
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঘরের ভেতর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বাচ্চু মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর নাতি রাব্বি (২২)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের হাত-পা বিচ্ছিন্ন ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রাব্বি পলাতক রয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের পণ্ডিতপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত বাচ্চু মিয়া প্রায় ৫০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে রংপুর শহরে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দুই দিন আগে তিনি উলিপুর উপজেলার পণ্ডিতপাড়া গ্রামে তাঁর বড় ভাই এক্কাবর আলীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। অন্যদিকে, এক্কাবর আলীর ছেলে মিঠু মিয়া, যিনি অভিযুক্ত রাব্বির বাবা, গাজীপুরের মনিপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করার সুবাদে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করেন।
ঘটনার দিন রাব্বি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসে। রাতে সে তার ছোট দাদা বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমাতে যায়। রাত আনুমানিক ১টার দিকে রাব্বি তার দাদা এক্কাবর আলী ও দাদিকে ডেকে তুলে জানায়, সে একটি ‘দুর্ঘটনা’ ঘটিয়েছে।
এক্কাবর আলী জানান, ডাক শুনে ঘুম থেকে উঠে নাতির হাতে রক্তমাখা ছোরা দেখতে পেয়ে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে রাব্বি ছোরাটি মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি তাঁর ছোট ভাই বাচ্চু মিয়াকে বিছানায় রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাচ্চু মিয়ার হাত-পা বিচ্ছিন্ন ছিল।
এ সময় স্বজনদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই অভিযুক্ত রাব্বি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে উলিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রাব্বি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 












