ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

গোয়ালন্দ পৌরসভার তিন কর্মকর্তা বছরের পর বছর সরকারি অফিসে বসবাস

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার পানি সরবরাহ কেন্দ্রে বিনা ভাড়ায় ফ্যান ও এসি সহ রাজকীয় জীবন যাপন করছেন গোয়ালন্দ পৌরসভার তিন কর্মকর্তা। বছরের পর বছর এখানে বসবাস করে সরকারি অর্থের অপচয় করছেন তারা অথছ সরকারি বাসা ভাড়া ঠিকই তুলছেন।

সরজমিনে গোয়ালন্দ পৌরসভার পানি শোধনাগারে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের একটি কক্ষে এসি ফ্যান ও লাইটিংসহ বসবাস করছেন গোয়ালন্দ পৌরসভার হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা রেজাউল করিম, আরেকটি কক্ষে বসবাস করছেন পৌরসভার আইইউজিআইপি এর মিউনিসিপ্যাল ইন্জিনিয়ার দীপক কুমার এবং পৌরসভার কনজার্ভেটিভ কর্মকর্তা নুর আলম। তারা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা রুম নিয়ে বিদ্যুৎ এবং বাসা ব্যাবহার করে আসছেন বিনামূল্যে। অথচ তারা কেউই পানি শোধনাগারের কাজের কোন কর্মকর্তা নন।

গোয়ালন্দ পৌরসভার হিসাব রক্ষক রেজাউল করিম বলেন, আমাকে এখানে বাড়তি দ্বায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছিল। সে কারণে তৎকালীন কর্মকর্তাকে বলেই আমি এখানে উঠেছিলাম। একটা ভাড়া ধরার কথা ছিল কিন্তু ধীর্ঘ সময় সেটা আর হয়ে উঠেনি।

জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃক কোন কর্মচারীকে কর্মস্থলে অথবা তৎনিকটস্থ মেস, হোস্টেল, রেস্ট হাউজ, ডরমেটরী বা ডাকবাংলোয় একক সীট কিংবা একক কক্ষের বরাদ্দ, এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক বাসস্থান বরাদ্দ হিসাবে গণ্য হইবে না এব এই সকল ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাড়ি ভাড়া ভাতা পাইবার অধিকারী হইবেন, তবে উক্ত একক সীট বা একক কক্ষের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া ও অন্যঅন্য আর্থিক দায় থাকে তাঁহাকে তাহা প্রদান করিতে হইবে।

এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, কর্মচারীগন ১ জুলাই ২০১৬ তারিখ হইতে নিম্ন-সারণিতে উল্লিখিত হারে মাসিক বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রাপ্য হইবেন, যথা-

মূল বেতন ৯৭০০ পর্যন্ত ৬৫% অথবা ন্যূনতম ৫৬০০ টাকা (ঢাকার সিটি কর্পোরেশন), ৫৫% অথবা ন্যূনতম ৫০০০ টাকা (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার পৌর), ৫০% অথবা ন্যূনতম ৪৫০০ টাকা (অন্যান্য স্থানের জন্য)।

গোয়ালন্দ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হেলায়েত হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। তিনি পরে বদলি হয়ে এখানে এসেছেন। এই বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ভালো বলতে পারবেন। তাছাড়া তিনি কাকে কিভাবে থাকতে দিয়েছেন তিনিই জানেন। তবে ভাড়া ছাড়া সরকারি অপচয় ভালো হয়নি বলে জানান।

গোয়ালন্দ পৌরসভার নির্বাহী মোঃ ফেরদৌস আলম খান বলেন, তাদেরকে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। এই মাসের মধ্যে তারা স্থান পরিবর্তন করবে অথবা তারা ভাড়া দিয়ে সেখানে থাকবে। আমাদের একাউন্টটেন্ট রেজাউল করিম পানি শোধনাগারে একটা অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে ছিল তার দেখাদেখি আরও দু’জন সেখানে থাকা শুরু করে। এখন সবাইকে নিষেধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে,গোয়ালন্দ নির্বাহী অফিসার ইউএনও সাইফুল হুদা জানান, যখন মেয়র নজরুল ছিলেন, তখন থেকে তারাও বসবাস করতেন,তবে আমি জানতাম না,আমি জানার পরে ব্যবস্থা নিয়েছি আগামী কালকের মধ্যে রুম ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছি।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
13 October 2026

