ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

তিন যুগ পেরিয়েও অবহেলায় ঐতিহ্যবাহী মডার্ন বক্সিং ক্লাব

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৭৫ বার পঠিত
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহীকে বলা হয় বাংলাদেশের বক্সিংয়ের আঁতুড়ঘর। দেশের বক্সিং ইতিহাসে এই শহরের নাম বারবার উঠে এসেছে সাফল্য, পদক এবং গৌরবের গল্পে। রাজশাহীর সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হলো মডার্ন বক্সিং ক্লাব। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে বক্সার তৈরি করে আসছে। তবে দীর্ঘ ৩৬ বছর পার হলেও ক্লাবটি এখনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নানা সংকটে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রশিক্ষণের ভিত্তি মডার্ন বক্সিং ক্লাবের পথচলা শুরু হয় রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত প্রশিক্ষক আবু সুফিয়ান চিশতি বাবু-এর হাত ধরে। প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে তার তত্ত্বাবধানেই ক্লাবটি যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ক্লাবটি রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাফিলিয়েটেড ক্লাব হিসেবেও নিবন্ধিত হয়, যা প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
ক্লাবের প্রাথমিক উন্নয়ন ও বক্সিং প্রশিক্ষণের ভিত্তি তৈরিতে আবু সুফিয়ান চিশতি বাবুর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ক্লাব সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর খুলনা আঞ্চলিক শাখায় ডেপুটি ডিরেক্টর (ডিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজশাহী ও দেশের বক্সিং ইতিহাসে স্মরণীয় অধ্যায়:
বাংলাদেশের বক্সিং ইতিহাসে রাজশাহীর নাম সবচেয়ে বড়ভাবে আলোচিত হয় ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমস-এ। ওই আসরে দেশের জন্য প্রথম পদক এনে দেন মোশাররফ হোসেন। তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্তও হন। তার অর্জন রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রজন্মের বক্সারদের অনুপ্রাণিত করে এবং একসময় রাজশাহী পরিচিতি পায় বক্সিংয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে।
সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই মডার্ন বক্সিং ক্লাব যুগ যুগ ধরে বক্সার তৈরি করে চলেছে। ক্লাব সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এই ক্লাবের ভূমিকা অপরিসীম।
শফিউল আজম মাসুদের নেতৃত্বে ক্লাব পরিচালনা:
বর্তমানে ক্লাবটির প্রধান প্রশিক্ষক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শফিউল আজম মাসুদ। তিনি জানান, ১৯৯১ সালে খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাবে যুক্ত হন। এরপর দীর্ঘদিন খেলোয়াড় হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ২০০০ সাল থেকে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, “রাজশাহীকে ‘সিটি অব বক্সিং’ বলা হয়। এই খেতাব অর্জনের পেছনে মডার্ন বক্সিং ক্লাবের অবদান অনেক। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আমাদের নানা সংকটে পড়তে হচ্ছে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে বক্সিংয়ের সম্ভাবনা প্রচুর, কিন্তু প্রয়োজনীয় সহায়তা না থাকায় সেই সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য—ক্লাবের তৈরি বক্সাররা। ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, মডার্ন বক্সিং ক্লাব থেকে উঠে আসা বহু বক্সার দেশের হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন। ক্লাব থেকে উঠে আসা উল্লেখযোগ্য বক্সারদের মধ্যে রয়েছেন— ইসরাফিল (আন্তর্জাতিক পদকজয়ী, বর্তমানে সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) নাদিম হোসেন (বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী) মাহমুদ আলী মিঠু, জনি, আলামিন, আরিফ।
এছাড়া বর্তমান প্রজন্মের অনেক খেলোয়াড়ও জাতীয় পর্যায়ে ভালো করছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— আবু তালহা, রবিন, জাহিদুল, উৎসব, লিমন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি বছরই ক্লাব থেকে অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কেউ কেউ সাফল্য অর্জন করছে। ফলে রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে ক্লাবটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
স্বল্প ফিতে প্রশিক্ষণ, কিন্তু ব্যয় বাড়ছে বহুগুণ। বর্তমানে ক্লাবটিতে প্রায় ১০০ জন ছেলে-মেয়ে নিয়মিত অনুশীলন করছে। ক্লাবটি মূলত সাধারণ পরিবারের শিশু-কিশোরদের খেলায় যুক্ত করতে কম খরচে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখেছে।
