ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ধর্ষণের মামলা ধামাচাপা দিতে নবীনগরে প্রধান আসামীর মানববন্ধন

মো. আবু হাসান (আপন),নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:১৯:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৯১ বার পঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এক বিধবা নারীর ধর্ষণের মামলা ধামাচাপা দিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল)  সকালে এলাকাবাসীর ব্যানারে প্রধান আসামী মুসার উপস্থিতে এই মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন এর পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ এপ্রিল রাতে নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা নয়া পাড়ায় বাড়িতে একা থাকার সুযোগে মুসা মিয়া, কামাল মিয়া ও হৃদয় মিয়া নামক তিন যুবক ওই বিধবা নারীকে গণধর্ষণ করে। নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

পরে, আহত অবস্থায় ওই নারীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ এপ্রিল তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত নবীনগর থানাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়।

মামলা দায়েরের পর থেকে ভুক্তভোগী নারীকে নানা রকম হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, “আমাকে এবং আমার ছেলেকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে আবু কাউছার আহামেদ। আমরা এখন জীবন বাঁচাতে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি!”

এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী আবু কাউছার আহামেদ এর বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা আবু কাউছার তাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন এবং তাকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আবু কাউছার আহামেদ বলেন,“আমি কাউকে কোনো হুমকি দিইনি। উভয় পক্ষ আমার কাছে বিচার চেয়েছে। আমি বিচারক নই, তবে যদি তারা আমার বিচার মানতে চায়, আমি বিচার করে দিতে পারি। না চাইলে করব না।

১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকালে দৈনিক সকালের সময়সহ বিভিন্ন পত্রিকায় ধর্ষণের সংবাদ টি প্রকাশ হলে, বুধবার সকালে অভিযুক্ত মুসা মিয়ার পরিবারের উদ্যোগে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ‘মানববন্ধন’ করা হয়। যেখানে ভুক্তভোগী নারীর বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দেওয়া হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক উলঙ্গ পুরুষ ভুক্তভোগীর ঘরে ঢুকছেন এবং এক নারী অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে সেই দৃশ্য ধারণ করছেন।

তবে ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার নারী পূর্ণাঙ্গ পোশাক পরিহিত অবস্থায় আতঙ্কিত মুখে সবার কাছে আকুতি জানাচ্ছেন“আমাকে বাঁচান।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, মানববন্ধন এর বিষয়ে আমি অবগত নয়, আপনার মাধ্যমে আমি অবগত হয়েছি। বিষয় টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

ধর্ষণের মামলা ধামাচাপা দিতে নবীনগরে প্রধান আসামীর মানববন্ধন

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:১৯:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এক বিধবা নারীর ধর্ষণের মামলা ধামাচাপা দিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল)  সকালে এলাকাবাসীর ব্যানারে প্রধান আসামী মুসার উপস্থিতে এই মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন এর পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ এপ্রিল রাতে নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের বাঙ্গরা নয়া পাড়ায় বাড়িতে একা থাকার সুযোগে মুসা মিয়া, কামাল মিয়া ও হৃদয় মিয়া নামক তিন যুবক ওই বিধবা নারীকে গণধর্ষণ করে। নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

পরে, আহত অবস্থায় ওই নারীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ এপ্রিল তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত নবীনগর থানাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়।

মামলা দায়েরের পর থেকে ভুক্তভোগী নারীকে নানা রকম হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, “আমাকে এবং আমার ছেলেকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে আবু কাউছার আহামেদ। আমরা এখন জীবন বাঁচাতে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি!”

এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী আবু কাউছার আহামেদ এর বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা আবু কাউছার তাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন এবং তাকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আবু কাউছার আহামেদ বলেন,“আমি কাউকে কোনো হুমকি দিইনি। উভয় পক্ষ আমার কাছে বিচার চেয়েছে। আমি বিচারক নই, তবে যদি তারা আমার বিচার মানতে চায়, আমি বিচার করে দিতে পারি। না চাইলে করব না।

১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকালে দৈনিক সকালের সময়সহ বিভিন্ন পত্রিকায় ধর্ষণের সংবাদ টি প্রকাশ হলে, বুধবার সকালে অভিযুক্ত মুসা মিয়ার পরিবারের উদ্যোগে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ‘মানববন্ধন’ করা হয়। যেখানে ভুক্তভোগী নারীর বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দেওয়া হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক উলঙ্গ পুরুষ ভুক্তভোগীর ঘরে ঢুকছেন এবং এক নারী অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে সেই দৃশ্য ধারণ করছেন।

তবে ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার নারী পূর্ণাঙ্গ পোশাক পরিহিত অবস্থায় আতঙ্কিত মুখে সবার কাছে আকুতি জানাচ্ছেন“আমাকে বাঁচান।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক বলেন, মানববন্ধন এর বিষয়ে আমি অবগত নয়, আপনার মাধ্যমে আমি অবগত হয়েছি। বিষয় টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।