ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
গ্রামীণ আবহ আর কারুপণ্যের সম্ভার নিয়ে চলছে বৈশাখী মেলা
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন
বরেণ্য গীতিকবি,সুরকার,লেখক ও সংগীত গুরু ইউনুস আলী মোল্লার
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে মাদারীপুরে ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ
গণধর্ষেণের শিকার ৬-বছরের শিশু ও ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী: গ্রেফতার-১
জাল টাকার কারখানায় অভিযান, আটক-১
জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ
নীলফামারীতে মাদক মামলায় নাউতারা যুবদল নেতার সাজা

মফিজুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, নীলফামারী
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
- / ৪৭ বার পঠিত

মফিজুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি, নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নাউতারা মালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ জামিনুর রহমান জীবন ওরফে বোনো (৩১) মাদক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত তাকে এক বছর এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে নীলফামারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৪র্থ আদালতের বিচারক জনাব ফয়সাল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৫ মে নীলফামারী জেলা শহরের থানা রোড এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)মাদকসহ মোঃ জামিনুর রহমান জীবন ওরফে বোনোকে আটক করে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং–১৫৮/২০১৯)।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা প্রদান করেন।আদালতের নির্দেশনা রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে এবং আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতারের তারিখ থেকে সাজা কার্যকর হবে। মামলায় জব্দকৃত আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইয়াবাসহ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ধ্বংস কমিটির তত্ত্বাবধানে ধ্বংস করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
অপর দুই আসামির খালাস, এ মামলার অপর দুই আসামি—মোঃ আনোয়ার হোসেন (২৮), পিতা—মৃত আবিদ আলী, সাং নিউ বাবুপাড়া এবং মোঃ আনিছুর রহমান (৪২), পিতা—মৃত মহুবুল ওরফে মকবুল হক, সাং নাউতারা হাজীপাড়া (ভাটিয়াপাড়া),রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাদের খালাস প্রদান করেন।
রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে বিতর্ক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত জামিনুর রহমান নাউতারা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আদালতের রায় ঘোষণার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাউতারা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা বলেন, “মাদক ব্যবসার মাধ্যমে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এমন একজন ব্যক্তি যদি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হন, তবে তা সমাজের জন্য ভয়ংকর বার্তা বহন করে।”
তাদের অভিযোগ, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী কীভাবে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকতে পারেন, তা বোধগম্য নয়। তারা মনে করেন, রাজনীতির সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততা অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি,এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়েছে, মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক দলের পদ-পদবিতে রাখা যাবে না। তারা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসায়ীরা দলীয় পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।একজন সচেতন নাগরিক বলেন, “আমরা চাই রাজনীতি হোক সৎ ও জনকল্যাণমূলক। মাদক ব্যবসায়ীরা যদি দলীয় পদে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে রাজনীতির মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”দলীয় নেতাদের নীরবতা এ বিষয়ে যুবদল বা দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক শুদ্ধতা রক্ষায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দ্রুত দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া জরুরী।



















