ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

সম্প্রীতি ও ভক্তির বন্ধনে রক্ষিত-বাড়ির ২৯১তম দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত

  • অরবিন্দ রায়
  • সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৩:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত

অরবিন্দ রায়:     ইতিহাস, ঐতিহ্য ও  ধর্মীয় বিশ্বাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রঘুনাথপুর  রক্ষিত বাড়ির ২৯১ তম শারদীয় দুর্গা পুজা। দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর শারদীয় দুর্গা পুজাকে ঘিরে এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় আনন্দ, উৎসাহ উদ্দীপনা।  রক্ষিত বাড়ির দুর্গা পূজা সম্প্রীতির এক মিলন মেলায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।
রঘুনাথপুর রক্ষিত বাড়ি ১৭৩৫ সালে প্রথম দুর্গা পূজা শুরু করেন।   এলাকায় হিন্দু – মুসলিম সহ সকল ধর্মের মানুষের আগমনে পূজা প্রাঙ্গন মিলন মেলায় পরিনত হয়।
দেবী দুর্গার বিদায় ঘন্টা বেজে ওঠে। ভক্তদের মনে বেজে ওঠে বিষাদের সুর।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, যুগ যুগ ধরে চলে আসা এ ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ও ধর্মীয় মূল্যেবোধ ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। ধর্ম – বর্ণ -নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে শারদীয় দুর্গােৎসব হয়ে উঠবে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবতার মিলনমেলা।
রক্ষিত বাড়ির দুর্গা পূজায়  মন্দিরে আলোক সজ্জায় কারো সাথে  প্রতিযোগিতা করে  না। অনাড়ম্বর ভাবে প্রতিবছর রক্ষিত বাড়ির বংশ ধরেরা এ দুর্গা পূজা করে আসছেন।  এ বছর বিমল কুমার রক্ষিত, আনন্দ মোহন রক্ষিত বাবুল, সাংবাদিক উৎপল কুমার রক্ষিত, বিপুল কুমার রক্ষিত, মনতোষ রক্ষিত  এ বছর পূর্ব পুরুষের নিয়ম রক্ষায়  শারদীয় দুর্গা পূজা করছেন।
শুভশক্তির  উন্মেষের মাধ্যমে  শক্তির বিনাশের মধ্য দিয়ে বিশ্বের শান্তি রক্ষায় প্রতিবছর মা দুর্গা পৃথিবীতে আসেন।   শিউলি ফুলের সুগন্ধ কাশফুলের  সুন্দর শোভাতেই  আমরা বুঝতে পারছি মা আসছেন।  দুর্গা মা ভক্তদের দুঃখ যন্ত্রনার অবসান করতে মা বছরে একবার আসেন । সারা বছর সুখে শান্তিতে তার ভক্তরা দিন কাটাতে পারেন সেই আশীর্বাদে মা দুর্গা পৃথিবীতে আসেন  বলে বিশ্বাস করেন  সনাতন ধর্মের মানুষ।
রক্ষিত পরিবারের বংশধর  সাংবাদিক  উৎপল রক্ষিত জানান, বিশ্ব শান্তির কামনায় রক্ষিত পরিবার এ  বছর ধরে দুর্গা পূজা পালন করে আসছে। এলাকার হিন্দু- মুসলিম  সম্প্রীতির এক বন্ধন রক্ষিত বাড়ির দূর্গা পূজা। এলাকার সকল ধর্মের মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় যুগের পর যুগ ধরে  বিভিন্ন দুর্যোগেও রক্ষিত বাড়ির দূর্গা পূজা পালন করে আসছে। দূর্গা পূজার মাধ্যমে রক্ষিত বাড়ি বিশ্বের মানুষের শান্তি কামনা করে।