রামকৃষ্ণপুর ডিগ্রি কলেজে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

গোয়ালন্দ পৌরসভার তিন কর্মকর্তা বছরের পর বছর সরকারি অফিসে বসবাস

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৯:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার পানি সরবরাহ কেন্দ্রে বিনা ভাড়ায় ফ্যান ও এসি সহ রাজকীয় জীবন যাপন করছেন গোয়ালন্দ পৌরসভার তিন কর্মকর্তা। বছরের পর বছর এখানে বসবাস করে সরকারি অর্থের অপচয় করছেন তারা অথছ সরকারি বাসা ভাড়া ঠিকই তুলছেন।

সরজমিনে গোয়ালন্দ পৌরসভার পানি শোধনাগারে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের একটি কক্ষে এসি ফ্যান ও লাইটিংসহ বসবাস করছেন গোয়ালন্দ পৌরসভার হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা রেজাউল করিম, আরেকটি কক্ষে বসবাস করছেন পৌরসভার আইইউজিআইপি এর মিউনিসিপ্যাল ইন্জিনিয়ার দীপক কুমার এবং পৌরসভার কনজার্ভেটিভ কর্মকর্তা নুর আলম। তারা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা রুম নিয়ে বিদ্যুৎ এবং বাসা ব্যাবহার করে আসছেন বিনামূল্যে। অথচ তারা কেউই পানি শোধনাগারের কাজের কোন কর্মকর্তা নন।

গোয়ালন্দ পৌরসভার হিসাব রক্ষক রেজাউল করিম বলেন, আমাকে এখানে বাড়তি দ্বায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছিল। সে কারণে তৎকালীন কর্মকর্তাকে বলেই আমি এখানে উঠেছিলাম। একটা ভাড়া ধরার কথা ছিল কিন্তু ধীর্ঘ সময় সেটা আর হয়ে উঠেনি।

জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃক কোন কর্মচারীকে কর্মস্থলে অথবা তৎনিকটস্থ মেস, হোস্টেল, রেস্ট হাউজ, ডরমেটরী বা ডাকবাংলোয় একক সীট কিংবা একক কক্ষের বরাদ্দ, এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক বাসস্থান বরাদ্দ হিসাবে গণ্য হইবে না এব এই সকল ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাড়ি ভাড়া ভাতা পাইবার অধিকারী হইবেন, তবে উক্ত একক সীট বা একক কক্ষের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া ও অন্যঅন্য আর্থিক দায় থাকে তাঁহাকে তাহা প্রদান করিতে হইবে।

এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, কর্মচারীগন ১ জুলাই ২০১৬ তারিখ হইতে নিম্ন-সারণিতে উল্লিখিত হারে মাসিক বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রাপ্য হইবেন, যথা-

মূল বেতন ৯৭০০ পর্যন্ত ৬৫% অথবা ন্যূনতম ৫৬০০ টাকা (ঢাকার সিটি কর্পোরেশন), ৫৫% অথবা ন্যূনতম ৫০০০ টাকা (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার পৌর), ৫০% অথবা ন্যূনতম ৪৫০০ টাকা (অন্যান্য স্থানের জন্য)।

গোয়ালন্দ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হেলায়েত হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না। তিনি পরে বদলি হয়ে এখানে এসেছেন। এই বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ভালো বলতে পারবেন। তাছাড়া তিনি কাকে কিভাবে থাকতে দিয়েছেন তিনিই জানেন। তবে ভাড়া ছাড়া সরকারি অপচয় ভালো হয়নি বলে জানান।

গোয়ালন্দ পৌরসভার নির্বাহী মোঃ ফেরদৌস আলম খান বলেন, তাদেরকে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। এই মাসের মধ্যে তারা স্থান পরিবর্তন করবে অথবা তারা ভাড়া দিয়ে সেখানে থাকবে। আমাদের একাউন্টটেন্ট রেজাউল করিম পানি শোধনাগারে একটা অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে ছিল তার দেখাদেখি আরও দু’জন সেখানে থাকা শুরু করে। এখন সবাইকে নিষেধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে,গোয়ালন্দ নির্বাহী অফিসার ইউএনও সাইফুল হুদা জানান, যখন মেয়র নজরুল ছিলেন, তখন থেকে তারাও বসবাস করতেন,তবে আমি জানতাম না,আমি জানার পরে ব্যবস্থা নিয়েছি আগামী কালকের মধ্যে রুম ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছি।

Share this news as a Photo Card