
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে উলিপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উলিপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পার্থ প্রতীম মজুমদার। সভাটি সঞ্চালনা করেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক উৎপল রায়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান, উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া, উলিপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদুল হাবীব নয়ন, যুগ্ম আহ্বায়ক রমেশ সাহা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা শূরা সদস্য আব্দুল জলিল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ, সদস্যসচিব সোলায়মান আলী সরকার, বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল হোসেন চাঁন এবং উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এ টি এম আরিফ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন। কোনো অপশক্তি যেন এই অটুট বন্ধন বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় জানানো হয়, এ বছর উলিপুর উপজেলায় মোট ১২৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। পূজা চলাকালে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোতে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে আটজন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, উলিপুরের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে হবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ১২৭টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 













