ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় মহিলা কর্মীদের উপর বিএনপির বাঁধা

নূরুজ্জামান, পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:০৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫২ বার পঠিত
নূরুজ্জামান, পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের ওপর হামলা, হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ।
২৭ জানুয়ারি সকাল ১১টায় পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম মণির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর তেড়ে আসে এবং নারীদের উদ্দেশে অশ্লীল ও অপমানজনক ভাষায় গালাগালি করে।
অভিযোগ করে  আরও বলা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গেলে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা আচমকাই হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় নারীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়, ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয় এবং প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়। এতে কয়েকজন নারী কর্মী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভার মহিলা জামায়াতের কর্মী আমেনা বেগম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ যখন ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে, তখন একইভাবে স্বৈরাচারী নিপীড়নের শিকার হওয়া বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর নোংরা, সন্ত্রাসী ও অগণতান্ত্রিক আচরণ প্রমাণ করে—তারা এখনো সহনশীল রাজনীতির যোগ্য হয়ে ওঠেনি।
নাচনাপাড়া ইউনিয়নের মহিলা বিভাগের কর্মী শারমিন জাহান আরও বলেন, “নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা পদদলিত করে কোনো রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের কথা বলতে পারে না। নির্বাচনী মাঠে এ ধরনের আচরণ প্রমাণ করে, বিএনপির একটি অংশ এখনো পেশিশক্তি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতিতেই বিশ্বাস করে।”
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এবং ভবিষ্যতে নারী কর্মীদের নিরাপদ প্রচারণা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়। এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ইসরাত জাহানের নিকট লিখিত অভিযোগ পত্র জমা দেয়।
উপজেলা মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারী ইরানী আক্তার  ‘ পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায় আমাদের পর্দানশীল মা-বোনেরা কী পরিমানের বাঁধা ও নোংরা ব্যাবহারের শিকার হচ্ছে তার কিছু ঘটনা তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। এবং উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
জানা যায় গত ২২ জানুয়ারী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে এবং হ্যা ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে গেলে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মণির কর্মী নিজাম উদ্দিন পিতা আব্দুল কুদ্দুস, এর নেতৃত্বে ৪/৫ জন মিলে আমাদের বোনদের পথ আটকায় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং তারা তাদের ধর্ষনের হুমকি ভয়ভীতি দেখায়। এবং বলেন মায়েদের মাতৃত্বের সাথে সম্পর্কিত শরীরের অংশ কেটে তা দিয়ে ফুটবল খেলবে বলে হুমকি দেয় এবং একই দিনে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড়ের বরইতলা এলাকায় মহিলাদের উঠান বৈঠকে গিয়ে মুতাহার শরীফের ছেলে  বিএনপি কর্মী সালাম শরীফ লাঠি ছোটা নিয়ে চড়াও হয় এবং নোংরা নোংরা ইঙ্গিত পূর্ণ হুমকি ভয়ভীতি দেখায়।
এছাড়া গত ২৬ তারিখ নাচনাপাড়ায় মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ দাঁড়িপাল্লার প্রচার চালাতে গেলে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনির ভাতিজা ইব্রাহিম খলিল নয়ন ও আরিফুর রহমান , পিতা মতিউর রহমান। তারা দলবল নিয়ে মহিলা বিভাগের কর্মীদের বাঁধা দেয় ও বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করে। এবং তাদের নোংরা আচারন ভিডিও করতে গেলে  তাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোন গুলো ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
একই দিনে পৌরসভার জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা প্রচারে বের হলে ৭ নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মণির কর্মী রাহাত মুন্সি, পিতা মোঃ বাচ্চু মুন্সি, আনোয়ার হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ জব্বার মাষ্টার তার সাথে থাকা ৪-৫ জনে মহিলাদের বাঁধা প্রদান করে। এবং নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মংচেনলা প্রতিদিনের কাগজকে বলেন ঘটনা শোনার সাথে সাথে আমি পুলিশ পাঠিয়েছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দিয়েছি। তাই তারা লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এ ধরনের নারী নির্যাতন ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস বন্ধ না করা হয়, তাহলে এর দায় সম্পূর্ণভাবে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নিতে হবে।
এ ঘটনায় পাথরঘাটার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহলের মতে, নারীদের ওপর হামলা ও অশালীন আচরণ শুধু একটি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয় এটি পুরো নির্বাচনী পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় মহিলা কর্মীদের উপর বিএনপির বাঁধা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:০৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
নূরুজ্জামান, পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের ওপর হামলা, হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ।
২৭ জানুয়ারি সকাল ১১টায় পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম মণির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর তেড়ে আসে এবং নারীদের উদ্দেশে অশ্লীল ও অপমানজনক ভাষায় গালাগালি করে।
অভিযোগ করে  আরও বলা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গেলে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা আচমকাই হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় নারীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়, ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয় এবং প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়। এতে কয়েকজন নারী কর্মী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভার মহিলা জামায়াতের কর্মী আমেনা বেগম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ যখন ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে, তখন একইভাবে স্বৈরাচারী নিপীড়নের শিকার হওয়া বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর নোংরা, সন্ত্রাসী ও অগণতান্ত্রিক আচরণ প্রমাণ করে—তারা এখনো সহনশীল রাজনীতির যোগ্য হয়ে ওঠেনি।
নাচনাপাড়া ইউনিয়নের মহিলা বিভাগের কর্মী শারমিন জাহান আরও বলেন, “নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা পদদলিত করে কোনো রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের কথা বলতে পারে না। নির্বাচনী মাঠে এ ধরনের আচরণ প্রমাণ করে, বিএনপির একটি অংশ এখনো পেশিশক্তি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতিতেই বিশ্বাস করে।”
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এবং ভবিষ্যতে নারী কর্মীদের নিরাপদ প্রচারণা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়। এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা ইসরাত জাহানের নিকট লিখিত অভিযোগ পত্র জমা দেয়।
উপজেলা মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারী ইরানী আক্তার  ‘ পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায় আমাদের পর্দানশীল মা-বোনেরা কী পরিমানের বাঁধা ও নোংরা ব্যাবহারের শিকার হচ্ছে তার কিছু ঘটনা তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। এবং উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
জানা যায় গত ২২ জানুয়ারী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে এবং হ্যা ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে গেলে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মণির কর্মী নিজাম উদ্দিন পিতা আব্দুল কুদ্দুস, এর নেতৃত্বে ৪/৫ জন মিলে আমাদের বোনদের পথ আটকায় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং তারা তাদের ধর্ষনের হুমকি ভয়ভীতি দেখায়। এবং বলেন মায়েদের মাতৃত্বের সাথে সম্পর্কিত শরীরের অংশ কেটে তা দিয়ে ফুটবল খেলবে বলে হুমকি দেয় এবং একই দিনে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড়ের বরইতলা এলাকায় মহিলাদের উঠান বৈঠকে গিয়ে মুতাহার শরীফের ছেলে  বিএনপি কর্মী সালাম শরীফ লাঠি ছোটা নিয়ে চড়াও হয় এবং নোংরা নোংরা ইঙ্গিত পূর্ণ হুমকি ভয়ভীতি দেখায়।
এছাড়া গত ২৬ তারিখ নাচনাপাড়ায় মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ দাঁড়িপাল্লার প্রচার চালাতে গেলে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনির ভাতিজা ইব্রাহিম খলিল নয়ন ও আরিফুর রহমান , পিতা মতিউর রহমান। তারা দলবল নিয়ে মহিলা বিভাগের কর্মীদের বাঁধা দেয় ও বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করে। এবং তাদের নোংরা আচারন ভিডিও করতে গেলে  তাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোন গুলো ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
একই দিনে পৌরসভার জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা প্রচারে বের হলে ৭ নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মণির কর্মী রাহাত মুন্সি, পিতা মোঃ বাচ্চু মুন্সি, আনোয়ার হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ জব্বার মাষ্টার তার সাথে থাকা ৪-৫ জনে মহিলাদের বাঁধা প্রদান করে। এবং নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মংচেনলা প্রতিদিনের কাগজকে বলেন ঘটনা শোনার সাথে সাথে আমি পুলিশ পাঠিয়েছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দিয়েছি। তাই তারা লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এ ধরনের নারী নির্যাতন ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস বন্ধ না করা হয়, তাহলে এর দায় সম্পূর্ণভাবে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নিতে হবে।
এ ঘটনায় পাথরঘাটার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহলের মতে, নারীদের ওপর হামলা ও অশালীন আচরণ শুধু একটি দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয় এটি পুরো নির্বাচনী পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত।