নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে গুলিবর্ষণ, আহত ১০ জন

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ১১:৫৪:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৫৭ বার পঠিত

আবু হাসান আপন, নবীনগর(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ছররা গুলির ঘটনায় অন্তত ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হলে দুজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকদিন ধরে চরলাপাং সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ৮-১০টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, নাছিরাবাদ বালু মহলের সীমানা অতিক্রম করে চরলাপাং মৌজায় নদীর তীরঘেঁষে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বালু তোলা হচ্ছিল।
স্থানীয়রা একাধিকবার বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করা হয় বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। রবিবার সকালে শতাধিক গ্রামবাসী ড্রেজারের কাছে গিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, ইজারাদারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ১০-১২ জন অস্ত্রধারীকে ডেকে এনে গ্রামবাসীর ওপর ছররা গুলি ছোড়ে। এতে প্রায় ৭/৮ জন গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন—চরলাপাং গ্রামের মো. নুরুল মিয়া (৪০), জুলহাস মিয়া (৫০), সাকাল মিয়া (৪০), সামত মিয়া (৪০), ইব্রাহিম (৩০), জসু মিয়া (৪০), শরিফ (৩৮), রুপ মিয়া (৫০), সিয়াম (১৬)সহ আরও কয়েকজন। নুরুল মিয়ার পায়ে এবং সাকাল মিয়া ও জসু মিয়ার পিঠে ছররা গুলির আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
আহতদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিব রহমান জানান, দুপুর ১২টার দিকে ৮ জন ছররা গুলিবিদ্ধ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের অভিযোগ, ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী ও গুলি চালানো ব্যক্তিরা ইজারাদার সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের লোক। তার নির্দেশেই গুলি চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক দুই গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযুক্ত ইজারাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, “নবীনগরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ বালু মহল বন্ধ করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান জানান, বালু মহল সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে জেলা পর্যায়ের সভায় আলোচনা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


