ক্লাবের নির্ধারিত ফি— ভর্তি ফি: ৩০০ টাকা, খুদে বক্সারদের মাসিক ফি: ৩০ টাকা, বড়দের মাসিক ফি: ৫০ টাকা। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ বলছেন, বর্তমান বাজারে খেলার সরঞ্জাম ও পরিচালন ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে এত কম ফিতে ক্লাব চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরঞ্জামের খরচ—শিক্ষার্থীদের বড় অংশ কিনতে পারে না। বক্সিং খেলায় প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া অনুশীলন করা প্রায় অসম্ভব। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে— একজোড়া গ্লাভসের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা, টিথ গার্ডের দাম ৩০০ টাকা, ব্যান্ডেজের দাম ৫০০ টাকা।
ক্লাবের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী এসব সরঞ্জাম নিজে কিনতে পারে না। ফলে অনেক সময় ক্লাবকেই তাদের সহায়তা করতে হয়। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এই সহায়তা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।
তিন যুগ পেরিয়েও উন্নয়ন নেই—হতাশ সংশ্লিষ্টরা।
ক্লাব সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছর পার হলেও ক্লাবটির অবকাঠামো উন্নয়ন বা স্থায়ী আর্থিক সহায়তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাদের মতে, রাজশাহীর মতো বক্সিং ঐতিহ্যবাহী শহরে এমন একটি ক্লাব বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকাটা দুঃখজনক।
তারা বলেন, শুধু ক্লাব নয়—এটি রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ। এই ক্লাব টিকে থাকলে রাজশাহীর বক্সিংও শক্তিশালী থাকবে, আর দেশ পাবে নতুন নতুন প্রতিভাবান বক্সার।
রাজশাহীর ঐতিহ্য বাঁচাতে পৃষ্ঠপোষকতার দাবি
ক্লাব কর্তৃপক্ষ, প্রশিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টরা রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ক্লাবকে সহায়তা করা মানে কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা নয়—বরং রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা এবং দেশের জন্য ভবিষ্যৎ বক্সার তৈরি করার পথকে শক্তিশালী করা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

তিন যুগ পেরিয়েও অবহেলায় ঐতিহ্যবাহী মডার্ন বক্সিং ক্লাব

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:১৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহীকে বলা হয় বাংলাদেশের বক্সিংয়ের আঁতুড়ঘর। দেশের বক্সিং ইতিহাসে এই শহরের নাম বারবার উঠে এসেছে সাফল্য, পদক এবং গৌরবের গল্পে। রাজশাহীর সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হলো মডার্ন বক্সিং ক্লাব। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে বক্সার তৈরি করে আসছে। তবে দীর্ঘ ৩৬ বছর পার হলেও ক্লাবটি এখনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নানা সংকটে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রশিক্ষণের ভিত্তি মডার্ন বক্সিং ক্লাবের পথচলা শুরু হয় রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত প্রশিক্ষক আবু সুফিয়ান চিশতি বাবু-এর হাত ধরে। প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে তার তত্ত্বাবধানেই ক্লাবটি যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ক্লাবটি রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাফিলিয়েটেড ক্লাব হিসেবেও নিবন্ধিত হয়, যা প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
ক্লাবের প্রাথমিক উন্নয়ন ও বক্সিং প্রশিক্ষণের ভিত্তি তৈরিতে আবু সুফিয়ান চিশতি বাবুর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ক্লাব সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর খুলনা আঞ্চলিক শাখায় ডেপুটি ডিরেক্টর (ডিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজশাহী ও দেশের বক্সিং ইতিহাসে স্মরণীয় অধ্যায়:
বাংলাদেশের বক্সিং ইতিহাসে রাজশাহীর নাম সবচেয়ে বড়ভাবে আলোচিত হয় ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমস-এ। ওই আসরে দেশের জন্য প্রথম পদক এনে দেন মোশাররফ হোসেন। তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্তও হন। তার অর্জন রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রজন্মের বক্সারদের অনুপ্রাণিত করে এবং একসময় রাজশাহী পরিচিতি পায় বক্সিংয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে।
সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই মডার্ন বক্সিং ক্লাব যুগ যুগ ধরে বক্সার তৈরি করে চলেছে। ক্লাব সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এই ক্লাবের ভূমিকা অপরিসীম।
শফিউল আজম মাসুদের নেতৃত্বে ক্লাব পরিচালনা:
বর্তমানে ক্লাবটির প্রধান প্রশিক্ষক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শফিউল আজম মাসুদ। তিনি জানান, ১৯৯১ সালে খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাবে যুক্ত হন। এরপর দীর্ঘদিন খেলোয়াড় হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ২০০০ সাল থেকে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, “রাজশাহীকে ‘সিটি অব বক্সিং’ বলা হয়। এই খেতাব অর্জনের পেছনে মডার্ন বক্সিং ক্লাবের অবদান অনেক। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আমাদের নানা সংকটে পড়তে হচ্ছে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে বক্সিংয়ের সম্ভাবনা প্রচুর, কিন্তু প্রয়োজনীয় সহায়তা না থাকায় সেই সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য—ক্লাবের তৈরি বক্সাররা। ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, মডার্ন বক্সিং ক্লাব থেকে উঠে আসা বহু বক্সার দেশের হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন। ক্লাব থেকে উঠে আসা উল্লেখযোগ্য বক্সারদের মধ্যে রয়েছেন— ইসরাফিল (আন্তর্জাতিক পদকজয়ী, বর্তমানে সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) নাদিম হোসেন (বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী) মাহমুদ আলী মিঠু, জনি, আলামিন, আরিফ।
এছাড়া বর্তমান প্রজন্মের অনেক খেলোয়াড়ও জাতীয় পর্যায়ে ভালো করছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— আবু তালহা, রবিন, জাহিদুল, উৎসব, লিমন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতি বছরই ক্লাব থেকে অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কেউ কেউ সাফল্য অর্জন করছে। ফলে রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে ক্লাবটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
স্বল্প ফিতে প্রশিক্ষণ, কিন্তু ব্যয় বাড়ছে বহুগুণ। বর্তমানে ক্লাবটিতে প্রায় ১০০ জন ছেলে-মেয়ে নিয়মিত অনুশীলন করছে। ক্লাবটি মূলত সাধারণ পরিবারের শিশু-কিশোরদের খেলায় যুক্ত করতে কম খরচে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখেছে।
ক্লাবের নির্ধারিত ফি— ভর্তি ফি: ৩০০ টাকা, খুদে বক্সারদের মাসিক ফি: ৩০ টাকা, বড়দের মাসিক ফি: ৫০ টাকা। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ বলছেন, বর্তমান বাজারে খেলার সরঞ্জাম ও পরিচালন ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে এত কম ফিতে ক্লাব চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরঞ্জামের খরচ—শিক্ষার্থীদের বড় অংশ কিনতে পারে না। বক্সিং খেলায় প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া অনুশীলন করা প্রায় অসম্ভব। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে— একজোড়া গ্লাভসের দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা, টিথ গার্ডের দাম ৩০০ টাকা, ব্যান্ডেজের দাম ৫০০ টাকা।
ক্লাবের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী এসব সরঞ্জাম নিজে কিনতে পারে না। ফলে অনেক সময় ক্লাবকেই তাদের সহায়তা করতে হয়। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এই সহায়তা দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।
তিন যুগ পেরিয়েও উন্নয়ন নেই—হতাশ সংশ্লিষ্টরা।
ক্লাব সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছর পার হলেও ক্লাবটির অবকাঠামো উন্নয়ন বা স্থায়ী আর্থিক সহায়তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাদের মতে, রাজশাহীর মতো বক্সিং ঐতিহ্যবাহী শহরে এমন একটি ক্লাব বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকাটা দুঃখজনক।
তারা বলেন, শুধু ক্লাব নয়—এটি রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ। এই ক্লাব টিকে থাকলে রাজশাহীর বক্সিংও শক্তিশালী থাকবে, আর দেশ পাবে নতুন নতুন প্রতিভাবান বক্সার।
রাজশাহীর ঐতিহ্য বাঁচাতে পৃষ্ঠপোষকতার দাবি
ক্লাব কর্তৃপক্ষ, প্রশিক্ষক এবং সংশ্লিষ্টরা রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ক্লাবকে সহায়তা করা মানে কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা নয়—বরং রাজশাহীর বক্সিং ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা এবং দেশের জন্য ভবিষ্যৎ বক্সার তৈরি করার পথকে শক্তিশালী করা।