মনতোষ রক্ষিত জানান, রক্ষিত বাড়ির  দুর্গা পূজা সম্প্রীতি বন্ধন। পূজা উপলক্ষে রক্ষিত বাড়ি আঙিনায় এক মিলন মেলায় পরিনত হয়।  সনাতন ধর্মের মানুষ বিশ্বাস করে দেবী দুর্গার আর্শীবাদ যার উপর থাকে, সেই ব্যক্তিকে জীবনে কখনও কোন দুঃখ দুর্দশায় মধ্যে পড়তে হয় না। দেবী দুর্গার কৃপায় তার সংসারে সব সময় সুখ,  শান্তি ও আনন্দে পরিপূর্ন। বিজয়া দশমীতে রঘুনাথপুর দশমীর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার  মানুষের উপস্থিতে দশমী মেলা হয়ে উঠে উৎসব মুখর।  এ যেন সম্প্রীতির এক মিলন মেলা।
প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত শিশু, নারী, পুরুষ সহ সব বয়সের মানুষের আগমনে পূজা মন্ডলগুলো হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর।

রঘুনাথপুর রক্ষিত বাড়ির ২৯১ তম দুর্গা পুজা শুধু একটি উৎসবের নাম নয়, এ দুর্গা পুজা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ ও জীবনের নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তন এলেও এমন ঐতিহ্যবাহী দুর্গা পুজার আয়োজন মানুষের শিকড়ের সাথে সম্পর্ক অটুট থাকে। ইতিহাসের সাক্ষী রঘুনাথপুরের ২৯১ তম শারদীয় দুর্গা পুজা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঐতিহ্য, ভক্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিক – এমন প্রত্যাশা স্হানীয় ভক্ত ও অনুরাগীদের।

শারদীয় দুর্গা পুজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দেবী দুর্গার আগমনে ভক্তদের মধ জাগিয়ে তোলে নতুন আশা, বিশ্বাস ও আনন্দ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়, অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা নিয়ে প্রতি বছর ফিরে আসে
দুর্গোৎসব। রঘুনাথপুর রক্ষিত বাড়ির ২৯১ তম দুর্গা পুজা সেই ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্যেরই এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
20 October 2026

আজ মহানবমী পূঁজা, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com

সম্প্রীতি ও ভক্তির বন্ধনে রক্ষিত-বাড়ির ২৯১তম দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৩:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

অরবিন্দ রায়:     ইতিহাস, ঐতিহ্য ও  ধর্মীয় বিশ্বাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রঘুনাথপুর  রক্ষিত বাড়ির ২৯১ তম শারদীয় দুর্গা পুজা। দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর শারদীয় দুর্গা পুজাকে ঘিরে এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় আনন্দ, উৎসাহ উদ্দীপনা।  রক্ষিত বাড়ির দুর্গা পূজা সম্প্রীতির এক মিলন মেলায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।
রঘুনাথপুর রক্ষিত বাড়ি ১৭৩৫ সালে প্রথম দুর্গা পূজা শুরু করেন।   এলাকায় হিন্দু – মুসলিম সহ সকল ধর্মের মানুষের আগমনে পূজা প্রাঙ্গন মিলন মেলায় পরিনত হয়।
দেবী দুর্গার বিদায় ঘন্টা বেজে ওঠে। ভক্তদের মনে বেজে ওঠে বিষাদের সুর।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, যুগ যুগ ধরে চলে আসা এ ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ও ধর্মীয় মূল্যেবোধ ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। ধর্ম – বর্ণ -নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে শারদীয় দুর্গােৎসব হয়ে উঠবে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবতার মিলনমেলা।
রক্ষিত বাড়ির দুর্গা পূজায়  মন্দিরে আলোক সজ্জায় কারো সাথে  প্রতিযোগিতা করে  না। অনাড়ম্বর ভাবে প্রতিবছর রক্ষিত বাড়ির বংশ ধরেরা এ দুর্গা পূজা করে আসছেন।  এ বছর বিমল কুমার রক্ষিত, আনন্দ মোহন রক্ষিত বাবুল, সাংবাদিক উৎপল কুমার রক্ষিত, বিপুল কুমার রক্ষিত, মনতোষ রক্ষিত  এ বছর পূর্ব পুরুষের নিয়ম রক্ষায়  শারদীয় দুর্গা পূজা করছেন।
শুভশক্তির  উন্মেষের মাধ্যমে  শক্তির বিনাশের মধ্য দিয়ে বিশ্বের শান্তি রক্ষায় প্রতিবছর মা দুর্গা পৃথিবীতে আসেন।   শিউলি ফুলের সুগন্ধ কাশফুলের  সুন্দর শোভাতেই  আমরা বুঝতে পারছি মা আসছেন।  দুর্গা মা ভক্তদের দুঃখ যন্ত্রনার অবসান করতে মা বছরে একবার আসেন । সারা বছর সুখে শান্তিতে তার ভক্তরা দিন কাটাতে পারেন সেই আশীর্বাদে মা দুর্গা পৃথিবীতে আসেন  বলে বিশ্বাস করেন  সনাতন ধর্মের মানুষ।
রক্ষিত পরিবারের বংশধর  সাংবাদিক  উৎপল রক্ষিত জানান, বিশ্ব শান্তির কামনায় রক্ষিত পরিবার এ  বছর ধরে দুর্গা পূজা পালন করে আসছে। এলাকার হিন্দু- মুসলিম  সম্প্রীতির এক বন্ধন রক্ষিত বাড়ির দূর্গা পূজা। এলাকার সকল ধর্মের মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় যুগের পর যুগ ধরে  বিভিন্ন দুর্যোগেও রক্ষিত বাড়ির দূর্গা পূজা পালন করে আসছে। দূর্গা পূজার মাধ্যমে রক্ষিত বাড়ি বিশ্বের মানুষের শান্তি কামনা করে।

