ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ

কুষ্টিয়া জাকির হোসেন সরকারকে ঘিরে চাপে প্রতিপক্ষ

উজ্জ্বল মাহমুদ, কুষ্টিয়া
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:২৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৯১ বার পঠিত
উজ্জ্বল মাহমুদ, কুষ্টিয়া : শেকড়ের রাজনীতি, আন্দোলনের ইতিহাস, শিল্পোদ্যোক্তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ, সব মিলিয়ে ২০২৬ নির্বাচন সামনে রেখে কুষ্টিয়া রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে জাকির হোসেন সরকার।
জেলার রাজনীতিতে কিছু নাম সময়ের সঙ্গে পোস্টার বা পদবির বাইরে গিয়ে এক ধরনের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে। মাঠের আন্দোলন, সাংগঠনিক লড়াই এবং মানুষের পাশে থাকার ধারাবাহিক উপস্থিতি যাদের পরিচয় নির্ধারণ করে। জাকির হোসেন সরকার তেমনই একটি নাম, যিনি রাজনীতিকে কেবল বক্তৃতা বা নির্বাচনী হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি।
১৯৬৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া জাকির হোসেন সরকারের রাজনৈতিক মানস গড়ে ওঠে শিক্ষক পিতার শৃঙ্খলাবান্ধব ও নৈতিক পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তার ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে ওঠে। কমলাপুর, ফিলিপনগরসহ কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক তাকে সাধারণ মানুষের খুব কাছের একজন করে তোলে, যা আজ তার রাজনৈতিক শক্তির বড় ভিত্তি।
শিক্ষাজীবনে তিনি ব্যতিক্রম। বুয়েট থেকে প্রকৌশলে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করে রাজনীতিতে যুক্ত হন বাস্তব জ্ঞান ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা নিয়ে। তার মতে, রাজনীতি শুধু স্লোগান নয়, পরিকল্পনা ও অর্থনীতির বাস্তব বোঝাপড়া ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।
শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত। সরকার স্টীল লিমিটেড, সরকার কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এবং সরকার লজিস্টিক লিমিটেডের মাধ্যমে তিনি শুধু ব্যবসা করেননি, সৃষ্টি করেছেন কর্মসংস্থান। নির্বাচনী মাঠে তার কণ্ঠে বারবার শোনা যায়, ভাতা নির্ভরতা নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমেই মানুষের ভাগ্য বদলাতে চান তিনি। এই অবস্থান কুষ্টিয়া-৩ আসনের তরুণ ও কর্মজীবী ভোটারদের মধ্যে তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
তার রাজনৈতিক জীবন সংগ্রামের ইতিহাসে ভরপুর। ছাত্রজীবনে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্য দিয়েই রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা শুরু। পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ১৪টি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষায়, তিনি কখনো দূর থেকে রাজনীতি করেননি, রাজপথেই থেকেছেন।
২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন তার নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময় গ্রাম ও শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ, নাগরিক সেবা এবং স্থানীয় প্রশাসনে কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে তার ভূমিকা এখনো আলোচিত।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। এরপর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে জেলার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি মাঠে সক্রিয়। তার রাজনৈতিক বার্তায় স্পষ্টভাবে উঠে আসছে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থানভিত্তিক উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব কুষ্টিয়া গড়ার অঙ্গীকার। তার ভাষায়, তিনি সংসদে যেতে চান ক্ষমতার জন্য নয়, কুষ্টিয়ার মানুষের কণ্ঠস্বর হতে।
বর্তমানে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে নিয়মিত গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তরুণ, শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই তার নির্বাচনী কৌশলের মূল শক্তি।
প্রকৌশলী, শিল্পোদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও রাজনীতিক, এই বহুমাত্রিক পরিচয়ের সমন্বয়ে জাকির হোসেন সরকার আজ কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। কুষ্টিয়ার মাটি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে দাঁড়ানো এই নেতা এখন আরেকটি বড় পরীক্ষার মুখে। ২০২৬ সালের নির্বাচনই বলবে, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার মূল্যায়ন জনগণ কীভাবে করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ

