ঢাকা রাজপথে অসহায় দ্বীনি মুরুব্বীর পাশে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৭৫ বার পঠিত

প্রতিবেদক, হাসান মামুন :: ঢাকার ব্যস্ত রাজপথে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কর্মব্যস্ত জীবনের তাগিদে ছুটে চলেন। এই যান্ত্রিক নগরজীবনের ভিড়েও যে মানবতা এখনও জাগ্রত রয়েছে, তার এক উজ্জ্বল ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সমাজ সংস্কারক ও দ্বীনি চেতনায় অনুপ্রাণিত মানবতার ফেরিওয়ালা শফিকুল ইসলাম লাভলু। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বরাবো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত এক অসহায় পথচারী বৃদ্ধকে তিনি পিতৃস্নেহে আগলে রেখে নিয়মিত সেবা ও যত্ন করে আসছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় ওই বৃদ্ধের হাত ও পায়ে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। চিকিৎসার অভাবে ক্ষতস্থানে পচন ধরে এবং পোকা সৃষ্টি হয়। এমন মানবিক সংকটের মুহূর্তে শফিকুল ইসলাম লাভলু ও তাঁর সহযোগীরা নিয়মিত চিকিৎসা, পরিচর্যা ও খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে বৃদ্ধটির সুস্থতা নিশ্চিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই বৃদ্ধ সাধারণত কারো কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেন না। কেউ জোর করে টাকা দিতে চাইলে তিনি তা ফেলে দেন। তবে সমাজকর্মী লাভলু নিজ হাতে খাবার খাওয়ালে তবেই তিনি আহার গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের এই নিঃস্বার্থ ও একনিষ্ঠ সেবার কারণে শফিকুল ইসলাম লাভলু বর্তমানে এলাকাবাসীর কাছে একজন মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। বিষয়টি এ প্রতিবেদকের নজরে এলে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ঘটনাস্থলের কিছু ভিডিওচিত্র ধারণ করা সম্ভব হয়। স্থানীয়দের মতে, ওই অসহায় বৃদ্ধ এখন এলাকার মানুষের আপনজনের মতো হয়ে উঠেছেন। অনেক সময় তাঁর কণ্ঠে ভেসে আসে হৃদয়স্পর্শী গজল ও নাত, যেখানে আল্লাহ তায়ালা ও প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মরণ উচ্চারিত হয়। তাঁর এই কণ্ঠস্বর পথচারীদের মাঝেও এক ধরনের আত্মিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির সৃষ্টি করে বলে জানান তারা। এ বিষয়ে সমাজ সংস্কারক শফিকুল ইসলাম লাভলু বলেন, এই স্থানটিই এখন এই দ্বীনি মুরুব্বীর ঠিকানা। আল্লাহ না করুন, যদি এখানেই তাঁর ইন্তেকাল হয়, তবে তাঁর দাফনের ব্যবস্থা যথাযথভাবে করা হবে। কারণ তিনি এখন আমাদের কাছে একজন সম্মানিত দ্বীনি মুরুব্বী এবং একটি আমানত। ইসলামের দৃষ্টিতে অসহায়, বৃদ্ধ ও বিপন্ন মানুষের সেবা করা মহান ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এই মানবিক উদ্যোগ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মানবতার সেবা কেবল সামাজিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ। সমাজে যদি আরও এমন মানুষ এগিয়ে আসেন, তবে অবহেলিত ও অসহায় মানুষের জীবনেও নতুন করে আশার আলো জ্বলে উঠবে।


















