি হলে অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।আবেগঘন বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “আমি কক্সবাজারের আলো-বাতাসে বেঁচে আছি। কক্সবাজারের মানুষের টাকায় বেতন পাই। সেই অর্থ দিয়েই আমার ছেলে-মেয়ে ও পরিবার-পরিজনের মুখে খাবার তুলে দিই। তাই কোনো হারাম বা অন্যায়ের সঙ্গে আমি জড়িত হতে পারি না।তিনি আরও বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের করের টাকায় বেতন নিয়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, “আমি যদি অন্যায় ও অপরাধের সঙ্গে আপস করি, তাহলে মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ব পালনের কোনো অধিকার থাকে না। তাই কোনো অপরাধী, অন্যায়কারী কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি কম্প্রোমাইজ করতে পারব না।তিনি কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তিনি বলেন, মানুষের কষ্ট লাঘবে থানাসমুহকে দালালমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এতে করে কে কি বলল তাতে কিছু আসে যায় না।পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।তিনি বলেন, গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ৯০টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। অথচ তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর এ পর্যন্ত মাত্র দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ওই সময়ে ৫ লাখ ইয়াবা উদ্ধার হলেও তাঁর সময়ে ৩৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের চাপ, প্রভাব কিংবা অপপ্রচারের কাছে তিনি মাথানত করবেন না।
তিনি বলেন, “আপনারা মনে রাখবেন, আমি জুলাই আন্দোলনের ফসল। যারা আমাকে দুর্বল ভাবছেন কিংবা আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই—আমি সরল, কিন্তু সহজ নই।পুলিশ সুপার বলেন, শুধু পুলিশের পক্ষে অপরাধ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। সমাজের সচেতন মানুষ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।সুধী সমাবেশে কক্সবাজারকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

শ.ম.গফুর, কক্সবাজার 



















