ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ হবে: তারেক রহমান

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৬০ বার পঠিত

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে দেশের কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় রাজশাহীসহ আশপাশের জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উন্নয়নের নামে হয়েছে দুর্নীতি ও অনিয়ম। তিনি দাবি করেন, কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে উপেক্ষা করে নেওয়া নীতির কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্প বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছিল। বর্তমানে সেই প্রকল্প কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে, খাল খননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং পদ্মা নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং এ অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর বিখ্যাত আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হবে, যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায়।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা নয়, বরং শান্তির মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, অকারণ সমালোচনা নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যারা একসময় ভোটাধিকার হরণ করেছিল তারা বিদায় নিয়েছে, তবে এখনো একটি মহল নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সত্য উদঘাটনে বিএনপি সহযোগিতা করবে এবং দোষী যে-ই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার জন্য নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বিএনপির  চেয়ারম্যান হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে তিনি সর্বশেষ ২০০৪ সালে রাজশাহী সফর করেছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ হবে: তারেক রহমান

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে দেশের কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় রাজশাহীসহ আশপাশের জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উন্নয়নের নামে হয়েছে দুর্নীতি ও অনিয়ম। তিনি দাবি করেন, কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে উপেক্ষা করে নেওয়া নীতির কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্প বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছিল। বর্তমানে সেই প্রকল্প কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে, খাল খননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং পদ্মা নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং এ অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর বিখ্যাত আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হবে, যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায়।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা নয়, বরং শান্তির মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, অকারণ সমালোচনা নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যারা একসময় ভোটাধিকার হরণ করেছিল তারা বিদায় নিয়েছে, তবে এখনো একটি মহল নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সত্য উদঘাটনে বিএনপি সহযোগিতা করবে এবং দোষী যে-ই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার জন্য নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বিএনপির  চেয়ারম্যান হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে তিনি সর্বশেষ ২০০৪ সালে রাজশাহী সফর করেছিলেন।