ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সওজের জলাধার ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ

ঝালকাঠি পৌরসভার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৯ বার পঠিত
আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:   ঝালকাঠি পৌরসভা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জলাধার ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের কাজ শুরু করায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই এ নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ টাকা ব্যয়ে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পৌরসভা। সম্প্রতি কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। ঠিকাদার মাহমুদুল ইসলাম বলেন, তিনি কাজের অনুমতি পাওয়ার পরই নির্মাণ শুরু করেছেন, জমির মালিকানার বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষ দেখছে।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ১৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০ বাস্তবায়নসংক্রান্ত সভায় বিষয়টি তুলে ধরেন সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান।
একই দিনে তিনি জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে এ স্থানে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ না করার অনুরোধ জানান।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর-বাগেরহাট-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সওজের অধিগ্রহণকৃত জমি প্রয়োজন হবে। অনুমতি ছাড়া এ জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা আইনসম্মত নয় এবং ভূমি ব্যবহার নীতিমালা-২০১৫ অনুযায়ী পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক।
জানা গেছে, কৃষ্ণকাঠি মৌজার এ জমিটি সওজ অধিগ্রহণ করে এবং সেখানে একটি জলাধার রয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী জলাধার ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন নিষিদ্ধ। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ঝালকাঠির সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা বলেন, জলাধার ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের বিষয়ে তাদের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
আইন অনুযায়ী, জলাধার সংরক্ষণ বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ খরচে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনাও থাকতে পারে।
পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, শহরের জন্য একটি ট্রাকস্ট্যান্ড অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হওয়ায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

সওজের জলাধার ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ

ঝালকাঠি পৌরসভার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:   ঝালকাঠি পৌরসভা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জলাধার ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের কাজ শুরু করায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই এ নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ টাকা ব্যয়ে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পৌরসভা। সম্প্রতি কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। ঠিকাদার মাহমুদুল ইসলাম বলেন, তিনি কাজের অনুমতি পাওয়ার পরই নির্মাণ শুরু করেছেন, জমির মালিকানার বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষ দেখছে।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ১৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান-২০৪০ বাস্তবায়নসংক্রান্ত সভায় বিষয়টি তুলে ধরেন সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান।
একই দিনে তিনি জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে এ স্থানে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ না করার অনুরোধ জানান।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর-বাগেরহাট-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সওজের অধিগ্রহণকৃত জমি প্রয়োজন হবে। অনুমতি ছাড়া এ জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা আইনসম্মত নয় এবং ভূমি ব্যবহার নীতিমালা-২০১৫ অনুযায়ী পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক।
জানা গেছে, কৃষ্ণকাঠি মৌজার এ জমিটি সওজ অধিগ্রহণ করে এবং সেখানে একটি জলাধার রয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী জলাধার ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন নিষিদ্ধ। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ঝালকাঠির সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা বলেন, জলাধার ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের বিষয়ে তাদের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
আইন অনুযায়ী, জলাধার সংরক্ষণ বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ খরচে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনাও থাকতে পারে।
পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, শহরের জন্য একটি ট্রাকস্ট্যান্ড অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হওয়ায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।