ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

উলিপুরে অসুস্থ গরু জবাই, মাংস বিক্রির অভিযোগে তিন জনকে জরিমানাসহ কারাদণ্ড

উলিপুর কুড়িগ্রাম , প্রতিবেদকঃ
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • / ১৪৫ বার পঠিত
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় গর্ভবতী অসুস্থ গরু গোপনে জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক কসাই ও দুই পশু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ৮০ কেজি মাংস জব্দ করে মাটিতে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দুই পল্লী চিকিৎসক ও এক কসাইকে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার(২০ মে) উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের কিশামত তবকপুর পানাতি পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উলিপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তবকপুর গ্রামের গরুর মালিক সৌরভ কুমার পাল(৩২) এর একটি গরু গর্ভকালীন জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পল্লী পশু চিকিৎসককে ফোন করেন। পরে পল্লী পশু চিকিৎসক গিয়ে গর্ভবতী গরুটির সিজার করিয়ে বাছুর প্রসব করান। এসময় গর্ভবতী গরুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই পল্লী চিকিৎসক গরুর মালিকের সাথে টাকা দেওয়ার চুক্তি করে কসাইকে ডেকে গরু বিক্রি করে দেন। পরে উলিপুর পৌরসভার একতাপাড়া এলাকার কসাই শাহ আলম নাদু কসাই গরু জবাই করে মাংস নিয়ে আসার সময় এলাকাবাসী মাংসসহ কসাইকে আটক করে। পরে আজ মঙ্গলবার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮০ কেজি মাংস জব্দ করেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই পল্লী চিকিৎসকসহ তিনজনকে কারাদণ্ড দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে কারাদণ্ড প্রাপ্ত দুই পল্লী চিকিৎসক হলেন, উপজেলার পশ্চিম নাওডাঙ্গা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে পল্লী পশু চিকিৎসক আজিমনুর রহমান (৪২) ও পশ্চিম শিববাড়ী এলাকার পল্লী পশু চিকিৎসক জসিম উদ্দিন (২৮)।
বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন, ২০১১ এর ১৭ ধারা লঙ্ঘন (নিবন্ধন ও সনদ ছাড়া ভেটেরিনারি প্র‍্যাকটিস) করায় উক্ত আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী আজিমনুর রহমানকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড এবং জসিম উদ্দিনকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এছাড়াও উলিপুর পৌরসভার একতাপাড়া এলাকার কসাই শাহ আলম ওরফে নাদু(৩৮)কে পশু জবাই ও মানুষের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ এর ধারা ৩(১) ও ৪(১) এর লঙ্ঘন (জবাই নিষিদ্ধ পশু জবাই ও জবাইখানার বাইরে জবাই) করায় উক্ত আইনের ২৪(১) ধারা অনুযায়ী ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সেই সাথে কিশামত তবকপুর গ্রামের গরুর মালিক সৌরভ কুমার পাল(৩২)কে ৫০০০ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সুশান্ত মন্ডল জানান, গর্ভবতী গরুর প্রসবকালীন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে পল্লী পশু চিকিৎসক ও ওই গরুর মালিক কসাই এর সহায়তায় জবাই করে। অসুস্থ গরু জবাই করার অপরাধে এলাকাবাসী তাদের আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেন।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের পর অসুস্থ গরু জবাই করার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অসুস্থ গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়ার সময় কসাইসহ দুই পল্লী পশু চিকিৎসককে এলাকাবাসী আটক করে প্রশাসনকে অবগত করে। পরে আজ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই পল্লী পশু চিকিৎসক ও একজন কসাইকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
N.V.S
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

উলিপুরে অসুস্থ গরু জবাই, মাংস বিক্রির অভিযোগে তিন জনকে জরিমানাসহ কারাদণ্ড

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় গর্ভবতী অসুস্থ গরু গোপনে জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক কসাই ও দুই পশু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ৮০ কেজি মাংস জব্দ করে মাটিতে পুঁতে ফেলার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দুই পল্লী চিকিৎসক ও এক কসাইকে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার(২০ মে) উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের কিশামত তবকপুর পানাতি পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উলিপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তবকপুর গ্রামের গরুর মালিক সৌরভ কুমার পাল(৩২) এর একটি গরু গর্ভকালীন জটিলতায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পল্লী পশু চিকিৎসককে ফোন করেন। পরে পল্লী পশু চিকিৎসক গিয়ে গর্ভবতী গরুটির সিজার করিয়ে বাছুর প্রসব করান। এসময় গর্ভবতী গরুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই পল্লী চিকিৎসক গরুর মালিকের সাথে টাকা দেওয়ার চুক্তি করে কসাইকে ডেকে গরু বিক্রি করে দেন। পরে উলিপুর পৌরসভার একতাপাড়া এলাকার কসাই শাহ আলম নাদু কসাই গরু জবাই করে মাংস নিয়ে আসার সময় এলাকাবাসী মাংসসহ কসাইকে আটক করে। পরে আজ মঙ্গলবার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮০ কেজি মাংস জব্দ করেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই পল্লী চিকিৎসকসহ তিনজনকে কারাদণ্ড দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে কারাদণ্ড প্রাপ্ত দুই পল্লী চিকিৎসক হলেন, উপজেলার পশ্চিম নাওডাঙ্গা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে পল্লী পশু চিকিৎসক আজিমনুর রহমান (৪২) ও পশ্চিম শিববাড়ী এলাকার পল্লী পশু চিকিৎসক জসিম উদ্দিন (২৮)।
বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন, ২০১১ এর ১৭ ধারা লঙ্ঘন (নিবন্ধন ও সনদ ছাড়া ভেটেরিনারি প্র‍্যাকটিস) করায় উক্ত আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী আজিমনুর রহমানকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড এবং জসিম উদ্দিনকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এছাড়াও উলিপুর পৌরসভার একতাপাড়া এলাকার কসাই শাহ আলম ওরফে নাদু(৩৮)কে পশু জবাই ও মানুষের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ এর ধারা ৩(১) ও ৪(১) এর লঙ্ঘন (জবাই নিষিদ্ধ পশু জবাই ও জবাইখানার বাইরে জবাই) করায় উক্ত আইনের ২৪(১) ধারা অনুযায়ী ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সেই সাথে কিশামত তবকপুর গ্রামের গরুর মালিক সৌরভ কুমার পাল(৩২)কে ৫০০০ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সুশান্ত মন্ডল জানান, গর্ভবতী গরুর প্রসবকালীন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে পল্লী পশু চিকিৎসক ও ওই গরুর মালিক কসাই এর সহায়তায় জবাই করে। অসুস্থ গরু জবাই করার অপরাধে এলাকাবাসী তাদের আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেন।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের পর অসুস্থ গরু জবাই করার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অসুস্থ গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়ার সময় কসাইসহ দুই পল্লী পশু চিকিৎসককে এলাকাবাসী আটক করে প্রশাসনকে অবগত করে। পরে আজ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই পল্লী পশু চিকিৎসক ও একজন কসাইকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
N.V.S