ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

৬-আদালতে তিন বিচারক, দিন দিন বাড়ছে মামলার জট

বিপ্লব সাহা, খুলনা:   দীর্ঘদিন ধরে বিচারক সংকটে খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
গত এক মাসের অধিক সময় ধরে ৬টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মধ্যে তিনটিতে রয়েছে বিচারক শূন্য। ওই ছয় আদালতের ১৯ হাজার ৪৬টি মামলা তিন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে প্রতিটি আদালতে ৬ হাজার বিচার কার্য চালানো হচ্ছে। এতে একদিকে বিচারকার্য চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিচারকরা। অন্যদিকে বিচার প্রার্থীরা মামলার বিচার পেতে দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হচ্ছেন।
খুলনা সিএমএম আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিলো ১৯ হাজার ৪৬টি। এছাড়া প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন থানা হতে নতুন করে মামলা আসছে। এতে বাড়ছে মামলার সংখ্যা। তবে গুরুত্বপূর্ণ ২ হাজার ৫৬২টি মামলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে প্রেরণ করা হয়। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪২৬টি মামলা।

সিএমএম আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তপন কুমার সাহা বলেন, খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ৬টি আদালত রয়েছে। গত এক মাসের অধিক সময় ধরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ আর দু’জন মেট্রোপলিটন বিচারকের বদলিজনিত কারণে বিচারালয় শূন্য রয়েছে। আদালতগুলোতে মামলার সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজারের বেশি।

এসব মামলা মাত্র তিনজন বিচারকের পক্ষে সামাল দেওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির প্রবীণ সদস্য আঃ মালেক বলেন, আদালতে বিচারক সংকট থাকলে বাদী ও বিবাদী উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বাদী মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ যথা সময়ে দিতে পারেন না। অপরদিকে আসামিরা দীর্ঘদিন আদালতের বারান্দায় ঘোরাফেরা করলে তাদের আর্থিক ও সময় উভয়ের ক্ষতি হয়। বিচারকের শূন্য আসন দ্রুত পূরণ করার জন্য রাষ্ট্র প্রধানের কাছে তিনি অনুরোধ করেন।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী এ্যাড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। মামলা তদন্তের সময়টা অনেক বেশি হয়ে যায়। সময় সাপেক্ষ হওয়ায় মামলা ট্রাইয়েলে আসতে সময় লেগে যায়।

চার্জ গঠনের পর সাক্ষীদের মধ্যে অনীহা সৃষ্টি হয় এবং তারা আদালতকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। আসামি প্রভাবশালী হলে তারা বাদী ও সাক্ষীকে কনভিন্স করে তাদের আদালতে আসতে দেয় না। পরে তারা নিজেদের মতো করে আসামিদের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করতে থাকে। মামলার সংখ্যা অনেক বেশি কিন্তু খুলনার আদালত পাড়ায় বেশিরভাগ আদালতের বিচারক শূন্য। এটা বিভিন্ন সময়ে চলমান থাকে উদাহরণ হিসেবে তিনি আরও বলেন, আজকে দুইজন বিচারক যোগদান করলে পরের দিন দুইজন অন্যত্র বদলি হয়ে যান।

এ ধরনের আসা ও যাওয়ার প্রক্রিয়ার কারণে আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়। বিচারকের সংখ্যার তুলনায় আদালতের কক্ষ অনেক কম। তিনি আরও বলেন, শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনাল একই আদালতে দুইজন বিচারক বসেন। আদালত ভবনে এজলাসের সংখ্যা কম। রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি এজলাসের সংখ্যা যদি বাড়ানো না হয় তাহলে চাঞ্চল্যকর মামলা
গুলো দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়বে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

সহকারী জজ আদালত সাদুল্লাপুরে ১০-মাস বিচারক নেই: স্থবির ৪ হাজার মামলা

14 September 2026

কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময়

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

৬-আদালতে তিন বিচারক, দিন দিন বাড়ছে মামলার জট

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৩:৫১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিপ্লব সাহা, খুলনা:   দীর্ঘদিন ধরে বিচারক সংকটে খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
গত এক মাসের অধিক সময় ধরে ৬টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মধ্যে তিনটিতে রয়েছে বিচারক শূন্য। ওই ছয় আদালতের ১৯ হাজার ৪৬টি মামলা তিন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ফলে প্রতিটি আদালতে ৬ হাজার বিচার কার্য চালানো হচ্ছে। এতে একদিকে বিচারকার্য চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিচারকরা। অন্যদিকে বিচার প্রার্থীরা মামলার বিচার পেতে দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হচ্ছেন।
খুলনা সিএমএম আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিলো ১৯ হাজার ৪৬টি। এছাড়া প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন থানা হতে নতুন করে মামলা আসছে। এতে বাড়ছে মামলার সংখ্যা। তবে গুরুত্বপূর্ণ ২ হাজার ৫৬২টি মামলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে প্রেরণ করা হয়। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪২৬টি মামলা।

সিএমএম আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তপন কুমার সাহা বলেন, খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ৬টি আদালত রয়েছে। গত এক মাসের অধিক সময় ধরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ আর দু’জন মেট্রোপলিটন বিচারকের বদলিজনিত কারণে বিচারালয় শূন্য রয়েছে। আদালতগুলোতে মামলার সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজারের বেশি।

এসব মামলা মাত্র তিনজন বিচারকের পক্ষে সামাল দেওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির প্রবীণ সদস্য আঃ মালেক বলেন, আদালতে বিচারক সংকট থাকলে বাদী ও বিবাদী উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বাদী মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ যথা সময়ে দিতে পারেন না। অপরদিকে আসামিরা দীর্ঘদিন আদালতের বারান্দায় ঘোরাফেরা করলে তাদের আর্থিক ও সময় উভয়ের ক্ষতি হয়। বিচারকের শূন্য আসন দ্রুত পূরণ করার জন্য রাষ্ট্র প্রধানের কাছে তিনি অনুরোধ করেন।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী এ্যাড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। মামলা তদন্তের সময়টা অনেক বেশি হয়ে যায়। সময় সাপেক্ষ হওয়ায় মামলা ট্রাইয়েলে আসতে সময় লেগে যায়।

চার্জ গঠনের পর সাক্ষীদের মধ্যে অনীহা সৃষ্টি হয় এবং তারা আদালতকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। আসামি প্রভাবশালী হলে তারা বাদী ও সাক্ষীকে কনভিন্স করে তাদের আদালতে আসতে দেয় না। পরে তারা নিজেদের মতো করে আসামিদের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করতে থাকে। মামলার সংখ্যা অনেক বেশি কিন্তু খুলনার আদালত পাড়ায় বেশিরভাগ আদালতের বিচারক শূন্য। এটা বিভিন্ন সময়ে চলমান থাকে উদাহরণ হিসেবে তিনি আরও বলেন, আজকে দুইজন বিচারক যোগদান করলে পরের দিন দুইজন অন্যত্র বদলি হয়ে যান।

এ ধরনের আসা ও যাওয়ার প্রক্রিয়ার কারণে আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়। বিচারকের সংখ্যার তুলনায় আদালতের কক্ষ অনেক কম। তিনি আরও বলেন, শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনাল একই আদালতে দুইজন বিচারক বসেন। আদালত ভবনে এজলাসের সংখ্যা কম। রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি এজলাসের সংখ্যা যদি বাড়ানো না হয় তাহলে চাঞ্চল্যকর মামলা
গুলো দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়বে।

Share this news as a Photo Card