ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

টঙ্গীতে মহাসড়ক ছাড়লেন বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা, যান চলাচল শুরু

মৃণাল চৌধুরী সৈকত
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৬০ বার পঠিত
পাওনা আদায়ের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের প্রায় এক ঘণ্টা পর সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে এ অবরোধ শুরু করেছিলেন টঙ্গীর খাঁ-পাড়া এলাকার সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেডের শ্রমিকরা। পরে বেলা ১১টার দিকে তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেড কারখানায় দেড় হাজার শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার সকালে কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে মার্চ মাসের বকেয়া ২০ দিনের বেতনের দাবি জানান শ্রমিকরা। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ বকেয়া বেতন পরিশোধের তারিখ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে না পারায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে স্লোগান দিয়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে তারা।

পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা এতে কর্ণপাত করেনি। পরে পৌনে ১১টার দিকে শিল্প পুলিশ তিনটি সাউণ্ড গ্রেনেড, দুই রাউন্ড টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে  শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের টঙ্গী জোনের পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন বলেন, শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। এখন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
##

টঙ্গী যমুনা গার্মেন্সে শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার-৭,  আবারো-৭৫ শ্রমিক ছাঁটাই

মৃণাল চৌধুরী সৈকত

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলীতে অবস্থিত যমুনা অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকদের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কারখানাটির ম্যানেজার সোলায়মান কবির বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আর রাতেই সেই মামলায় ৭জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আশরাফুল ইসলাম (২০), শাকিব খান (২৫), শাকিল (২৬), মনির হোসেন (২৪), সুমন মিয়া (২৮), জয় মিয়া (২২) ও আরিফুল ইসলাম  হাকিম (৩৮)। বুধবার টঙ্গী পূর্ব থানা সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিকে, সংঘর্ষের পর আরও ৭৫ শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এর আগে কারখানাটির ১১৪ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছিল। যার জেরে ছাঁটাইকৃত ও নিয়মিত শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

থানা সূত্র জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনার দিন রাতেই যমুনা অ্যাপারেলস লিমিটেডের এডমিন ম্যানেজার সোলায়মান কবির ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন। এতে আরও ১৮৯ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা অ্যাপারেলস লিমিটেডে দুই হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন। গত ২২ এপ্রিল কর্তৃপক্ষ ১১৪ শ্রমিককে ছাঁটাই করে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেন। এরপর থেকে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে নিয়মিত শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করে আসছেন।

উল্লেখ্য : মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা স্বপ্রণোদিতভাবে কাজে আসলে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকেরা এতে বাধা দেন। এতে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ পরিস্থিতিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সাত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

টঙ্গীতে মহাসড়ক ছাড়লেন বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা, যান চলাচল শুরু

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
পাওনা আদায়ের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের প্রায় এক ঘণ্টা পর সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে এ অবরোধ শুরু করেছিলেন টঙ্গীর খাঁ-পাড়া এলাকার সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেডের শ্রমিকরা। পরে বেলা ১১টার দিকে তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেড কারখানায় দেড় হাজার শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার সকালে কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে মার্চ মাসের বকেয়া ২০ দিনের বেতনের দাবি জানান শ্রমিকরা। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ বকেয়া বেতন পরিশোধের তারিখ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে না পারায় শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে স্লোগান দিয়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে তারা।

পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা এতে কর্ণপাত করেনি। পরে পৌনে ১১টার দিকে শিল্প পুলিশ তিনটি সাউণ্ড গ্রেনেড, দুই রাউন্ড টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে  শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের টঙ্গী জোনের পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন বলেন, শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। এখন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
##

টঙ্গী যমুনা গার্মেন্সে শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার-৭,  আবারো-৭৫ শ্রমিক ছাঁটাই

মৃণাল চৌধুরী সৈকত

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলীতে অবস্থিত যমুনা অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকদের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কারখানাটির ম্যানেজার সোলায়মান কবির বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আর রাতেই সেই মামলায় ৭জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আশরাফুল ইসলাম (২০), শাকিব খান (২৫), শাকিল (২৬), মনির হোসেন (২৪), সুমন মিয়া (২৮), জয় মিয়া (২২) ও আরিফুল ইসলাম  হাকিম (৩৮)। বুধবার টঙ্গী পূর্ব থানা সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিকে, সংঘর্ষের পর আরও ৭৫ শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এর আগে কারখানাটির ১১৪ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছিল। যার জেরে ছাঁটাইকৃত ও নিয়মিত শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

থানা সূত্র জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনার দিন রাতেই যমুনা অ্যাপারেলস লিমিটেডের এডমিন ম্যানেজার সোলায়মান কবির ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন। এতে আরও ১৮৯ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা অ্যাপারেলস লিমিটেডে দুই হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন। গত ২২ এপ্রিল কর্তৃপক্ষ ১১৪ শ্রমিককে ছাঁটাই করে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেন। এরপর থেকে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে নিয়মিত শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করে আসছেন।

উল্লেখ্য : মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা স্বপ্রণোদিতভাবে কাজে আসলে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকেরা এতে বাধা দেন। এতে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ পরিস্থিতিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সাত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।