অবৈধ বালুমহাল বন্ধে এমপি মান্নানের কঠোর অবস্থান

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৩৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৬৪ বার পঠিত

আবু হাসান আপন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়া–০৫ (নবীনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মান্নান নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার(২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে গণশুনানি করেন এবং তাদের অভিযোগ বিস্তারিতভাবে শোনেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, “সামিউল ট্রেডার্স” নামের একটি ইজারাদার প্রতিষ্ঠান নাসিরাবাদ মৌজায় ইজারা গ্রহণ করলেও নির্ধারিত স্থান ছেড়ে সাহেবনগর ও চরলাপাং মৌজার কৃষিজমি ও বসতভিটার পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্রের সহযোগিতায় তারা অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে আবাদি জমি ধ্বংস হচ্ছে, নদীভাঙন তীব্রতর হচ্ছে এবং অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
গণশুনানিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমপি এডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন,
“নবীনগরে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। যেকোনো মূল্যে অবৈধ বালুমহাল বন্ধ করতে হবে। যারা ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কৃষিজমি ধ্বংস করছে এবং অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে—তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি ও জননিরাপত্তা রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে যৌথ অভিযান পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশাসনের উপস্থিতি ও করণীয়
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এছাড়াও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস কে হেলাল,
সাংগঠনিক সম্পাদক আশ্রাফ হোসেন রাজু, দেলোয়ার হোসেন সোহেল,পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হাদিস শাহীন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ ইদ্রিস, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি দেলোয়ার কমিশনার,
সহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জনমনে স্বস্তি, কঠোর পদক্ষেপের প্রত্যাশা
এমপির সরাসরি উপস্থিতি ও গণশুনানিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে চরলাপাং ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে এবং কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষা পাবে।
চরলাপাংয়ের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবীনগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ বালুমহাল চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।


















