ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পিরোজপুরে শোকের ছায়া, জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল

পিরোজপুর অফিস
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১৭:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১১৩ বার পঠিত

পিরোজপুর অফিস:: বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পিরোজপুর জেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয় নেত্রীকে হারিয়ে শোকাহত হয়ে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে শোক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝেও। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা পিরোজপুর শহরের জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। পরে সকাল ৯টা থেকে কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেতাকর্মীদের চোখে অশ্রু দেখা যায়। পিরোজপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, ভোরেই আমরা জানতে পেরেছি আমাদের দেশমাতা আর পৃথিবীতে নেই। বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন মজলুম মানুষের কণ্ঠস্বর। তার ত্যাগ ও সংগ্রামের আদর্শ আমরা যেন সামনে এগিয়ে নিতে পারি, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজকের এই সংবাদ পুরো জাতিকে শোকাহত করেছে। তিনি অসুস্থ অবস্থায়ও দল ও দেশের মানুষের খোঁজখবর নিতেন। আমরা বারবার তার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়েছি, কিন্তু যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ না দিয়েই তাকে হারাতে হলো। তার জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আকতারুজ্জামন শেখ রাহাত বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বিদেশে তার কোনো প্রভু নেই, এই দেশের মাটি ও মানুষই তার আপনজন। সামান্য আপস করলে তিনি আরাম, আয়েশে জীবন কাটাতে পারতেন, কিন্তু আপসহীন থেকে কারাবরণকেই বেছে নিয়েছেন। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক মাসুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু আমাদের নেত্রী নন, তিনি ছিলেন আমাদের মায়ের মতো। তার সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা সত্যিকার অর্থেই এতিম হয়ে গেলাম। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খায়রুল ইসলাম বাবু বলেন, গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন এক নেত্রী। তার চলে যাওয়ায় রাজনীতি হারালো এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার বলেন, এক কথায় আমরা আজ অভিভাবকহারা। আমরা যারা ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি, তার অনুপ্রেরণাতেই করেছি। শুধু আমরা নই, পুরো জাতিই আজ অভিভাবক হারালো।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পিরোজপুরে শোকের ছায়া, জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১৭:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

পিরোজপুর অফিস:: বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পিরোজপুর জেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয় নেত্রীকে হারিয়ে শোকাহত হয়ে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে শোক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝেও। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা পিরোজপুর শহরের জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। পরে সকাল ৯টা থেকে কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেতাকর্মীদের চোখে অশ্রু দেখা যায়। পিরোজপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, ভোরেই আমরা জানতে পেরেছি আমাদের দেশমাতা আর পৃথিবীতে নেই। বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন মজলুম মানুষের কণ্ঠস্বর। তার ত্যাগ ও সংগ্রামের আদর্শ আমরা যেন সামনে এগিয়ে নিতে পারি, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজকের এই সংবাদ পুরো জাতিকে শোকাহত করেছে। তিনি অসুস্থ অবস্থায়ও দল ও দেশের মানুষের খোঁজখবর নিতেন। আমরা বারবার তার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়েছি, কিন্তু যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ না দিয়েই তাকে হারাতে হলো। তার জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আকতারুজ্জামন শেখ রাহাত বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বিদেশে তার কোনো প্রভু নেই, এই দেশের মাটি ও মানুষই তার আপনজন। সামান্য আপস করলে তিনি আরাম, আয়েশে জীবন কাটাতে পারতেন, কিন্তু আপসহীন থেকে কারাবরণকেই বেছে নিয়েছেন। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক মাসুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু আমাদের নেত্রী নন, তিনি ছিলেন আমাদের মায়ের মতো। তার সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা সত্যিকার অর্থেই এতিম হয়ে গেলাম। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খায়রুল ইসলাম বাবু বলেন, গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন এক নেত্রী। তার চলে যাওয়ায় রাজনীতি হারালো এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার বলেন, এক কথায় আমরা আজ অভিভাবকহারা। আমরা যারা ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি, তার অনুপ্রেরণাতেই করেছি। শুধু আমরা নই, পুরো জাতিই আজ অভিভাবক হারালো।