ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিকের সংবাদ সম্মেলন

‘অপপ্রচার ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি কর্তৃপক্ষের

শাহজাহান খন্দকার, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৭৭ বার পঠিত

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: video;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: null;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: off;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 41;

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ২টায় ক্লিনিকের নিজস্ব সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২০ অক্টোবর ক্লিনিকে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ক্লিনিকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।
বক্তব্যে বলা হয়, উক্ত দিনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ক্লিনিকে দুটি সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়, যেখানে মা ও নবজাতক সবাই সুস্থ ছিলেন। এরপর মিথিলা মনি নামে এক রোগী প্রসব ব্যথা নিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হন। ডিউটিরত চিকিৎসা সহকারী ও নার্স রোগীকে পরীক্ষা করে জানান, রোগীর প্রসব বাধাগ্রস্ত (Obstructed Labour) এবং গর্ভস্থ শিশুর হার্টবিট বেশি পাওয়া যাচ্ছে। রোগীর মানসিক ও শারীরিক অবস্থা দুর্বল থাকায় দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে রোগীর আত্মীয়স্বজন সিজারিয়ান না করে স্বাভাবিক প্রসবের পক্ষে মত দেন। পরিবারের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক প্রসবের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইপিসিওটমি (Episiotomy) পদ্ধতির মাধ্যমে নার্স প্রসব সম্পন্ন করেন।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানান, দীর্ঘ সময় প্রসব ব্যথা থাকার কারণে গর্ভস্থ শিশুটি পেটে অসুস্থ হয়ে পড়ে (Foetal Distress)। নবজাতককে রিসাসিটেশন, অক্সিজেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েড প্রয়োগের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, “প্রসবের সময় কাটাছেঁড়া” বিষয়ে যে অপপ্রচার চলছে তা বিভ্রান্তিকর ও চিকিৎসা-বিজ্ঞানের পরিপন্থী। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রসবের সময় শিশুর মাথা আটকে গেলে প্রসবদ্বারের পাশে পেরিনিয়াম অংশে ৫ বা ৭টার অবস্থানে ছোট করে কেটে দেওয়া হয়, যাকে ইপিসিওটমি বলা হয়। এটি না করলে গুরুতর জটিলতা যেমন পেরিনিয়াল টিয়ার বা ভেসিকোভেজাইনাল ফিস্টুলা হতে পারে, যা পরবর্তীতে ব্যয়বহুল ও জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানান, ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার গত ২৫ বছর ধরে উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাট উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জন্য নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। উলিপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের সেবার তুলনায় সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এককভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বেসরকারি ক্লিনিকগুলো জনগণের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলেন, আমরা চিকিৎসা নীতিমালা ও মানবিকতার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছি। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে— আমরা তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উলিপুর প্রেসক্লাব, উপজেলা প্রেসক্লাব উলিপুর, এবং উলিপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর সকল সাংবাদিকবৃন্দ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিকের সংবাদ সম্মেলন

‘অপপ্রচার ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি কর্তৃপক্ষের

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ২টায় ক্লিনিকের নিজস্ব সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২০ অক্টোবর ক্লিনিকে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ক্লিনিকের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।
বক্তব্যে বলা হয়, উক্ত দিনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ক্লিনিকে দুটি সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়, যেখানে মা ও নবজাতক সবাই সুস্থ ছিলেন। এরপর মিথিলা মনি নামে এক রোগী প্রসব ব্যথা নিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হন। ডিউটিরত চিকিৎসা সহকারী ও নার্স রোগীকে পরীক্ষা করে জানান, রোগীর প্রসব বাধাগ্রস্ত (Obstructed Labour) এবং গর্ভস্থ শিশুর হার্টবিট বেশি পাওয়া যাচ্ছে। রোগীর মানসিক ও শারীরিক অবস্থা দুর্বল থাকায় দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে রোগীর আত্মীয়স্বজন সিজারিয়ান না করে স্বাভাবিক প্রসবের পক্ষে মত দেন। পরিবারের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক প্রসবের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইপিসিওটমি (Episiotomy) পদ্ধতির মাধ্যমে নার্স প্রসব সম্পন্ন করেন।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানান, দীর্ঘ সময় প্রসব ব্যথা থাকার কারণে গর্ভস্থ শিশুটি পেটে অসুস্থ হয়ে পড়ে (Foetal Distress)। নবজাতককে রিসাসিটেশন, অক্সিজেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েড প্রয়োগের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, “প্রসবের সময় কাটাছেঁড়া” বিষয়ে যে অপপ্রচার চলছে তা বিভ্রান্তিকর ও চিকিৎসা-বিজ্ঞানের পরিপন্থী। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রসবের সময় শিশুর মাথা আটকে গেলে প্রসবদ্বারের পাশে পেরিনিয়াম অংশে ৫ বা ৭টার অবস্থানে ছোট করে কেটে দেওয়া হয়, যাকে ইপিসিওটমি বলা হয়। এটি না করলে গুরুতর জটিলতা যেমন পেরিনিয়াল টিয়ার বা ভেসিকোভেজাইনাল ফিস্টুলা হতে পারে, যা পরবর্তীতে ব্যয়বহুল ও জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানান, ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার গত ২৫ বছর ধরে উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাট উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের জন্য নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। উলিপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের সেবার তুলনায় সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এককভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বেসরকারি ক্লিনিকগুলো জনগণের পাশে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলেন, আমরা চিকিৎসা নীতিমালা ও মানবিকতার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছি। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে— আমরা তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উলিপুর প্রেসক্লাব, উপজেলা প্রেসক্লাব উলিপুর, এবং উলিপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর সকল সাংবাদিকবৃন্দ।