উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে জলবায়ু, পরিবেশ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে একটি স্থানীয় জলবায়ু নেটওয়ার্ক গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার রামদাস ধনি রাম এলাকার, কুড়িগ্রাম চিলমারী রোডে অবস্থিত নারী অ্যাসোসিয়েট ফর রিভাইটাল অ্যান্ড ইউনিফাইড-নারী (NARI)-এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। Climate Justice Resilience Fund (CJRF)-এর আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত “Community Action for Climate Justice and Networking” প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নারী অ্যাসোসিয়েট ফর রিভাইটাল অ্যান্ড ইউনিফাইড-নারী (NARI)।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী অ্যাসোসিয়েট ফর রিভাইটাল অ্যান্ড ইউনিফাইড-নারীর নির্বাহী পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন। এতে বক্তব্য রাখেন এসো দেশ গড়ি উলিপুর উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ আলম, বাংলাদেশ বন্ধু (এডিএম)-এর মো. গোলাম আজম, আব্দুস সালাম, আপেল মাহমুদ ও চিন্ময় বর্মন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নারী সংস্থার অফিস সহায়ক প্রতিমা রানী, অ্যাকাউন্টেন্ট ইমরান আলী, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত নারী উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। এর ফলে নদীভাঙন, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, ফসলহানি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়সহ নানা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধি, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জলবায়ু কর্মসূচি গ্রহণ ও জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে একটি নেটওয়ার্ক গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ নেটওয়ার্কে জলবায়ু, পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জৈব কৃষি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গ, পরিবেশবিষয়ক গবেষণা, প্রতিবেদন প্রণয়ন ও প্রচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বায়োগ্যাস, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সদস্য হতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে দুই থেকে তিনটি সভা শেষে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। নেটওয়ার্কের সদস্যসংখ্যা ও কার্যপরিধি পরবর্তী সভায় চূড়ান্ত করা হবে বলে জানানো হয়।
আয়োজকরা জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অভিযোজন কৌশল, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কার্যকর জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা, অংশীদারিত্ব এবং সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। নারীর নেতৃত্ব বিকাশ, স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও তরুণদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি জলবায়ু-সহনশীল, নিরাপদ ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইন ও নবগঠিত নেটওয়ার্ক স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি, সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 



















