ঢাকা, বাংলাদেশ। , শনিবার, ০২ মে ২০২৬

খুলনায় ‘ন্যাশনাল টেকনোলজি ট্রান্সফার প্ল্যাটফর্ম’ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালা

খুলনা প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৩৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • / ২৪৭ বার পঠিত

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিভিন্ন খাতকে একত্রিত করার লক্ষ্যে খুলনায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল টেকনোলজি ট্রান্সফার প্ল্যাটফর্ম (এনটিটিপি)’ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালা। শনিবার (৩১ মে) খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে কর্মশালাটির আয়োজন করে খ্রিস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)। কর্মশালায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও সিসিডিবির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়, যাতে ভবিষ্যতে জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
কর্মশালায় আলোচনার মূল বিষয় ছিল প্রযুক্তি হস্তান্তর, নবায়নযোগ্য শক্তি, কৃষি ও জলবায়ু অভিযোজন। গ্রুপ কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘প্রান্তিক কৃষকেরা এখনও কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারছেন না। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এনটিটিপির ধারণার সাথে একমত এবং সিসিডিবির সঙ্গে একত্রে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সিসিডিবির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জুলিয়েট কেয়া মালাকার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এখন সময় এসেছে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাঝে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির।’
সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের ইন্টেরিম কো–অর্ডিনেটর ও কৃষিবিদ মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘অনেক সময় প্রযুক্তি থাকলেও কৃষকেরা তার ব্যবহার জানেন না। এনটিটিপির মাধ্যমে আমরা তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়াতে চাই। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের সমস্যা গবেষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামিম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম। অধ্যাপক শামিম খান বলেন, ‘সিসিডিবি যে “ওয়ান ফার্ম এপ্রোচ” অনুসরণ করছে—যার মধ্যে রয়েছে কমিউনিকেশন, কো–অর্ডিনেশন, কোলাবোরেশন ও কনসিস্টেন্সি—তা বাস্তবে দেখা যায় কম। তবুও তারা যেভাবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে এই মডেল প্রয়োগ করছে, সেটি প্রশংসনীয়।’
অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্ম সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশ অনেকদূর এগোবে।’
এই আঞ্চলিক কর্মশালায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সহনশীল জনগোষ্ঠী গঠনের লক্ষ্যে সিসিডিবি এক যুগের বেশি সময় ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এনটিটিপি নামক একটি প্রযুক্তি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়ে। এই প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য—জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে এমন সরকারি, বেসরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রিত করা, যাতে জ্ঞান ও প্রযুক্তির কার্যকর আদান–প্রদান সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

খুলনায় ‘ন্যাশনাল টেকনোলজি ট্রান্সফার প্ল্যাটফর্ম’ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৩৪:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিভিন্ন খাতকে একত্রিত করার লক্ষ্যে খুলনায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল টেকনোলজি ট্রান্সফার প্ল্যাটফর্ম (এনটিটিপি)’ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালা। শনিবার (৩১ মে) খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে কর্মশালাটির আয়োজন করে খ্রিস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)। কর্মশালায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও সিসিডিবির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়, যাতে ভবিষ্যতে জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
কর্মশালায় আলোচনার মূল বিষয় ছিল প্রযুক্তি হস্তান্তর, নবায়নযোগ্য শক্তি, কৃষি ও জলবায়ু অভিযোজন। গ্রুপ কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘প্রান্তিক কৃষকেরা এখনও কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারছেন না। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এনটিটিপির ধারণার সাথে একমত এবং সিসিডিবির সঙ্গে একত্রে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সিসিডিবির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জুলিয়েট কেয়া মালাকার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এখন সময় এসেছে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাঝে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির।’
সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের ইন্টেরিম কো–অর্ডিনেটর ও কৃষিবিদ মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘অনেক সময় প্রযুক্তি থাকলেও কৃষকেরা তার ব্যবহার জানেন না। এনটিটিপির মাধ্যমে আমরা তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়াতে চাই। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের সমস্যা গবেষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামিম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম। অধ্যাপক শামিম খান বলেন, ‘সিসিডিবি যে “ওয়ান ফার্ম এপ্রোচ” অনুসরণ করছে—যার মধ্যে রয়েছে কমিউনিকেশন, কো–অর্ডিনেশন, কোলাবোরেশন ও কনসিস্টেন্সি—তা বাস্তবে দেখা যায় কম। তবুও তারা যেভাবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে এই মডেল প্রয়োগ করছে, সেটি প্রশংসনীয়।’
অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্ম সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশ অনেকদূর এগোবে।’
এই আঞ্চলিক কর্মশালায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সহনশীল জনগোষ্ঠী গঠনের লক্ষ্যে সিসিডিবি এক যুগের বেশি সময় ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এনটিটিপি নামক একটি প্রযুক্তি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়ে। এই প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য—জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে এমন সরকারি, বেসরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রিত করা, যাতে জ্ঞান ও প্রযুক্তির কার্যকর আদান–প্রদান সম্ভব হয়।