
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ২ নম্বর বালাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কোড়ানীপাড়া এলাকায় এক মুসলিম নারীর সঙ্গে কথিত অবৈধ মেলামেশার অভিযোগে সুবাশ রায় নামে এক যুবককে স্থানীয় এলাকাবাসী আটক করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোড়ানীপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী এক নারীর সঙ্গে সুবাশ রায় নামে এক যুবকের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মেলামেশার সময় স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে ওই যুবককে আটক করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিমলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাগর মহন্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে সুবাশ রায়কে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ডিমলা থানায় আসে। পরে ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত নেতাকর্মী গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থলে প্রবেশ না করতে কঠোরভাবে বাধা দেন এবং ভেতরে প্রবেশ করে কোনো ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না বলে জানান—এমন অভিযোগ করেছেন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা।
তবে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আগামীকাল তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তদন্তে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন তারা।

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি 













