ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ক সংস্কার চলছে দ্রুত গতিতে

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান, জনপদে ফিরছে আশার আলো

এম.জে.এ মামুন
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৭২ বার পঠিত
এম.জে.এ মামুন: দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের সংস্কার কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, ভোগান্তি ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই উন্নয়ন কার্যক্রম এ অঞ্চলের মানুষের জন্য যেন এক নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। অবশেষে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভাঙাচোরা পিচ, বড় বড় গর্ত, ধুলা-বালির যন্ত্রণা এবং বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকায় প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হতেন সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো এই সড়ক দিয়ে। বছরের পর বছর ধরে বহু জনপ্রতিনিধি আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
অবশেষে এই অবহেলিত সড়কটির দিকে দৃষ্টি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরতে অভিনব ও প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর তিনি সড়কের ভাঙা গর্তে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন, যা মুহূর্তেই দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিবাদের মাত্র আট দিনের মাথায় সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হাসনাত আব্দুল্লাহর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও তদারকিতে প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে অবশেষে সড়কটির সংস্কার কাজ বাস্তব রূপ লাভ করে।
এই সড়কটি শুধু দেবিদ্বার ও চান্দিনার মধ্যে সংযোগ স্থাপনই করে না; এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে এ সড়কের উন্নয়ন এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে সংস্কার কাজ চলমান থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি, আশাবাদ ও দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত আনন্দ। মানুষের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে উন্নয়নের প্রত্যাশা, যেন বহুদিন পর সত্যিই তাদের কষ্টের অবসান ঘটতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট সকলের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি আবারও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ক সংস্কার চলছে দ্রুত গতিতে

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান, জনপদে ফিরছে আশার আলো

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
এম.জে.এ মামুন: দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের সংস্কার কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, ভোগান্তি ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই উন্নয়ন কার্যক্রম এ অঞ্চলের মানুষের জন্য যেন এক নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। অবশেষে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ভাঙাচোরা পিচ, বড় বড় গর্ত, ধুলা-বালির যন্ত্রণা এবং বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকায় প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হতেন সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো এই সড়ক দিয়ে। বছরের পর বছর ধরে বহু জনপ্রতিনিধি আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
অবশেষে এই অবহেলিত সড়কটির দিকে দৃষ্টি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরতে অভিনব ও প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর তিনি সড়কের ভাঙা গর্তে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন, যা মুহূর্তেই দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিবাদের মাত্র আট দিনের মাথায় সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হাসনাত আব্দুল্লাহর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও তদারকিতে প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে অবশেষে সড়কটির সংস্কার কাজ বাস্তব রূপ লাভ করে।
এই সড়কটি শুধু দেবিদ্বার ও চান্দিনার মধ্যে সংযোগ স্থাপনই করে না; এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে এ সড়কের উন্নয়ন এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে সংস্কার কাজ চলমান থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি, আশাবাদ ও দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত আনন্দ। মানুষের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে উন্নয়নের প্রত্যাশা, যেন বহুদিন পর সত্যিই তাদের কষ্টের অবসান ঘটতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট সকলের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি আবারও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে।