ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কবর ভেঙে সরকারি ভবন নির্মাণের অভিযোগ এক পরিবারের, ২ মহিলার জেল 

মো. জাহিদ হাসান, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৫৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৬ বার পঠিত

মো. জাহিদ হাসান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: কবরের উপর আইসিটি ভবন নির্মাণ করা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে একটি পরিবারের সাথে দ্বন্দ চলে আসছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের। যে জায়গায় ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে সেই জায়গার কিছু অংশ এবং একটি পারিবারিক কবরস্থান রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পরিবারটি। কিন্তু কোনো সুরাহা করতে পারছে না বলে দাবি করেছে পরিবারের সদস্যরা। বিরোধ চলাকালীন এই বিরোধপূর্ণ জমিতে আবার কাজ শুরু করায় ঐ পরিবারের দুই মহিলা, কাজের ভিডিও ধারণ করা শুরু করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের নির্দেশে তাঁদের আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয় বলে জানায় ঐ পরিবারের সদস্য মাসুদ আল নোমান।মাসুদ আল নোমান বলেন, ‘আইসিটি ভবনের কাজ আমাদের পারিবারিক কবরস্থান ছেড়ে দিয়ে করার আলোচনা হলেও উপজেলা প্রশাসন তা না করে কাজ শুরু করে। কবরের উপর ভবনের পিলার বসিয়ে ফেলে। এ ঘটনা আমার পরিবারের মহিলারা ভিডিও করতে গেলে আমার স্ত্রীর হাত থেকে টেনে হিঁচড়ে মোবাইল কেড়ে নেয় ইউএনও সানজিদা রহমান। পরবর্তীতে, কিছুদিন আগে আমাদের বিরদ্ধে করা মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের তালিকায় তাঁদের ঢুকিয়ে আদালতে প্রেরণ করে দেয়।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউআইটিআরসিই-২ প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ১০ শতাংশ জমি আইসিটি ভবন নির্মাণের জন্য নির্বাচিত করে প্রস্তাবনা পাঠান তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে সারা দেশের ১৬৩ টি আইসিটি ভবনের মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাতে একটি আইসিটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। বিপত্তি বাধে আইসিটি ভবনের নির্মাণ কাজ শুরুর সময়। স্থানীয় মকবুল হোসেন (৪৫) আইসিটি ভবনের প্রস্তাবিত জায়গার সাড়ে ৪ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে বাধা দেন।

মকবুল হোসেন বলেন, ‘ আইসিটি ভবন আমাদের সবার জন্য দরকার। এতে উপজেলার সবাই উপকৃত হবে। ভবনের কাজ হোক তা আমরাও চাই, কিন্তু বিষয়টার কোনো সুরাহা না করে জোরপূর্বক আমাদের কবরস্থান ভেঙে , মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে এটা কাম্য নয়’।

