ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রতিমা সাজে ব্যস্ত দেবিদ্বারের ১০৩ মণ্ডপ

পূজায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি

এম.জে এ মামুন
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:০৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৫৩ বার পঠিত
কুমিল্লার দেবিদ্বারে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ। কাঠামো তৈরির কাজ শেষ করে এখন রং-তুলি আর অলঙ্করণে প্রাণ দেওয়ার কাজ করছেন কারিগররা। প্রতিমার চোখ আঁকার সূক্ষ্ম শিল্পকর্মে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার অপরূপ রূপ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। দেবী দুর্গা এ বছর গজে চড়ে মর্ত্যলোকে আসবেন শান্তির বার্তা নিয়ে। পাঁচদিনব্যাপী পূজা শেষ হবে ২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। উৎসবকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, আলো, সাউন্ড সিস্টেমসহ নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পূজা ভক্তদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক বিমল দত্ত জানান, এ বছর উপজেলায় মণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩টি। শুক্রবার বিকেল থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, কারিগররা প্রতিমা রঙের আচড়ে সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ কাজে স্থানীয় কারিগরদের পাশাপাশি অন্য জেলা থেকেও কারিগর আনা হয়েছে।
চাপানগর শাহ পড়ার বড় বাড়ির বজন চন্দ্র সাহা বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজায় ছোট ছেলে-মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি আনন্দ করে। মেয়েরা আবার শ্বশুরবাড়ির চেয়ে বাবার বাড়িতে এসে পূজা উদযাপন করতে বেশি পছন্দ করে।”
গুনাইঘর গ্রামের নিখিল চন্দ্র ধর জানান, এবারের মণ্ডপটি মুন্সিগঞ্জের কারিগর যতিন্দ্র বাবুকে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে তাঁর মতে, রেডিমেড মণ্ডপ আনলে খরচ কম হলেও সৌন্দর্যও কমে যায়।
ছেপাড়া গ্রামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব বলেন, “পূজার ছুটিতে স্বাধীনভাবে ঘুরাঘুরি করা সবচেয়ে আনন্দের।”
উপজেলার সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের মন্টু সাহা জানান, পূজায় পুরুষেরা সাধারণত ধুতি পরতে পছন্দ করেন। অন্যদিকে শীল বাড়ির অনিমা রানী দেব বলেন, তিনি পূজাতে নাচ দেখতে ও অংশ নিতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মিটিং করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।”
নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, “দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে এবং প্রশাসনের টিম গঠন করে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।”
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

প্রতিমা সাজে ব্যস্ত দেবিদ্বারের ১০৩ মণ্ডপ

পূজায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:০৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কুমিল্লার দেবিদ্বারে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ। কাঠামো তৈরির কাজ শেষ করে এখন রং-তুলি আর অলঙ্করণে প্রাণ দেওয়ার কাজ করছেন কারিগররা। প্রতিমার চোখ আঁকার সূক্ষ্ম শিল্পকর্মে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার অপরূপ রূপ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। দেবী দুর্গা এ বছর গজে চড়ে মর্ত্যলোকে আসবেন শান্তির বার্তা নিয়ে। পাঁচদিনব্যাপী পূজা শেষ হবে ২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। উৎসবকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, আলো, সাউন্ড সিস্টেমসহ নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পূজা ভক্তদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক বিমল দত্ত জানান, এ বছর উপজেলায় মণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩টি। শুক্রবার বিকেল থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, কারিগররা প্রতিমা রঙের আচড়ে সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ কাজে স্থানীয় কারিগরদের পাশাপাশি অন্য জেলা থেকেও কারিগর আনা হয়েছে।
চাপানগর শাহ পড়ার বড় বাড়ির বজন চন্দ্র সাহা বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজায় ছোট ছেলে-মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি আনন্দ করে। মেয়েরা আবার শ্বশুরবাড়ির চেয়ে বাবার বাড়িতে এসে পূজা উদযাপন করতে বেশি পছন্দ করে।”
গুনাইঘর গ্রামের নিখিল চন্দ্র ধর জানান, এবারের মণ্ডপটি মুন্সিগঞ্জের কারিগর যতিন্দ্র বাবুকে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে তাঁর মতে, রেডিমেড মণ্ডপ আনলে খরচ কম হলেও সৌন্দর্যও কমে যায়।
ছেপাড়া গ্রামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব বলেন, “পূজার ছুটিতে স্বাধীনভাবে ঘুরাঘুরি করা সবচেয়ে আনন্দের।”
উপজেলার সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের মন্টু সাহা জানান, পূজায় পুরুষেরা সাধারণত ধুতি পরতে পছন্দ করেন। অন্যদিকে শীল বাড়ির অনিমা রানী দেব বলেন, তিনি পূজাতে নাচ দেখতে ও অংশ নিতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মিটিং করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।”
নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, “দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে এবং প্রশাসনের টিম গঠন করে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।”