ঢাকা, বাংলাদেশ। , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রভাবশালীদের দখলে বিলুপ্তির পথে খুলনা ময়ূর নদী! 

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫
  • / ৬৬ বার পঠিত
প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলের প্রভাবে বিলুপ্তির পথে খুলনা ময়ূর নদী  নগরীর কোল ঘেঁষে বয়ে চলা  ঐতিহ্যবাহী ময়ূর নদী এখন নগরীর অসংখ্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে। পাশাপাশি পঁচা ভাগাড়ে পরিণত ময়লা আবর্জনা কালো রঙের দূষিত পানি আর পোকামাকড়  সাপ এডিস মশা বংশবিস্তারের অভয়ারণ্য  নদীটি।
উল্লেখ করে বলা যেতে পারে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের দুঃশাসনে  নগরীর  কতিপয় বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতারা ময়ূর নদীর পাড় দখল করে আবাসন প্রকল্প ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কারণে নদীটি সংকীর্ণ হয়ে পানি প্রবাহ স্তম্ভিত হয়ে পড়ে কিন্তু সেই সকল প্রভাবশালী নেতারা পালিয়ে এদিক-ওদিক আত্মগোপনে থাকলেও দখলদারির নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটেছে ক্ষমতার দাপটে গিলে খাচ্ছে নদীটির দুই পাড় সংকীর্ণ হচ্ছে নদী বিলুপ্ত হতে বসেছে চিহ্ন। অপরদিকে রূপসা নদী সংলগ্ন  পুটিমারির দশ গেট সংযোগ মুখ থাকায় সুবিধা হতো শহরে অধিক  বৃষ্টির পানি জমে  জলবদ্ধতা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগের মতো অসুবিধা নিরাশনর ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের জন্য ময়ূর নদীটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ।
বৃষ্টি হলে একদিকে যেমন নগরীর বড় বড় ড্রেনগুলির মাধ্যমে রুপসা নদীতে গিয়ে পানি নিপতিত হয় তেমনি ময়ূর নদীও শহরবাসীর প্রয়োজনে  অপরিহার্য। আর সেই নদীটি এখন কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইশারায় দশ গেটের মুখ বন্ধ রেখে কৌশলগতভাবে বড় নদীর জোয়ার ভাটার সাথে পানির গমন নির্গমনের ব্যবস্থা বাধা সৃষ্টি করে এবং গল্লামারি কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা ময়লা আবর্জনা ফেলে নদীটি ভাগাড়ে পরিণত করেছে ফলে নদীর পাড়ে দাঁড়ালে পচা  দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় নদীটির আশেপাশের বসবাসরত  এলাকাবাসীর।
অথচ খুলনা নগর ভবন থেকে কয়েক দফা বাজেট পাস করে ময়ূর নদীখনন পয়নিষ্কাশন পানি পরিষ্কার ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করার পরিকল্পনা করলেও আজ পর্যন্ত হয়নি তার সুষ্ঠু সমাধান। মাঝেমধ্যে ঘটা করে নগর ভবনের আগ্রাসন ভোগ দখলদার নামে মাত্র লোক দেখাতে  নিজের পোষ্য  জনবল ও  প্রশাসনসহ ময়ূর নদীটির পাড় ঘুরে প্রভাবশালী দখলদারদের উদ্দেশ্যে হুমকি ধামকি এবং উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিলেও তারই ইশারায় আবার কিছুদিন বাদে  আবারো গড়ে উঠেছে  সেই অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা। ফলে ক্রমান্বয়ে দিন দিন ময়ূর নদীটির শ্রী বৃদ্ধি নষ্ট হয়ে এবং  বিলুপ্তি হয়ে যাওয়ার হুমকির মুখে। অথচ নগর ভবনের ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নদীটির প্রসার ও রুপসা নদীর জোয়ার ভাটার সাথে সংযোগ চলমান রাখার ব্যবস্থার উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ করলেও স্থায়িত্ব হয় না সে কাজের ভবিষ্যৎ। তবে বাংলাদেশ সরকারের নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা অব্যাহত রেখে কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এবং প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে প্রভাবশালীদের হাত থেকে নদীটির রক্ষা না করলে অচিরেই বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

প্রভাবশালীদের দখলে বিলুপ্তির পথে খুলনা ময়ূর নদী! 

