ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ০২ মে ২০২৬

কুষ্টিয়ায় একদিনে তিন মরদেহ উদ্ধার : রহস্যে মোড়া দুই নারী ও এক কিশোরের মৃত্যু

উজ্জ্বল মাহমুদ, কুষ্টিয়া 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:২৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৭৬ বার পঠিত

কুষ্টিয়ায় পৃথক স্থান থেকে দুই নারী ও এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে সদর উপজেলার কোটপাড়ার বারো শরিফ দরবার এলাকা, মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনের পরিত্যক্ত জায়গা এবং খাজানগর রেললাইনের পাশ থেকে এই তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত কিশোরের নাম সিয়াম (১৫), তিনি সদর উপজেলার খাজানগর আদেরপাড়ার সাইদুরের ছেলে। তবে অপর দুই নারীর পরিচয় এখনও শনাক্ত হয়নি।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে বারো শরিফ দরবার এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এটি আত্মহত্যা, স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড — তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর কিছুক্ষণ পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গ্যারেজের পেছনে পানিতে ভাসমান অবস্থায় আরও এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। এ বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম জানান, মরদেহটি দীর্ঘদিন আগের হওয়ায় চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে এবং এখন পর্যন্ত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, খাজানগর রেললাইনের পাশে পাওয়া যায় সিয়ামের মরদেহ। পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ছয় মাস আগে সিয়াম প্রেম করে বিয়ে করেন একই এলাকার সুমাইয়াকে। ছেলের পরিবার মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। সম্প্রতি পারিবারিক চাপে সুমাইয়াকে দিয়ে ডিভোর্স করানো হয়। মঙ্গলবার সিয়াম নিশ্চিত হন তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। এর পরদিন সকালেই দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন তিনি। মুহূর্তেই তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

তিনটি মরদেহই ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই নারী ও কিশোরের মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে এবং বিস্তারিত জানার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কুষ্টিয়ায় একদিনে তিন মরদেহ উদ্ধার : রহস্যে মোড়া দুই নারী ও এক কিশোরের মৃত্যু

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:২৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

কুষ্টিয়ায় পৃথক স্থান থেকে দুই নারী ও এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে সদর উপজেলার কোটপাড়ার বারো শরিফ দরবার এলাকা, মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনের পরিত্যক্ত জায়গা এবং খাজানগর রেললাইনের পাশ থেকে এই তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত কিশোরের নাম সিয়াম (১৫), তিনি সদর উপজেলার খাজানগর আদেরপাড়ার সাইদুরের ছেলে। তবে অপর দুই নারীর পরিচয় এখনও শনাক্ত হয়নি।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে বারো শরিফ দরবার এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এটি আত্মহত্যা, স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড — তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর কিছুক্ষণ পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গ্যারেজের পেছনে পানিতে ভাসমান অবস্থায় আরও এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। এ বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম জানান, মরদেহটি দীর্ঘদিন আগের হওয়ায় চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে এবং এখন পর্যন্ত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, খাজানগর রেললাইনের পাশে পাওয়া যায় সিয়ামের মরদেহ। পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ছয় মাস আগে সিয়াম প্রেম করে বিয়ে করেন একই এলাকার সুমাইয়াকে। ছেলের পরিবার মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি। সম্প্রতি পারিবারিক চাপে সুমাইয়াকে দিয়ে ডিভোর্স করানো হয়। মঙ্গলবার সিয়াম নিশ্চিত হন তার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে। এর পরদিন সকালেই দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন তিনি। মুহূর্তেই তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

তিনটি মরদেহই ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই নারী ও কিশোরের মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে এবং বিস্তারিত জানার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।