ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ায় মোহিনী মিলের সরকারি হাসপাতালের জায়গা দখল: ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা দাবী

কুষ্টিয়া  প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৪৮ বার পঠিত
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মোহিনী মিলের পরিত্যক্ত হাসপাতালের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, স্বৈরাচারী শাসনামলে কুষ্টিয়ার মিলপাড়া এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট রাসেল হাসপাতালটি দখল করে সেখানে অটো গ্যারেজ তৈরি করেছিলেন এবং ভাড়া দিতেন।
পরবর্তীতে রাসেল ১০টি পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদেরকে পরিত্যক্ত হাসপাতালের জায়গায় বসবাসের সুযোগ করে দেন। জানা গেছে, তিনি নিয়মিতভাবেই বাসিন্দাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ভাড়া আদায় করতেন।
গত ৫ আগস্টের পর রাসেল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলে তার আত্মীয় আরজান আলী ও স্ত্রী তাসলিমার যোগসাজশে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নিয়োগকৃত নিরাপত্তা প্রহরী রফিকুল ইসলাম বাসিন্দাদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় শুরু করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে নিরাপত্তা প্রহরী রফিকুল ইসলাম সরকারি সম্পত্তির উপর ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছেন।
সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকায় আরজান আলী নতুন করে টিনের ঘর নির্মাণ করছেন।
হাসপাতালে বসবাসরত রজব আলী মন্ডল বলেন, “আমরা ১০টি পরিবার আনসার কমান্ডারের সহযোগিতায় এখানে থাকছি।” তবে মাসিক ভাড়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরজান আলী ও তার স্ত্রী তাসলিমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে নিরাপত্তা প্রহরী রফিকুল ইসলাম ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওরা দরিদ্র মানুষ, তাই মানবিক কারণে থাকতে দিয়েছি। তবে আরজান আলী ও তার স্ত্রী সরকারি জায়গায় ঘর তুলছে, এটা আগে জানতাম না। বিষয়টি জানার পর আমি নিষেধ করেছি। নিষেধ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মোহিনী মিলের উপব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মাহবুল ইসলাম বলেন, “সরকারি জায়গার উপর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। কেউ যদি অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করে এবং এতে আমাদের কারও সহযোগিতা থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর জোর দাবি, নির্মাণাধীন অবৈধ ঘর দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে এবং সরকারি জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করায় আরজান আলী ও তাসলিমার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কুষ্টিয়ায় মোহিনী মিলের সরকারি হাসপাতালের জায়গা দখল: ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা দাবী

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মোহিনী মিলের পরিত্যক্ত হাসপাতালের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, স্বৈরাচারী শাসনামলে কুষ্টিয়ার মিলপাড়া এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট রাসেল হাসপাতালটি দখল করে সেখানে অটো গ্যারেজ তৈরি করেছিলেন এবং ভাড়া দিতেন।
পরবর্তীতে রাসেল ১০টি পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদেরকে পরিত্যক্ত হাসপাতালের জায়গায় বসবাসের সুযোগ করে দেন। জানা গেছে, তিনি নিয়মিতভাবেই বাসিন্দাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ভাড়া আদায় করতেন।
গত ৫ আগস্টের পর রাসেল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলে তার আত্মীয় আরজান আলী ও স্ত্রী তাসলিমার যোগসাজশে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নিয়োগকৃত নিরাপত্তা প্রহরী রফিকুল ইসলাম বাসিন্দাদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় শুরু করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে নিরাপত্তা প্রহরী রফিকুল ইসলাম সরকারি সম্পত্তির উপর ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছেন।
সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকায় আরজান আলী নতুন করে টিনের ঘর নির্মাণ করছেন।
হাসপাতালে বসবাসরত রজব আলী মন্ডল বলেন, “আমরা ১০টি পরিবার আনসার কমান্ডারের সহযোগিতায় এখানে থাকছি।” তবে মাসিক ভাড়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরজান আলী ও তার স্ত্রী তাসলিমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে নিরাপত্তা প্রহরী রফিকুল ইসলাম ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওরা দরিদ্র মানুষ, তাই মানবিক কারণে থাকতে দিয়েছি। তবে আরজান আলী ও তার স্ত্রী সরকারি জায়গায় ঘর তুলছে, এটা আগে জানতাম না। বিষয়টি জানার পর আমি নিষেধ করেছি। নিষেধ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মোহিনী মিলের উপব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মাহবুল ইসলাম বলেন, “সরকারি জায়গার উপর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। কেউ যদি অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করে এবং এতে আমাদের কারও সহযোগিতা থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর জোর দাবি, নির্মাণাধীন অবৈধ ঘর দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে এবং সরকারি জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ করায় আরজান আলী ও তাসলিমার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।