কুষ্টিয়া জাকির হোসেন সরকারকে ঘিরে চাপে প্রতিপক্ষ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:২৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
উজ্জ্বল মাহমুদ, কুষ্টিয়া : শেকড়ের রাজনীতি, আন্দোলনের ইতিহাস, শিল্পোদ্যোক্তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ, সব মিলিয়ে ২০২৬ নির্বাচন সামনে রেখে কুষ্টিয়া রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে জাকির হোসেন সরকার।
জেলার রাজনীতিতে কিছু নাম সময়ের সঙ্গে পোস্টার বা পদবির বাইরে গিয়ে এক ধরনের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে। মাঠের আন্দোলন, সাংগঠনিক লড়াই এবং মানুষের পাশে থাকার ধারাবাহিক উপস্থিতি যাদের পরিচয় নির্ধারণ করে। জাকির হোসেন সরকার তেমনই একটি নাম, যিনি রাজনীতিকে কেবল বক্তৃতা বা নির্বাচনী হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি।
১৯৬৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া জাকির হোসেন সরকারের রাজনৈতিক মানস গড়ে ওঠে শিক্ষক পিতার শৃঙ্খলাবান্ধব ও নৈতিক পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তার ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে ওঠে। কমলাপুর, ফিলিপনগরসহ কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক তাকে সাধারণ মানুষের খুব কাছের একজন করে তোলে, যা আজ তার রাজনৈতিক শক্তির বড় ভিত্তি।
শিক্ষাজীবনে তিনি ব্যতিক্রম। বুয়েট থেকে প্রকৌশলে স্নাতক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করে রাজনীতিতে যুক্ত হন বাস্তব জ্ঞান ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা নিয়ে। তার মতে, রাজনীতি শুধু স্লোগান নয়, পরিকল্পনা ও অর্থনীতির বাস্তব বোঝাপড়া ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।
শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত। সরকার স্টীল লিমিটেড, সরকার কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এবং সরকার লজিস্টিক লিমিটেডের মাধ্যমে তিনি শুধু ব্যবসা করেননি, সৃষ্টি করেছেন কর্মসংস্থান। নির্বাচনী মাঠে তার কণ্ঠে বারবার শোনা যায়, ভাতা নির্ভরতা নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমেই মানুষের ভাগ্য বদলাতে চান তিনি। এই অবস্থান কুষ্টিয়া-৩ আসনের তরুণ ও কর্মজীবী ভোটারদের মধ্যে তাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
তার রাজনৈতিক জীবন সংগ্রামের ইতিহাসে ভরপুর। ছাত্রজীবনে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্য দিয়েই রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা শুরু। পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ১৪টি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষায়, তিনি কখনো দূর থেকে রাজনীতি করেননি, রাজপথেই থেকেছেন।
২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন তার নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময় গ্রাম ও শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ, নাগরিক সেবা এবং স্থানীয় প্রশাসনে কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে তার ভূমিকা এখনো আলোচিত।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। এরপর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে জেলার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি মাঠে সক্রিয়। তার রাজনৈতিক বার্তায় স্পষ্টভাবে উঠে আসছে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থানভিত্তিক উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব কুষ্টিয়া গড়ার অঙ্গীকার। তার ভাষায়, তিনি সংসদে যেতে চান ক্ষমতার জন্য নয়, কুষ্টিয়ার মানুষের কণ্ঠস্বর হতে।
বর্তমানে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে নিয়মিত গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তরুণ, শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই তার নির্বাচনী কৌশলের মূল শক্তি।
প্রকৌশলী, শিল্পোদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও রাজনীতিক, এই বহুমাত্রিক পরিচয়ের সমন্বয়ে জাকির হোসেন সরকার আজ কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। কুষ্টিয়ার মাটি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে দাঁড়ানো এই নেতা এখন আরেকটি বড় পরীক্ষার মুখে। ২০২৬ সালের নির্বাচনই বলবে, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার মূল্যায়ন জনগণ কীভাবে করে।