এই গরমে মিলছে স্বস্তি তালের শাষে

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৯:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
- / ৫২ বার পঠিত

চলছে মধুমাস জৈষ্ঠ্য। বাংলা এই মাসে হরেক জাতের রসালো ফলের সমাহার থাকায় ‘মধুমাস’ হিসেবে পরিচিত। গ্রীষ্মের দুপুরে প্রচন্ড গরমে শরীর হাঁসফাঁস হয়ে উঠে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম আর গাঁ বেয়ে নোনা জল জানান দেয় ক্লান্তির। ক্লান্ত শরীরে দ্রুত প্রশান্তি এনে দিতে পারে তালের শাষ। তালের শাষ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু একটি খাবার। এতে রয়েছে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান । শাষের বেশির ভাগ অংশ জলীয় হওয়ার ফলে শরীরের পানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় তাল গাছ থাকলেও চাহিদার তুলনায় অনেক কম। অধিকাংশ তাল আসে পাশ্ববর্তী জেলা নওগাঁ ও নাটোর থেকে । তবে, এই উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম, নশরতপুর ও কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নে বেশি তালগাছ রয়েছে। শাষ বিক্রেতারা মৌসুমের শুরুতেই গাছওয়ালাদের কাছ থেকে তালের বায়না দেন। পরে সেগুলি খাওয়ার উপযোগী হলে সংগ্রহ করে বিক্রি করেন বাজারগুলোতে।
তালের নরম শাষ সব বয়সী মানুষের কাছে খুবই প্রিয়। জৈষ্ঠ্য মাস তালের শাষ খাওয়ার উপযোগী সময়। এই মাস পার হলেই শাষগুলি শক্ত হয়ে যায়। কচকচে শাষ অনেকেই পছন্দ করে না। জৈষ্ঠ্যের শুরুতেই গাছ থেকে তাল পেড়ে বাজারজাতকরণ করা হয়। সবধরণের ক্রেতারা হুঁমড়ি খেয়ে পড়েন তালের শাস কিনতে। শুরুতে দাম একটু চড়া থাকলেও ধীরে ধীরে কমে আসে। শুরুর দিকে স্বল্প আয়ের মানুষজন শাসঁ না কিনলেও দাম কমার পর সব শ্রেণির মানুষ তালের শাষের স্বাদ নেন। অনেকেই এক মাসের জন্য এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে শাষ বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয় করেন।
তালের কচি শাষ এবং এর ভেতরের মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মিটিয়ে শরীরে এনে দেয় আরামদায়ক অনুভূতি। ১০০ গ্রাম তালের শাষে রয়েছে- ০.৮ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ২০.৭ গ্রাম শর্করা, ০.৮ গ্রাম আমিষ, ০.৫ গ্রাম আঁশ এবং ৭৭.৫ ভাগ জলীয় অংশ। শাষে খাদ্য আঁশ থাকায় হজমে সহায়ক। এতে প্রায় ৮৭ কিলোক্যালোরি ও ৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকায় শাষ হাড় গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তালের শাষ সুস্বাদু হওয়ায় সকল শ্রেণীর মানুষের মাঝে এটি একটি জনপ্রিয় ফল। এখন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এবং অলিতে গলিতে শাষ বিক্রি করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে, শহরের তুলনায় গ্রামে তালের শাষ খাওয়ার প্রচলন বেশি। গ্রামে ছেলেরা দলবেঁধে সকাল বা বিকেলে তালের শাষ খেতে ভীড় জমায় গাছের তলায়।
সদর উপজেলার জিনইর গ্রামের তাল ব্যবসায়ী সাজু জানান, আদমদীঘিতে তালের শাষের চাহিদা অনেক। দামও ভাল পাওয়া যায়। এজন্য গত দশ বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে তাল কিনে তালের শাষ বিক্রি করি।
সদরের শিবপুর গ্রামের জুয়েল নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, ভেজা গাছে চড়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করি। কারন পা পিছলে পরার সম্ভবনা থাকে। অনেকসময় ছোট গাছের মাথায় সাপ দেখা যায়। তখন ভয় লাগে। অনেক সময় তালের কাঁদি (বাদা)কাটা রেখে চলে আসি। এছাড়াও দুষ্টু ছেলেরা কেনা গাছ (কাঁদি) থেকেও তাল চুরি করে। একাজে রিস্ক রয়েছে বলে জানায় তিলকপুরের মির্জাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মাসুদ।
সান্তাহার রেলগেটে ডাব ও তালের শাষ বিক্রি করছেন পাথুরকুটা গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মাসুদ রানা। তিনি ইশারায় জানান, তালের এক চোখের দাম ৫ টাকা। তবে, একটি তাল নিলে ১৫ টাকা। অন্য দোকানী জানান, পাইকারি দাম ৪ থেকে ৫ টাকা। তবে আমরা খুচরা বিক্রি করছি শাষ প্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা দরে। একটি তাল বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।
ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের অন্তাহার গ্রামের তাল বিক্রেতা মিঠু মিয়া জানান, বছরের অন্য সময়গুলোতে অন্যান্য পেশার সাথে জড়িত থাকলেও এক মাসের জন্য তালের শাষ বিক্রি করি। এতে এক মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা বাড়তি আয় হয়। তবে, গাছ থেকে বাদা (তালের কাঁদি) কাটায় ঝুঁকি রয়েছে। লাভের আশায় দুইমাস এই কাজ চলে। বছরের অন্যান্য সময়ে আমি কাঁচা তরকারির ব্যবসা করি।


















