ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শনিবার, ০২ মে ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে খুলনা শহর তলিয়ে পানির নিচে!

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৫০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
- / ১৩৯ বার পঠিত

বর্ষা ঋতু শুরুর প্রথম সপ্তাহে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে খুলনা শহর তলিয়ে অথৈ সাগরে পরিণত হয়েছে। সেইসঙ্গে শহর জুড়ে চলছে জন চলাচলের রাস্তা খুঁড়ে ওয়াসা প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী কাজ। ফলে জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। নগরবাসীর অভিযোগ কর্তৃপক্ষের সঠিক পরিকল্পনা মাফিক শহর থেকে বৃষ্টির পানি ড্রেনের মাধ্যমে দ্রুত রূপসা ভৈরব ও আঠারোবেঁকি নদীতে পানি নেমে যাওয়ার জন্য তেমন কোনো বাস্তবিক পদক্ষেপ নেই।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান কার্যক্রম শেষ করতে না পারার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই খুলনা নগরীর সকল সড়ক পরিণত হয় মরণফাঁদে। সারা বছরজুড়ে যেমন তেমন বর্ষার মৌসুমে যদি সড়ক ও ওয়াসা প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রেখে নগরবাসীদের ভোগান্তির মধ্য রাখা হয় তাহলে তাদের স্বস্তির যায়গাটা কোথায়।
বৃষ্টি হলেই মুহূর্তের মধ্যে শহরের প্রধান সড়কসহ অলিগলি পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে রাস্তার নমুনা হারিয়ে যায়। ফলে বর্ষার মৌসুম জুড়ে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনার কারণে শারীরিক ও অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অসংখ্য পথচারী।
তারপর বৃষ্টি থামলে ধীর গতিতে বর্ষার পানি সরে গেলেও বিভিন্ন রাস্তা ও ড্রেন খোড়ার ময়লা আবর্জনা পঁচা কাঁদার উপদ্রবে উদয় হয় আরো এক দুর্বিষহ যন্ত্রণা।
ভাঙাচুরা রাস্তার কারণে না পাওয়া যায় ঠিক মতন যানবাহন না চলা যায় পায়ে হেঁটে।
এক্ষেত্রে ঠিকাদারদের এসকল কাজের জন্য উপযুক্ত সময় যেন বর্ষার মৌসুম, এবং বছরের শুকনো মৌসুম গুলো তাদের কাজের ক্ষেত্রে যেন অযোগ্য সময়। আর তাদের কাজের সুবিধার জন্য নগরীতে বসবাসরত মানুষ বাচুক মরুক সে ব্যাপারে মাথা ব্যথা যেন কারোরই নাই। অথচ খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রতিটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজের জন্য সঠিক সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও থুরায় কেয়ার করে না কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা।
এসব কথা বলেন খুলনা সোনালী ব্যাংকে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা তিনি আরো বলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনও চলমান কাজের নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানদের বিরুদ্ধে ৩১ টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগের কোন অন্ত নাই।
কারণ দেখতেই তো পারছেন সামান্য বৃষ্টিতে শহর তলিয়ে পানির নিচে সাধারণ জনগণ চরম দুর্ভোগে।
গত দুদিন যাবৎ ভারী ও মুষলধারায় বৃষ্টি হওয়াতে খুলনা নগরীর অলিগলি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে জন জীবন পড়েছে বিপর্যয়ের মধ্য। তারপর আজকে আবার খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস থেকে খুলনা দক্ষিণাঞ্চল মোংলা নদী উপকূল সমুদ্র বন্দর এলাকায় ভারী মেঘাবৃত হয়ে বৃষ্টি ঝরাবে আরো এক সপ্তাহ, তার পূর্বাভাস দিয়েছেন স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্তাগণ। এবছরের অন্য সময় গুলো যেমন তেমন গেল দুই দিনের মুষলধারা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে খুলনার অধিকাংশ অঞ্চল।
এতে অফিস গামী সকল মানুষদের অফিসে পৌঁছাতে পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে। এসব ভুক্তভোগী মানুষেরা বলছে সামান্য বৃষ্টি হলে খুলনার দোলখোলা, রয়্যাল মোড়, শিববাড়ি, সাত রাস্তার মোড়, ময়লাপোতা, সাহেবের কবর খানা, শান্তি দাম মোড়, প্রেসক্লাবের সামনে সহ নগরীর অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে ভোগান্তিতে ভুক্তভোগী জনগণের। অপরদিকে সাধারণ মানুষের কথা নগর উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন সহ অন্যান্য সেক্টরে যথেষ্ট পরিমাণে ফান্ড থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সারা বছর সম্ভুগ গতিতে সড়ক ও ড্রেন মেরামতের কাজ চালায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো।
নগরীর এমন কোন সড়ক নেই যেখানে খানাখন্দ খুঁড়ে কাজ করার দরুন চলাচলের ভিন্ন ঘটছে না। তবে এ সকল অভিযোগের দায়ভার কোনো কর্তৃপক্ষ নিজেদের কাঁধে নিতে একেবারেই নারাজ।
এদিকে জনগণ আবারো কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত করে স্পষ্ট ভাষায় বলছে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণে যে যার খেয়াল খুশি মতন কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছে এতে জনজীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ুক আর না পড়ুক তাতে তাদের কিছু যায় আসে না তবে দেশে আবার যদি নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয় তখন তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বড় বড় কথা উল্লেখ করবে কিন্তু নির্বাচন শেষে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবেনা।
আর তখন ক্ষমতার জোরে চলমান কাজ চলে যাবে নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে। আর এদের বৈষম্য নীতির কারণে সারা বছরই অসহনীয় যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় আমাদের।
আরও পড়ুন:




















