ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

কালীগঙ্গা নদীতে ট্রলারডুবি : শিশুর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ মা

  • পিরোজপুর অফিস
  • সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৪:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত
পিরোজপুর অফিস:    পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে যাত্রী ও মোটরসাইকেল বোঝাই একটি ট্রলার ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা রিনা বেপারী (৩৫) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর। এ সময় উদ্ধার অভিযান তদারকি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আদ্রিতা বেপারী (৯) এবং তার মা রিনা বেপারী নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা শংকর বেপারীর স্ত্রী ও মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেশায় ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী শংকর বেপারী দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। সোমবার রাতে শ্রীরামকাঠী এলাকায় পূজা দেখে তাঁরা ট্রলারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী বন্দর প্রান্ত থেকে ৫০ জনের বেশি যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রলারটি ভরতকাঠী ফেরিঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। ঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়।
অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামালের চাপে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে রিনা বেপারী ও তাঁর মেয়ে আদ্রিতা নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। রাতেই মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। রাতের বেলায় উদ্ধার অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সাময়িকভাবে তা স্থগিত করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে নিখোঁজ রিনা বেপারীকে উদ্ধারে পুনরায় অভিযান শুরু হয়। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান এবং নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম। এ ছাড়া পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক রায়হানুর আশরাফ ও নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সোয়াইব হোসেন মুন্সির নেতৃত্বে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করা হয়। ডুবুরি দল শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ মাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় কারও অবহেলা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাজিরপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম রব্বানী এবং পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
20 October 2026

কটিয়াদীতে মেলার আড়ালে গাঁজা সেবন: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com

কালীগঙ্গা নদীতে ট্রলারডুবি : শিশুর মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ মা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৪:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
পিরোজপুর অফিস:    পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে যাত্রী ও মোটরসাইকেল বোঝাই একটি ট্রলার ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা রিনা বেপারী (৩৫) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর। এ সময় উদ্ধার অভিযান তদারকি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আদ্রিতা বেপারী (৯) এবং তার মা রিনা বেপারী নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা শংকর বেপারীর স্ত্রী ও মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেশায় ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী শংকর বেপারী দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। সোমবার রাতে শ্রীরামকাঠী এলাকায় পূজা দেখে তাঁরা ট্রলারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী বন্দর প্রান্ত থেকে ৫০ জনের বেশি যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রলারটি ভরতকাঠী ফেরিঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। ঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়।
অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামালের চাপে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে রিনা বেপারী ও তাঁর মেয়ে আদ্রিতা নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। রাতেই মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। রাতের বেলায় উদ্ধার অভিযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সাময়িকভাবে তা স্থগিত করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে নিখোঁজ রিনা বেপারীকে উদ্ধারে পুনরায় অভিযান শুরু হয়। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান এবং নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম। এ ছাড়া পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক রায়হানুর আশরাফ ও নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সোয়াইব হোসেন মুন্সির নেতৃত্বে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করা হয়। ডুবুরি দল শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ মাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় কারও অবহেলা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাজিরপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম রব্বানী এবং পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

Share this news as a Photo Card