ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
কুষ্টিয়ায় উত্তাল রাজপথ

কোকোর নাম বিকৃতির প্রতিবাদে নারীদের ঝাড়ুমিছিল

উজ্জ্বল মাহমুদ, কুষ্টিয়া
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৪২ বার পঠিত
উজ্জ্বল মাহমুদ, কুষ্টিয়া : প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে উপস্থাপনের অভিযোগে কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ও তথাকথিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন নারীরা। ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করে তাঁরা প্রকাশ্যে আমির হামজার বক্তব্যের নিন্দা জানান এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল মোড় থেকে ঝাড়ুমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি কুষ্টিয়া–ঝিনাইদহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিআরবি তেল পাম্প এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে বিক্ষোভকারীরা আমির হামজার বিরুদ্ধে স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলেন।
ঝাড়ুমিছিলের অন্যতম সংগঠক জেসমিন খাতুন বলেন, “একজন ধর্মীয় বক্তা হয়েও আমির হামজা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রয়াত কোকোর নাম বিকৃত করেছেন। এটি শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা জাতির আবেগে আঘাত। আমরা এই ধৃষ্টতা মেনে নেব না।” তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কুষ্টিয়া সদর আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজার একটি পুরোনো বক্তব্যের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে তাঁকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃতভাবে উল্লেখ করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সদর আসনের এমপি প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, “নারীদের বিক্ষোভের খবর পেয়েছি। জনগণের আবেগকে আঘাত করে যারা রাজনীতি করতে চায়, তাদের জবাব জনগণই দেবে।” তবে মিছিলটি কারা আয়োজন করেছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট মন্তব্য এড়িয়ে যান।
জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে আমির হামজার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য মানুষ একজন প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠককে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
চাপের মুখে আমির হামজা দাবি করেছেন, আলোচিত ভিডিওটি ২০২৩ সালের। পরে তিনি ফেসবুকে প্রকাশিত দুটি পৃথক ভিডিওবার্তায় দুঃখ প্রকাশ করলেও অনেকের মতে, এটি রাজনৈতিক দায় এড়ানোর চেষ্টা মাত্র। ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, এমন বক্তব্য আর কখনো না দেওয়ার নিশ্চয়তা চান বিক্ষুব্ধরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক কুষ্টিয়া সদর আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে এবং জামায়াত প্রার্থীর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কুষ্টিয়ায় উত্তাল রাজপথ

কোকোর নাম বিকৃতির প্রতিবাদে নারীদের ঝাড়ুমিছিল

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
উজ্জ্বল মাহমুদ, কুষ্টিয়া : প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে উপস্থাপনের অভিযোগে কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ও তথাকথিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন নারীরা। ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করে তাঁরা প্রকাশ্যে আমির হামজার বক্তব্যের নিন্দা জানান এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল মোড় থেকে ঝাড়ুমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি কুষ্টিয়া–ঝিনাইদহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিআরবি তেল পাম্প এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে বিক্ষোভকারীরা আমির হামজার বিরুদ্ধে স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলেন।
ঝাড়ুমিছিলের অন্যতম সংগঠক জেসমিন খাতুন বলেন, “একজন ধর্মীয় বক্তা হয়েও আমির হামজা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রয়াত কোকোর নাম বিকৃত করেছেন। এটি শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা জাতির আবেগে আঘাত। আমরা এই ধৃষ্টতা মেনে নেব না।” তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কুষ্টিয়া সদর আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজার একটি পুরোনো বক্তব্যের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে তাঁকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃতভাবে উল্লেখ করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সদর আসনের এমপি প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, “নারীদের বিক্ষোভের খবর পেয়েছি। জনগণের আবেগকে আঘাত করে যারা রাজনীতি করতে চায়, তাদের জবাব জনগণই দেবে।” তবে মিছিলটি কারা আয়োজন করেছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট মন্তব্য এড়িয়ে যান।
জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে আমির হামজার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য মানুষ একজন প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠককে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
চাপের মুখে আমির হামজা দাবি করেছেন, আলোচিত ভিডিওটি ২০২৩ সালের। পরে তিনি ফেসবুকে প্রকাশিত দুটি পৃথক ভিডিওবার্তায় দুঃখ প্রকাশ করলেও অনেকের মতে, এটি রাজনৈতিক দায় এড়ানোর চেষ্টা মাত্র। ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, এমন বক্তব্য আর কখনো না দেওয়ার নিশ্চয়তা চান বিক্ষুব্ধরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক কুষ্টিয়া সদর আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে এবং জামায়াত প্রার্থীর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।