ভবনটির নির্মাণের দায়িত্বে আছে কোরিয়ান হোবান ইএনসি কোম্পানি। কাজটি তদারিক করছেন ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক রঞ্জন সরকার। তিনি বলেন, ‘আইসিটি ভবন নির্মাণের জন্য ইউএনও অফিস থেকে আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গাতেই আমরা কাজ করছি। মকবুল হোসেনসহ কয়েকজন বাসিন্দা নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ায় এখানে কাজ করা যাচ্ছে না। কাজ করতে গেলে মারধরসহ বাধা দিয়ে আসছে। বিষয়টি আমাদের কোম্পানি, উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশকে জানালে থানায় একটি মামলা করা হয়। পরে কাজে বাধা দিলে দুই নারীকে ইউএনওর নির্দেশে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়’।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের ১একর ৭৪ শতাংশ জায়গার অধীনেই আইসিটি ভবনের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। প্রস্তুাবিত ভবনের কাজে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার কারো নেই। কেননা বিআরএস রেকর্ডমূলে উপজেলা পরিষদের জায়গাতেই আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বারবার সতর্ক করার পরেও স্থানীয় একটি মহল বেআইনিভাবে আইসিটি ভবনের কাজে বাধা দিচ্ছে’।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আযম জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার আইসিটি ভবন নির্মাণের সাইট ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক রঞ্জন সরকার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে’।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ‘সারজিদা রহমান বলেন, কৌশিক রঞ্জন সরকারের করা মামলার অজ্ঞাত আসামিদের তালিকায় দুই মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে’।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কবর ভেঙে সরকারি ভবন নির্মাণের অভিযোগ এক পরিবারের, ২ মহিলার জেল 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৫৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মো. জাহিদ হাসান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: কবরের উপর আইসিটি ভবন নির্মাণ করা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে একটি পরিবারের সাথে দ্বন্দ চলে আসছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের। যে জায়গায় ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে সেই জায়গার কিছু অংশ এবং একটি পারিবারিক কবরস্থান রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পরিবারটি। কিন্তু কোনো সুরাহা করতে পারছে না বলে দাবি করেছে পরিবারের সদস্যরা। বিরোধ চলাকালীন এই বিরোধপূর্ণ জমিতে আবার কাজ শুরু করায় ঐ পরিবারের দুই মহিলা, কাজের ভিডিও ধারণ করা শুরু করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের নির্দেশে তাঁদের আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয় বলে জানায় ঐ পরিবারের সদস্য মাসুদ আল নোমান।মাসুদ আল নোমান বলেন, ‘আইসিটি ভবনের কাজ আমাদের পারিবারিক কবরস্থান ছেড়ে দিয়ে করার আলোচনা হলেও উপজেলা প্রশাসন তা না করে কাজ শুরু করে। কবরের উপর ভবনের পিলার বসিয়ে ফেলে। এ ঘটনা আমার পরিবারের মহিলারা ভিডিও করতে গেলে আমার স্ত্রীর হাত থেকে টেনে হিঁচড়ে মোবাইল কেড়ে নেয় ইউএনও সানজিদা রহমান। পরবর্তীতে, কিছুদিন আগে আমাদের বিরদ্ধে করা মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের তালিকায় তাঁদের ঢুকিয়ে আদালতে প্রেরণ করে দেয়।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউআইটিআরসিই-২ প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ১০ শতাংশ জমি আইসিটি ভবন নির্মাণের জন্য নির্বাচিত করে প্রস্তাবনা পাঠান তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে সারা দেশের ১৬৩ টি আইসিটি ভবনের মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাতে একটি আইসিটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। বিপত্তি বাধে আইসিটি ভবনের নির্মাণ কাজ শুরুর সময়। স্থানীয় মকবুল হোসেন (৪৫) আইসিটি ভবনের প্রস্তাবিত জায়গার সাড়ে ৪ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে বাধা দেন।

মকবুল হোসেন বলেন, ‘ আইসিটি ভবন আমাদের সবার জন্য দরকার। এতে উপজেলার সবাই উপকৃত হবে। ভবনের কাজ হোক তা আমরাও চাই, কিন্তু বিষয়টার কোনো সুরাহা না করে জোরপূর্বক আমাদের কবরস্থান ভেঙে , মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে এটা কাম্য নয়’।

ভবনটির নির্মাণের দায়িত্বে আছে কোরিয়ান হোবান ইএনসি কোম্পানি। কাজটি তদারিক করছেন ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক রঞ্জন সরকার। তিনি বলেন, ‘আইসিটি ভবন নির্মাণের জন্য ইউএনও অফিস থেকে আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গাতেই আমরা কাজ করছি। মকবুল হোসেনসহ কয়েকজন বাসিন্দা নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ায় এখানে কাজ করা যাচ্ছে না। কাজ করতে গেলে মারধরসহ বাধা দিয়ে আসছে। বিষয়টি আমাদের কোম্পানি, উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশকে জানালে থানায় একটি মামলা করা হয়। পরে কাজে বাধা দিলে দুই নারীকে ইউএনওর নির্দেশে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়’।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের ১একর ৭৪ শতাংশ জায়গার অধীনেই আইসিটি ভবনের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। প্রস্তুাবিত ভবনের কাজে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার কারো নেই। কেননা বিআরএস রেকর্ডমূলে উপজেলা পরিষদের জায়গাতেই আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বারবার সতর্ক করার পরেও স্থানীয় একটি মহল বেআইনিভাবে আইসিটি ভবনের কাজে বাধা দিচ্ছে’।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আযম জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার আইসিটি ভবন নির্মাণের সাইট ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক রঞ্জন সরকার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে’।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ‘সারজিদা রহমান বলেন, কৌশিক রঞ্জন সরকারের করা মামলার অজ্ঞাত আসামিদের তালিকায় দুই মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে’।