মনতোষ রক্ষিত জানান, রক্ষিত বাড়ির  দুর্গা পূজা সম্প্রীতি বন্ধন। পূজা উপলক্ষে রক্ষিত বাড়ি আঙিনায় এক মিলন মেলায় পরিনত হয়।  সনাতন ধর্মের মানুষ বিশ্বাস করে দেবী দুর্গার আর্শীবাদ যার উপর থাকে, সেই ব্যক্তিকে জীবনে কখনও কোন দুঃখ দুর্দশায় মধ্যে পড়তে হয় না। দেবী দুর্গার কৃপায় তার সংসারে সব সময় সুখ,  শান্তি ও আনন্দে পরিপূর্ন। বিজয়া দশমীতে রঘুনাথপুর দশমীর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার  মানুষের উপস্থিতে দশমী মেলা হয়ে উঠে উৎসব মুখর।  এ যেন সম্প্রীতির এক মিলন মেলা।
প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত শিশু, নারী, পুরুষ সহ সব বয়সের মানুষের আগমনে পূজা মন্ডলগুলো হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর।

রঘুনাথপুর রক্ষিত বাড়ির ২৯১ তম দুর্গা পুজা শুধু একটি উৎসবের নাম নয়, এ দুর্গা পুজা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ ও জীবনের নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তন এলেও এমন ঐতিহ্যবাহী দুর্গা পুজার আয়োজন মানুষের শিকড়ের সাথে সম্পর্ক অটুট থাকে। ইতিহাসের সাক্ষী রঘুনাথপুরের ২৯১ তম শারদীয় দুর্গা পুজা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঐতিহ্য, ভক্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিক – এমন প্রত্যাশা স্হানীয় ভক্ত ও অনুরাগীদের।

শারদীয় দুর্গা পুজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দেবী দুর্গার আগমনে ভক্তদের মধ জাগিয়ে তোলে নতুন আশা, বিশ্বাস ও আনন্দ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়, অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা নিয়ে প্রতি বছর ফিরে আসে
দুর্গোৎসব। রঘুনাথপুর রক্ষিত বাড়ির ২৯১ তম দুর্গা পুজা সেই ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্যেরই এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

Share this news as a Photo Card