
নীলফামারী প্রতিনিধি: অটোচালকদের চেতনানাশক খাইয়ে যানবাহন ছিনতাইয়ের অভিযোগে নীলফামারীতে আন্তঃজেলা চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া চারটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান ও একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর এলাকার মফিজুল ইসলাম ওরফে হাজী, উত্তর পঞ্চপুকুর মাঝাপাড়া এলাকার রবি ইসলাম (২৫) এবং দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ছাতিয়ানগোড় এলাকার রফিকুল ইসলাম (৪৫)। পুলিশের ভাষ্য, রফিকুলের বিরুদ্ধে চোরাই মালামাল কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপারেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর সকালে জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ হাটের অটোভ্যানচালক নুর ইসলামের ভ্যানটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখার কথা বলে ভাড়া করেন সাকিব ইসলাম ও মফিজুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি। ওই দিন রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ী বাজারের তয়েজ বাস কাউন্টারের সামনে চালককে চায়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাওয়ানোর পর ভ্যানটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন সাকিব ইসলামকে আটক করেন।
ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খাঁনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২১ অক্টোবর জেলা সদরের পঞ্চপুকুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মফিজুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি চোরাই ভ্যান উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানিয়াল পুকুর এলাকার ওয়াহেদ ইসলামের বাড়ির আঙিনা থেকে পলিথিনে ঢাকা অবস্থায় আরও একটি চোরাই ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
এরপর জলঢাকার কিশামত বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবি ইসলামকে আটক করা হয়। এ সময় একটি চোরাই ইজিবাইক উদ্ধার করে পুলিশ। সর্বশেষ ২২ অক্টোবর বিকেলে দিনাজপুরের খানসামা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলামের দোকান থেকে আরও একটি চোরাই ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় নীলফামারী থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, চক্রটির সদস্যরা অটোচালকদের চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তাঁদের যানবাহন ছিনতাই করতেন। ইজিবাইক ও ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চুরি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 