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫
প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলের প্রভাবে বিলুপ্তির পথে খুলনা ময়ূর নদী  নগরীর কোল ঘেঁষে বয়ে চলা  ঐতিহ্যবাহী ময়ূর নদী এখন নগরীর অসংখ্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখলে। পাশাপাশি পঁচা ভাগাড়ে পরিণত ময়লা আবর্জনা কালো রঙের দূষিত পানি আর পোকামাকড়  সাপ এডিস মশা বংশবিস্তারের অভয়ারণ্য  নদীটি।
উল্লেখ করে বলা যেতে পারে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের দুঃশাসনে  নগরীর  কতিপয় বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতারা ময়ূর নদীর পাড় দখল করে আবাসন প্রকল্প ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কারণে নদীটি সংকীর্ণ হয়ে পানি প্রবাহ স্তম্ভিত হয়ে পড়ে কিন্তু সেই সকল প্রভাবশালী নেতারা পালিয়ে এদিক-ওদিক আত্মগোপনে থাকলেও দখলদারির নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটেছে ক্ষমতার দাপটে গিলে খাচ্ছে নদীটির দুই পাড় সংকীর্ণ হচ্ছে নদী বিলুপ্ত হতে বসেছে চিহ্ন। অপরদিকে রূপসা নদী সংলগ্ন  পুটিমারির দশ গেট সংযোগ মুখ থাকায় সুবিধা হতো শহরে অধিক  বৃষ্টির পানি জমে  জলবদ্ধতা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগের মতো অসুবিধা নিরাশনর ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের জন্য ময়ূর নদীটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ।
বৃষ্টি হলে একদিকে যেমন নগরীর বড় বড় ড্রেনগুলির মাধ্যমে রুপসা নদীতে গিয়ে পানি নিপতিত হয় তেমনি ময়ূর নদীও শহরবাসীর প্রয়োজনে  অপরিহার্য। আর সেই নদীটি এখন কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইশারায় দশ গেটের মুখ বন্ধ রেখে কৌশলগতভাবে বড় নদীর জোয়ার ভাটার সাথে পানির গমন নির্গমনের ব্যবস্থা বাধা সৃষ্টি করে এবং গল্লামারি কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা ময়লা আবর্জনা ফেলে নদীটি ভাগাড়ে পরিণত করেছে ফলে নদীর পাড়ে দাঁড়ালে পচা  দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় নদীটির আশেপাশের বসবাসরত  এলাকাবাসীর।
অথচ খুলনা নগর ভবন থেকে কয়েক দফা বাজেট পাস করে ময়ূর নদীখনন পয়নিষ্কাশন পানি পরিষ্কার ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করার পরিকল্পনা করলেও আজ পর্যন্ত হয়নি তার সুষ্ঠু সমাধান। মাঝেমধ্যে ঘটা করে নগর ভবনের আগ্রাসন ভোগ দখলদার নামে মাত্র লোক দেখাতে  নিজের পোষ্য  জনবল ও  প্রশাসনসহ ময়ূর নদীটির পাড় ঘুরে প্রভাবশালী দখলদারদের উদ্দেশ্যে হুমকি ধামকি এবং উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিলেও তারই ইশারায় আবার কিছুদিন বাদে  আবারো গড়ে উঠেছে  সেই অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা। ফলে ক্রমান্বয়ে দিন দিন ময়ূর নদীটির শ্রী বৃদ্ধি নষ্ট হয়ে এবং  বিলুপ্তি হয়ে যাওয়ার হুমকির মুখে। অথচ নগর ভবনের ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নদীটির প্রসার ও রুপসা নদীর জোয়ার ভাটার সাথে সংযোগ চলমান রাখার ব্যবস্থার উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ করলেও স্থায়িত্ব হয় না সে কাজের ভবিষ্যৎ। তবে বাংলাদেশ সরকারের নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা অব্যাহত রেখে কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এবং প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে প্রভাবশালীদের হাত থেকে নদীটির রক্ষা না করলে অচিরেই বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।