টঙ্গীতে ক্যামিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডের পর বন্ধ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২৭৬ বার পঠিত

টঙ্গীর বিসিক অঞ্চলের সাহারা মার্কেটে ফেমাস ক্যামিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে বন্ধ রয়েছে টঙ্গীর রাসায়নিক মার্কেটখ্যাত সমবায় কমপ্লেক্সসহ আশপাশের আবাসিক এলাকার প্রায় অর্ধশত ক্যামিকেল দোকান এবং গোডাউন। আবাসিক ও বানিজ্যিক এলাকায় প্রতিষ্ঠিত প্রায় অর্ধশত শত ক্যামিকেল দোকানের পাইকারি এসব দোকান বা গোডাউন কতটা ঝুকিপূর্ণ সাহারা মার্কেটস্থ ফেমাস ক্যামিক্যাল ঘিরে চলছে আলোচনা। কোনো দুর্ঘটনা হলে আবাসিক বাসিন্দারা কতটুকু নিরাপদ থাকতে পারবেন তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
বিসিক, সাতরং গেইট, হাফিজ উদ্দিন বেপারী রোড, নতুন বাজার সমবায় মার্কেট ঘুরে এ তথ্য জানা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী স্টেশন রোডে অবস্থিত সমবায় কমপ্লেক্স মার্কেট। আবাসিক এলাকার সঙ্গেই তিন তলা বিশিষ্ট এই ভবনে শতাধিক ক্যামিকেল গোডাউন বা দোকান রয়েছে এখানে। এছাড়া হাফিজ উদ্দিন বেপারী েরাড বা ড্রামের গলি নামে পরিচিত রোডে একাধিক বাসাবাড়িতে ক্যামিকেল তৈরি বা গুদামজ্ত করা হয়। অপরদিকে সাতরং গেইট এলাকা, সাহারা মার্কেট, তিতাসগ্যাস রোডেও রয়েছে ক্যামিকেলের দোকান। এসব এলাকায় সালফার এসিড, হাইড্রোস আমদানী রপ্তানি করা হয় অনেকটা ঝুকিপূর্ণ ভাবে।
এসব দোকান বা গোডাউন থেকে পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ক্যামিকেল পদার্থ। দোকানগুলোর একাধিক কর্মচারীর জানায়, কোনো দোকানেই অভিজ্ঞ কর্মচারী বা কর্মকর্তা নেই। কোন ক্যামিকেল কিভাবে বহন বা সরবরাহ করতে হয়, সে সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা নেই অনেকের।
২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে দেখা যায়, কয়েকজন দিনমুজুর এবং অটোচালক হাফিজ উদ্দিন বেপারী রোডের একটি অভিজাত বাসার ভেতর থেকে হাইড্রোজ জাতীয় তরল পদার্থ অত্যন্ত সাদা ড্রামে করে ঝুকিপূর্ণ ভাবে ইজিবাইকে উঠিয়ে স্থান ত্যাগ করা হচ্ছে।
একাধিক সূত্র জানায়, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) টঙ্গীতে বৃষ্টির মধ্যে একটি গাড়ি ভর্তি কয়েক টন রাসায়নিক পদার্থ আসে ফেমাস কেমিক্যালের গুদামে তারপরই এ দূর্ঘটনা ঘটে। এসময় আগুনে পুড়ে যায় প্রায় ৩কোটি টাকা মূল্যের কয়েক প্রকার ক্যামিকেল। এসময় আগুন নেভাতে গিয়ে পথচারী আশিক (১৭) সহ ৪ ফায়ারকর্মী আগুনে ঝলসে যায়। ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক জান্নাতুল নাঈম, নুরুল হুদা, জয় হাসান, সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহিন আলম ও দোকান কর্মচারী বাবু হাওলাদার, গোডাউন কর্মচারী লিটন । এদের মধ্যে গত মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ এবং বুধবার দুপুর আড়াইটায় নুরুল হুদা, মৃত্যু বরণ করেন।
জানা গেছে, টঙ্গীর সাহারা মার্কেটের ফেমাস কেমিক্যালে বিস্ফোরণের পর থেকে স্থানীয় সর্ববৃহৎ সমবায় কমপ্লেক্সের ক্যামিকেল মার্কেটটি বন্ধ রয়েছে। তবে কৌশলে দোকানের ক্ষতিকর দাহ্য পদার্থ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই সরানোর কাজ শেষ হলে মার্কেটটি খোলা হবে বলে একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।
টঙ্গী সমবায় কমপ্লেক্স কেমিক্যাল মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আল মদিনা কেমিক্যালের মালিক জলিলুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী ফেমাস কেমিক্যালে দুর্ঘটনার কারণে শোক প্রকাশ করা হচ্ছে। শোক পালনের অংশ হিসেবে মার্কেট বন্ধ রাখা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে মার্কেট খুলে দেয়া হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কেমিক্যাল ব্যবসায়ী বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। গত সোমবার বৃষ্টির মধ্যে ফেমাস কেমিক্যালের এক গাড়ি হাইড্রোস ও সালফার আসে। বৃষ্টির মধ্যে এসব জিনিস পানিতে ভিজে যায়। এই কারণেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে আমাদের ধারনা।
ঘটনার দিন রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক ছালেহ উদ্দিন বলেন, গুদামটিতে সোডিয়াম বাই কার্বোনেট, স্ট্রোন, সোডা, ব্লিসিং পাউডার, মেটা হাইড্রোসহ এমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু কেমিক্যাল ছিল। এসব কেমিক্যাল যেভাবে রাখা প্রয়োজন অর্থাৎ হাউস কিপিং করা ছিল না। আমরা মালিকপক্ষ বা ভাড়াটিয়া যারা রয়েছে তাদের খুঁজছি, তাদের পেলে আমরা ভেতরের সব কেমিক্যাল সম্পর্কে তথ্য জানা যেতো।
উল্লেখ্য : সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সাড়ে তিনটায় টঙ্গী বিসিকের পাশে সাহারা মার্কেটে ফেমাস কেমিক্যাল গোডাউনে ক্যামিকেলের ড্রাম বিস্ফোরনে আগুন লাগে বলে জানা যায় । খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের ৫৩ জন সদস্য আগুন নিয়ন্ত্রণে করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিতে থাকা কেমিক্যালের ড্রাম বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসের ৪ জন ও স্থানীয় একজনসহ ৫ জন অগ্নিদ্বগ্ধ হয়।


















